ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

জীবনটাকে হাতের মুঠোয় রেখে প্রতিদিন আমরা চলাফেরা করি , ঢাকা শহরের মত ব্যস্ত শহরে ছোট বড় অনেক গাড়ি অপরিকল্পিত ভাবে ছোটাছুটি করছে বিভিন্ন রুটে ।এসব গাড়ি কখনো কখনো থামাচ্ছে রাস্তার মাঝখানে , নামতে গেলে বিপদ নিশ্চিত জেনেও মুরগীর বাচ্চার মত উড়াল দিয়ে প্রায়শঃই নামতে হচ্ছে বাস হতে । জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে আর কত দিন ? গাড়ির চালক ও সহযোগী (হেলপার) দুইজনই পুরো গাড়ির কম বেশি অর্ধশত যাত্রীকে জিম্মি করে যেখানে সেখানে নিজেদের ইচ্ছে মত গাড়িতে যাত্রী উঠাচ্ছে ও নামাচ্ছে , বিশেষ করে কাউন্টারের গাড়িতে গাড়ি ভর্তি থাকা সত্ত্বেও তাদের নিজস্ব নিয়মে যাত্রী উঠানো হচ্ছে ঠেলে ঠেলে , সব গুলো স্টপেজে গাড়ি থামাচ্ছে , এবং কাউন্টার ম্যানদের ইচ্ছেয় গাড়ি স্টপেজ ত্যাগ করছে , এসব রুটে প্রায়ই দেখা যায় যাত্রীর আনুপাতিক হারে বাসের সংখ্যা অত্যন্ত কম তাই দুই গাড়ির যাত্রী এক গাড়িতে গাদা গাদি করে পরিবহন করছে তাদের নিজস্ব নিয়মে । এসব পরিবহন কর্তৃপক্ষের যুক্তি যে, সকালে যাত্রীর সংখ্যা বেশি থাকায় একটু ভীড় হয় পক্ষান্তরে দপুরে যাত্রী কম থাকায় অনেক সিট খালী যায় অতএব বাস কোম্পানীর ব্যবসা মুনাফার বিষয়টিকে মাথায় রেখে একটু আধটু হয়রানি যাত্রীদেরক মেনে নিতেই হবে, আর এক্ষেত্রে সচেতন ও ভূক্তভোগী ‘যাত্রীসাধারণ’ তাদের ঐ খোঁড়া যুক্তি মেনে নিচ্ছেনা কারন প্রত্যেকে তারা তার গন্তব্যে পৌছানোর জন্য ভাড়া দেন এবং সর্বোচ্চ সেবা , নিরাপদ ও আরামদায়ক উপকরন সুবিধা প্রাপ্তি সপেক্ষে ন্যায্য ও গ্রহনযোগ্য ভাড়া দিতে সবাই রাজী আছেন , যেহেতু মানুষের জীবনের মূল্যের চেয়ে অন্য কোন কিছু আর বেশী দামী নয় ।আমি এ বিষয়ে এর আগেও অনেক বার লিখেছি , ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ এর লিখিত আমন্ত্রনে সেমিনার করেছি, ইতিপূর্বে শহীদ মিনারে অনশন করেছি , তাতে কি কারো টনক নড়েছে ? যাদের হাতে এগুলো নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা তারা কি আর বাসে ওঠেন ? যাদের এক পরিবারের জন্য দুই তিনটা প্রাইভেট গাড়ি, নিয়োজিত বেতনভুক্ত নিজস্ব চালকেরা ইচ্ছে মত ভেঁপু বাজিয়ে দিগ্বিদিক ছোটেন তাদের ফাই ফরমাশ যোগাতে , তাদের কাছে গনপরিবহনের কি তথ্য আছে আর কি বাস্তব অভিজ্ঞতা আছে যে এই সব সমস্যা নিয়ে আবার মাথা ঘামাবেন , তা আমার জানা নেই ।
বেপরোয়া গাড়ি চালানো , যেখানে সেখানে ওভার টেকিং , আর রাস্তার মাঝখানে যাত্রি ওঠানামা করা , এইসব কারনে দিন দিন বাড়ছে সড়ক দূর্ঘটনা আর মৃত্যুর ঝুঁকি , সেই সাথে সাধারন যাত্রীরা নিজেদের জীবন বিপন্ন করে দিয়ে প্রমান করছেন তাদের অসহায়ত্বের কথা ।

অনভিজ্ঞ ও অপ্রশিক্ষিত চালক , অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও অপেশাদার হেলপার , দুর্নীতিবাজ ও অযোগ্য কর্মকর্তা , ভাঙ্গাচোরা, সরু ও অপরিকল্পিত রাস্তা , এবং অসচেতন , বেকুব কিছু যাত্রীগনের কারনে প্রতিদিন বাড়ছে সড়ক দূর্ঘটনা । আর তা রোধ কল্পে এখন সময় এসেছে সাধারন যাত্রীদের নিয়ে একটি ‘সড়ক নিরপত্তা ফোরাম’ গঠন করা , যার অনেক খানি পুরণ করেছেন জনাব ইলিয়াস কাঞ্চন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নামের চলমান আন্দোলনের মাধ্যমে ।