ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বিশ্বায়নের এই যুগে সারা বিশ্ব যখন ৫০০০ কোটি বছরের পুরোনো মহা বিশ্বের অস্তিত্ব নিয়ে গবেষণায় ব্যস্ত, বিলুপ্ত ডাইনসরের ফসিল নিয়ে আবিস্কার করছে প্রাগৈতিহাসিক যুগের তত্ত্ব, উদ্ধার করছে ১৯১২ সালের ‘নিরাপদ ক্যাপ্টেন’ নামে খ্যাত এবং ১৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তখনকার পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইংল্যান্ডের রাজকীয় কমান্ডার এডওয়ার্ড জন স্মিথের নেতৃত্বে পরিচালিত টাইটানিকের ডুবে যাওয়ার রহস্যময় কাহিনী , করছে ১০০ বছর পরের ব্যবহার উপযোগী রাস্তাঘাটের পরিকল্পনা আর ৫০০ বছর পরের জ্বালানী সঙ্কট পর্যালোচনা, জলবায়ু পরিস্থিতি উদবেগজনক বিধায় দফায় দফায় সম্মেলন করছেন কানকুন হতে ডারবানে, নাসায় রাত দিন গবেষনা হচ্ছে ‘স্পেস স্টেশন’ হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এলিয়েন আক্রমনের পালটা জবাব, কেউ হয়তো সারা বিশ্বের অরতে পরতে স্থানীয় রাজনীতিতে দাদাগিরি করে অন্যের চরকায় তেল দিতে তেলের জন্য যুদ্ধ করছে , সেই সাথে তেলআবিব হতে তেহরান , আফগানিস্তান হতে পাকিস্তান চষে বেড়াচ্ছেন সন্ত্রাসীর খোঁজে। সুদুর প্রাচ্যে বসে খবর নিচ্ছে আমাদের হাড়িতে আর কত টুকু আহার অবশিষ্ট রয়েছে , সেক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ’ নামের এই ছোট্ট দেশের স্বাধীনতার ৪২ বছর আর ভাষা আন্দোলনের ৬০ বছরে আমাদের কি প্রাপ্তি হয়েছে আর কি পাওনা ছিল তার হিসেব নিয়ে আমরা হিম সিম খাচ্ছি , ভাবতে অবাক লাগে । সারা বছরই কেন এই রাজনৈতিক আস্থিরতা?

সরকারের মেয়াদের প্রথম বছর হতেই বিরোধী দল তাকে চাপের মুখে রেখেছে , দ্বিতীয় বছরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবী , তৃতীয় বছর হতে না হতেই পদত্যাগের দাবী , পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়কের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবী , অতঃপর শেষ বেলায় কোন মতে টেনে হিঁচড়ে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করবার অভিপ্রায় যেন শুধুমাত্র মসনদের মোহ বার বারই তাদেরকে আকৃষ্ট করছে , তদুপরি কথায় কথায় সরকারের বিরোধীতা যেন হাটে হাড়ি ভাঙ্গার মত , সবাই জেনে গেছে যে , এ শুধু বিরোধীতার জন্যই বিরোধীতা । যেহেতু শুধুমাত্র জনগনের জন্যই রাজনীতি করছেন বিরোধীদল, তাই অপেক্ষা করতে পারতেন মেয়াদ পুর্তির জন্য , সংসদে গিয়ে সরকারের কাজের গঠন মূলক সমালোচনা করলে ভালো হতো , যদিও প্রচলিত আছে সংসদে ভালো আচরণ পান না বলে বিরোধীদল মনক্ষুন্ন হয়ে সংসদে যায়না , অবশ্য এর বিপক্ষে যুক্তি হলো ‘সশব্দ সাংবাদিকতা’ বা সংবাদ প্রবাহের স্বাধীনতার এই সন্ধিঃক্ষনে সরকারী দল এতটা সাহস দেখাবেন কি করে যে সংসদে বিরোধীদল হেনস্তা হবেন ? আর এই বা কি করে হয় যে কোন সরকারী দলের সাংসদ বিরোধী দলের কাউকে তুলোধুনা করবেন আর পালটা জবাব খুঁজে না পেয়ে বিরোধীদল গুষ্টি শুদ্ধ ওয়াক আউট করবেন । আর এই লজ্জায় দিনের পর দিন সংসদকে বয়কট করছেন বিরোধীদল , যার প্রতিক্রিয়ায় তারা প্রতিনিয়তই ফেটে পড়ছেন ময়দানে , কখনো ‘লংমার্চ’ কখনো ‘রোডমার্চ’ , কখনো ‘গনমিছিলে’ । তা যাক, তবু ধন্যবাদ বিরোধী দলকে যে, তারা অন্ততঃ হরতালের মত নেক্কার জনক আন্দোলনের নাগপাশ হতে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে ইতিমধ্যেই । এক্ষেত্রে আমি বেশী দায়ী করতে পারি সরকারকে যেমন প্রথমতঃ সংসদে সংসদীয় আচরণ নিশ্চিত করার দায়ীত্ব কিন্তু সরকারের , মত প্রকাশের স্বাধীনতা , এবং সংবিধানের গনতান্ত্রিক কাঠামো ও গনতন্ত্রের সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে অনুমোদিত বিরোধীদলের রাজনৈতিক ও সংসদীয় মর্যাদা রক্ষার দায়ীত্ব কিন্তু সরকারের উপরেই বর্তায় । আর দ্বিতীয়তঃ আন্দোলনের তীব্রতা ঠাহর করতে পেরে পুলিশ যদি দু’একদিনেই প্রায় হাফ ডজন মানুষ মেরে ফেলেন , তাহলে বহু দলীয় রাজনীতির গনতন্ত্রিক চর্চায় শান্তি পুর্ণ আন্দোলনে নিরাপত্তার অভাব এতটাই পরিলক্ষিত হয় যে , যা কোন কোন সময় এক অশুভ সংকেত বহন করে আনতে পারে । সরকারী দল মেয়াদ শেষে নিরপেক্ষ কোন তত্ত্বাবধায়কের কাছে ক্ষমতা রেখে গেলে কি এত মহা ভারত অশুদ্ধ হবে ? সরকার জনগনের আশা আকাঙ্ক্ষার কাছাকাছি যদি গিয়ে থাকেন তবে জনগন আবার ভোট দিয়ে তাদেরকে ক্ষমতায় আনবেন , নতুবা পরবর্তী মেয়াদ পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই ঘুরে ফিরে তারা আবার ক্ষমতায় আসবেন , অনুরুপ বিরোধীদলের বেলায়ও তাই । কারন ‘মুক্তিযুদ্ধ’ ও ‘স্বাধীনতার’ মত স্পর্শকাতর দুটো ‘প্লাস পয়েন্ট’ তো কম বেশী তাদের দু’দলের ঝুলিতেই বিদ্যমান ।