ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

সকালে অফিসে যাবার পথে পড়লাম নানান বিড়ম্বনায়, আগে আমার ব্যাংকের শাখা ছিল এলিফ্যান্ট রোডে , অফিসে যেতাম তরংগপ্লাস বাসে, রামপুরা বনশ্রী হ‘তে বাসে উঠতাম আর সরাসরি নামতাম কাঁটাবন মোড়ে । তাই ভাড়া একটু বেশী হলেও ভোগান্তি কিছুটা কম । তবে এই বাসের পিছনের দরজা নেই , সামনের একটি দরজা দিয়ে সকল যাত্রির অনুপ্রবেশ আর স্বভাবতঃ কারনে গেটের মধ্যে প্রচন্ড ভীড় সামলে নারী-পুরুষ সমবেত ভাবে উঠা নামা করা সত্যি বিব্রতকর ও কষ্টকর বিধায় অভিযোগ উঠেছে এ জাতীয় যাত্রিবাহী বৃহাকার গন-পরিবহনে পিছনের দরজা কেন বাধ্যতামূলক নয় ? অন্য দিকে যাত্রির তূলনায় বাস কম থাকায় দুই বাসের যাত্রি এক বাসে বহন । পাশাপাশি একই রুটে অন্য বাস ‘ফাল্গুনআট’ সংক্ষেপে বলা হয় ‘ফাল্গুন’ ।এই বাসের পিছনের দরজা আছে , কিন্তু ইদানীং সবসময় থাকে তালাবদ্ধ ।তাদের যুক্তি হলো বাসের পিছন দিয়ে যাত্রি ওঠে টিকেট ছাড়াই , এই যে বাস কোম্পানীর নিজেদের স্বার্থে শতশত যাত্রিদের হয়রানি , তা কি করে চলে সরকারের সদিচ্ছার আড়ালে , আমার বোধগম্য নয় । গাদাগাদি করে বাসে চড়ি কোন কোন বাসে বৃষ্টিতে দেখি জানালার কাঁচ নেই , সিট ভিজা , গরমে ফ্যান নেই , ভীড়ে দাঁড়ানো কষ্ট যথা স্থানে রড নেই , ভাড়া নিচ্ছে সিটিং, যাচ্ছি দাঁড়িয়ে , এ’তো নিত্য দিনের অভিযোগ ।

যাহোক এখন যেতে হয় অন্য রুটে , বনশ্রী হতে অটো’তে চড়ে সিপাইবাগ , সিপাইবাগ হতে তপস্যা করে পাওয়া যায় অটো । এই অটো’তে চড়ে খিঁলগাও রেলগেইট ,(এই অটো’র সম্ভবতঃ রুট পারমিট নেই তাই এসব গাড়ি মহল্লার ভেতরের সংকীর্ন অলিগলি দিয়ে চলে , অটো গুলো ব্যাটারী চালিত , এই ব্যাটারী রাতভর চার্জ হয় , শোনা যায় তা কখনো কখনো অননুমোদিত বিদ্যুতে চার্জ হয় বলে বিদ্যুত ঘাটতির কারন হয়ে দাঁড়ায় । ) তারপর আমতলা হতে জিলাপীর প্যাঁচের মত লাইন , লাইন ঘুরে ঘুরে আসে টেম্পু , তাতে উঠি রীতিমত যুদ্ধ করে , নামি দৈনিক বাংলার মোড় , তারপর পায়ে হেটে পৌঁছে যাই দিলকুশা । ফেরার পথেও একই সমস্যা , তিন থেকে চার বার যান বদল করে বাসায় ফেরা , পরদিন আবার অফিস , অতঃপর একই যুদ্ধ একই সংগ্রাম , এভাবে প্রতিদিন ,প্রতিক্ষণ ।আর ভালো লাগে না । এসবই আমাদের অপরিকল্পত নগরায়নের ফল , সংকীর্ন রাস্তা গুলো চওড়া করতে হলে রাস্তার পাশে অবস্থিত কিছু বাড়ি-ঘর ভাংতে হবে, গনপরিবহণে ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে আনতে বেসরকারি মালিকানায় বাড়াতে হবে দ্বিতল বাস আর ছোট ও মাঝারি আকারের বাস মফস্বলে পাঠিয়ে দিতে হবে । বিআরটিএ এর লোক-বল বাড়াতে হবে , দুর্নীতি বন্ধ করতে বাড়াতে হবে নজরদারি ও শাস্তির ব্যাবস্থা । ওভারটেকিং , বেপরোয়া গাড়ি চালানো , ও যত্রতত্র যাত্রি উঠানো নামানো নিয়ন্ত্রনে আনতে ,দূর্ঘটনা ও যানজট কমাতে ট্রাফিক পুলিশদের প্রশিক্ষন সহ প্রশিক্ষিত চালক নিয়োগ , চালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা , পরিবহন শ্রমিকদের আকর্ষনীয় বেতন ভাতা ও চাকুরী বিধি প্রনয়ণ , জ্বালানী ও মটর পার্টস এর মূল্য সক্ষমতার মধ্যে রেখে চাঁদাবাজী নিরোধ কল্পে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে গণপরিবহণকে নির্ধারন করে দিতে হবে গ্রহনযোগ্য ভাড়া । আর সে জন্য যুগপোযুগি ট্রাফিক আইন ও তার কার্যকারীতার উপর দৃষ্টি দিয়ে সরকারকে তার যথাযথ ভূমিকা পালণ করতে হবে যেন যাত্রি হয়রানি বন্ধ হয় , বন্ধ হয় সড়ক দুর্ঘটনা । সরকার যে ইচ্ছে করলে পারে তার প্রমান পেলাম তখন ,যখন শুনলাম যোগাযোগ মন্ত্রী এক প্রশ্নোত্তরে বলছিলেন , পদ্মা সেতু নির্মানে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা আগামী এক মাসের মধ্যে সেতু বিভাগে তাদের অভিযোগ উত্থাপন করলে পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে তাদের ক্ষতি পূরণ দিয়ে দেয়া হবে , আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি মন্ত্রীর এ ধরনের সময় নির্ধারিত প্রতিশ্রুতিতে , যদিও আগেও অন্যের মুখে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি বহুবার শুনেছি তবে এবারেরটা মনে হচ্ছে অনেকখানি ফলপ্রস্যু , আমি আরও খুশি হতাম যদি শুনতাম মন্ত্রী বলতেন “যাদের অবহেলা ও গাফিলতির কারনে আপনারা ক্ষতিপূরণ যথা সময়ে পাননি তাদের আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিচার ও শাস্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে” ।