ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

প্রতি বছর টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ব এস্তেমা । মুসলিম জাহানের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের একটা বিরাট জমায়েত হলো এই বিশ্ব এস্তেমা । সারা বিশ্ব হতে হাজার হাজার মুসলমান বাংলাদেশের টঙ্গীতে আসেন ইসলাম ধর্মের বয়ান শুনতে । প্রচার হয় এই ধর্মের অনুশাসন, রীতিনীতি, আর ব্যাখা-বিশ্লেষন । অস্থায়ী ভাবে প্রতি বছর তৈরী হয় আলোচনার ক্ষেত্র , শত শত খিত্তা , বিশুদ্ধ পানীয় ও পয়ঃব্যবস্থা , আর হাজারো দোকানের পসরা, ছোট ছোট দোকান , কোনটা খাবারের , কোনটা কম্বলের । জরুরী চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সহ বাড়ানো হয় পুলিশি নজরদারী , লক্ষ মানুষের মিলন মেলা এই এস্তেমা আমাদের দেশের ঐতিহ্য । বয়ান শেষে হয় আখেরী মোনাজাত , আখেরী মোনাজাতের দিন উপচে পড়ে জনতার ঢল । এত মানুষ আসতে শুরু করে যে , বাসে ট্রেনে আর তিল ধারনের ঠাঁই থাকেনা । গত বছর হতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে পর পর দু’বার অনুষ্ঠান করছেন এস্তেমার । বিশ্ব বরেণ্য সব আলেম ও ওলামাগন এখানে বিভিন্ন ভাষায় বয়ান দেন , আমি মুগ্ধ হই তাদের ত্যাগ ও ধর্মের প্রতি আনুগত্য দেখে । ইসলাম ধর্মের নানা রকম তরীকা , বাস্তব জীবনের মাজেজা , এবং ওয়াজ নছিয়তের মাধ্যমে পাপী বান্দারা জীবনের গুনাহ গাঁথা মাফ হয়ে যাবার জন্য আল্লার দরবারে কান্না কাটি করেন , আমি অবাক হয়ে ভাবি , মানুষের এতটা ত্যাগ তিতীক্ষা আর অশ্রু বিসর্জন তা শুধু আল্লাহর নৈকট্য পাবার জন্যই আর আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করবেন না তাতো হয় না । তারপর একটু মুষড়ে পড়ি নিজেদের ব্যর্থতার দায় সামলে নিতে , সে ব্যর্থতাটা হচ্ছে এরূপ যে এত বড় একটা প্রায় হজ্জ্বের মত ( জনসমাগমের দিক দিয়ে হলেও ) মুসল্লিদের জমায়েত , অশিতীপর বৃদ্ধ , অর্বাচীন কিশোর এবং টগবগে যুবক ছুটে এসেছে দেশের এ প্রান্ত আর ও প্রান্ত হতে ,বিশ্বের বিভিন্ন জনপদ হতে, ধর্মের কিছু অমোঘ বাণী শুনতে , দু’চোখ ঠেলে কাঁদতে আর আখেরী মোনাজাত করতে । অথচ সরকারী ভাবে এ’দিনে জোটেনি সরকারী ছুটি , চেয়েছিলাম সরকার ছুটি ঘোষনা করবেন , আর পর পর দুবার নয় একবারই হবে এই আখেরী মোনাজাত এবং টঙ্গী হতে সদরঘাট অবধি মানুষের ঢল হবে রাস্তায় রাস্তায় , চারিদিকে লম্বা লম্বা মিছিলের মত মানুষ । সারা দেশের সারা বিশ্বের মুসলমান একত্রিত হবে । কনভেন্সনাল ব্যাংক , উপড়ি-দুর্নীতির অফিস , লিংগ-পার্থক্য হীন শিক্ষা ব্যবস্থা , আর যাকাত সালাত হীন অহালাল ( হারাম ) ব্যবসায় পদ্ধতির বিরুদ্ধে ঘোষনা করবেন জিহাদ , এবং তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করবেন সয়ং সরকার । সম্ভাবনা ময় বাংলাদেশ , ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ মেলে ধরবে তার ঐতিহ্য , টঙ্গীর চারিধারে গড়ে উঠবে রঙ বেরঙ্গের হোটেল , মোটেল । সর্বত্র কানায় কানায় ভরে উঠবে কারুকার্যপূর্ণ হস্ত শিল্পের কুটির শিল্পের মৃৎ শিল্পের পণ্যের সমাহারে । দেশীয় প্রযুক্তির নানা রকম তৈজসপত্র , আসবাব , সোলার ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী , মোবাইল ফোন , ল্যাপটপ । বিক্রি হবে ধর্মীয় পোষাক ও সামগ্রী যেমন মেছওয়াক , তছবিহ , জায়নামাজ , টুপি , বোরকা , আতর আরও কত কি ? এ স্বপ্ন আমার মত অনেকের হৃদয়ের লালন করা স্বপ্ন , আজ দুঃস্বপ্ন । পর্যটনের আয় দিয়ে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ তাদের সিংহভাগ উপার্জনের সক্ষমতা প্রমান করেছে , আর সৌদি আরবের খেজুরের মত এখন মুখে মুখে রটে গেছে যে প্রতি বছর হজ্জে তারা কত টাকা বৈদেশিক মু্দ্রা অর্জন করে । তাই আমরা কেন অনুরুপ সুযোগ হাতছাড়া করবো আমাদের একটু সদিচ্ছা , দায়িত্ববোধ আর সরকারের এইটুকু সচেতনতার অভাবে ।