ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

‘সরকার দল’ ও ‘বিরোধীদল’ কে তাদের নিজ নিজ মানসিকতা বদলাতে হবে । তাই ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ এর ধারনা মন থেকে মুছে ফেলে নির্বাচন কমিশনকে আরো শক্তিশালী করতে হবে । আমরা একবার যদি ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুমানোর অভ্যেস করি তাহলে ভবিষ্যতে আর ঘুমের বড়ি না খেলে আমাদের ঘুম আসবে না। আমি ঘুমের ট্যাবলেট রূপি ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ কে আর প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না । তারপরেও একটা আশংকা কিন্তু একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না , শর্ষের মধ্যে ভূত থাকলে যেমন ভূত তাড়ানো দায় হয় , তেমনি বেড়ায় যদি ক্ষেত খায় তবে ফসলের ফলন অনুমান করা কঠিন হয়ে পড়ে । আর সেই রকম সন্দেহ থাকাটা এই মুহুর্তে একদম অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন না বিরোধীদল , তাই সাধুবাদ জানাই রাষ্ট্রপতিকে আলোচনায় বসেছেন ‘নির্বাচন কমিশন’ এর এজেন্ডা নিয়ে । আরও ধন্যবাদ সংসদের বিরোধীদলকে ঐ আলোচনায় উপস্থিত থাকার জন্য, তবে আলোচনার এজেন্ডার মধ্যে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ এর ইস্যুটা থাকলে সমালোচনা এড়ানো সম্ভব হতো , এবং সরকার দলের মুখপাত্রও বলতে পারতেন না যে , বিরোধী দল এজেন্ডার বাইরে আলাপ করেছেন ,আর সেই মুখপাত্রের বক্তব্যে জনমনে ভুল ধারনা জন্মাতেও পারে যে বিরোধী দলের ভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল ঐ আলোচনায় হাজির থাকায় যা তার নেতিবাচক ধারনার সামিল বলে মনে করতে পারেন বিরোধী দল । আর এই রেষারেষি শেষ মেশ নির্বাচন কালীন সময়ে সরকারের নিরেপেক্ষতার উপর ভীষন চাপ ফেলতে পারে বলেই ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ পদ্ধতির ইস্যুকে একেবারে উড়িয়ে দিতে পারছেনা বিরোধীদল সহ সুধীজনেরা । অপর পক্ষে ‘ইভিএম’ ( ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন ) নিয়ে বর্তমানে যে ভয় কাজ করছে অনেকের মতে তাও কিন্তু কিছুটা সংগতিপূর্ণ , যা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে হুমকি স্বরুপ যা বিরোধী দলের ধারনা , কারন ‘ইভিএম’ সুচারু রূপে ও কম সময়ে তার গননা সম্পাদন করবে তা যেমন ঠিক এবং এও ঠিক যে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অদক্ষ ব্যবস্থাপনা বা মেইন্টেন্স সঙ্ক্রান্ত জটিলতার কারনে এসব মেশিন এখনই কিংবা অদূর ভবিষ্যতে অকার্যকর হয়ে যে ভুল গননার শিকারে পরিনত হবে না তার নিশ্চয়তার অভাবও রয়েছে যথেষ্ট ।

আমি এখানে সরকার দল ও বিরোধী দল বলতে আওয়ামিলীগ বা বিএনপি কে বুঝাইনি , কারন বরাবরই বিরোধীদল ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ এর পক্ষে আর সরকার দল বিপক্ষে অবস্থান নেয়ায় আমি নিশ্চিত হয়ে গেছি যে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ দাবী দূর্বলের, বা বিরোধী দলের , তা সে আওয়ামি লীগই হোক আর বিএনপিই হোক । অতএব ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ এর ইস্যুতে এটা বোঝা গেছে যে বিরোধী দলের দাবীর যৌক্তিকতা কতটা প্রখর , কারন সেবার বিরোধীদলে ছিলেন আওয়ামি লীগ আর এবার বিএনপি । তাই এখন কোন যুক্তি আর ধোপে টিকছেনা যে এই দাবী কারো একার । কিন্তু একথাও ঠিক যে একবার ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ পদ্ধতির কাটা খালে যে ‘ওয়ান ইলেভেন’ নামক কুমির এসেছিল আর যার পেটে ঢুকতে বসেছিল গোটা জাতির লালন করা গনতন্ত্র , অন্ততঃ সেই দিক বিবেচনা করে , নির্বাচন কমিশনকে আরও ঢেলে সাজাতে হবে ,আর তাদের হাতকে উপর্যুপরি নিরপেক্ষ ও আদর্শিকভাবে শক্তিশালী করলেই সবচে’ উত্তম হবে ।