ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

পাকিস্তানের অখন্ডতা নিয়ে যারা যুদ্ধপুর্ব্ববর্তী সময়ে নিজের যুক্তিতে অনড় ছিলেন তাদেরকে রাজাকার বলার পক্ষপাতি আমি নই, একটি বৃহৎ মুসলিম দেশ তাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সব সময় এক ও অভিন্ন মত পোষন করবেন কারো পক্ষে এমনটা আশা করা কিন্তু অবাস্তব নয় । দীর্ঘদিন নানা রকম বৈষম্য ও উদার রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনার অভাবে সৃষ্ট রাজনৈতিক জটিলতার কারনে ১৯৭১ সালে ছিন্ন হয় একটি মুসলিম রাষ্ট্রের দুই ভিন্ন ভাষাভাষির অঞ্চল পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম বাংলা ,এবং এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম হলো স্বাধীন বাংলাদেশের । একটি বঞ্ছনা আর নিপীড়নের বিশদ বর্ননা গনমানুষের হৃদয়কে দারুন ভাবে নাড়া দিয়েছিল যা ছিল বাস্তবতা , আর এই বাস্তবতার নিরিখে দেশপ্রেমিক সাধারন মানুষ সমর্থন কুড়িয়েছিল দেশ বিভক্তির চরম আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ বাস্তবায়ন । তবে এই বিভক্তির পেছনে অন্য কোন রাষ্ট্রের অপরাজনীতি কাজ করেছিল কিনা ? দুই অখন্ড মুসলিম দেশকে পুরোপুরি দ্বিখন্ডিত করে তাদের অখন্ড শক্তিকে দূর্বল করার কোন অশুভ চক্রান্ত কেউ করেছিল কিনা তার সন্দেহ মাথায় রেখে যদি কেউ দেশ বিভাগে সমর্থন না দেন সে জন্য তাকে দায়ী করা যায় না বলে আমার মনে হয় ।

তবে অবশ্য পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অন্যতম অবিসংবাদিত পুরোধা জাতির নির্মাতা শেখ মুজিবের যুগোপযোগি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তার নির্দেশে ও নেতৃ্ত্বে সেনা বাহিনীর চৌকস অফিসার জিয়াউর রহমানের মূক্তিযুদ্ধের স্বতস্ফুর্ত ঘোষনায় অনুপ্রাণিত বাঙ্গালী জাতীর সর্বস্তরের সর্বাত্মক অংশগ্রহনে যে যুদ্ধ সংগঠিত হয় তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবার কারো কোন আইনগত ও বাস্তবগত সুযোগ ছিল না , আর সেই ভূল যারা করেছিল তাদের ভুলের অন্য নাম ‘অপরাধ’ তা এখন প্রমানের অপেক্ষায় । এবং যুদ্ধকালীন সময়ে যারা পাক হানাদার বাহিনীকে মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে তারা যুদ্ধকালীন অপরাধী বলে ইতিমধ্যেই প্রমাণীত হয়েছে, যার নাম ‘যুদ্ধাপরাধ’ । সেই ‘যুদ্ধাপরাধ’ এর বিচার বিলম্বিত করার জন্য যারা দায়ী তারাও জন্ম দিচ্ছে নতুন হতে নতুনতর অপরাধের ।তাই ‘যুদ্ধাপরাধ’ এর বিচার দাবী এখন সার্বজনীন ।