ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

সারা বিশ্ব ব্যাপী দারিদ্র একটি ব্যাধি । আমার জানতে ইচ্ছে করে কেন মানুষ দরিদ্র হয় ? আর কিভাবে আমরা এই দারিদ্রের অভিশাপ হতে মুক্তি পেতে পারি ? যে কারনে আমার মনে হয় এর জন্য একটি গবেষণাগার গড়ে তোলা দরকার । যার অধীনে একটি আইনী সহায়তা মূলক শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান কাজ করবে , যেখানে মানুষ চক্রবৃদ্ধি সূদের জাল হতে পরিত্রান পাবার সহজ রাস্তা খুঁজে পাবে এবং যার মাধ্যমে এ রকম চোরাবালীর মত ঋণের খারাপ দিক গুলো নিয়ন্ত্রন করা যাবে , সেই সাথে সরকারের ও বিভিন্ন সামাজিক সংস্থার সহায়তায় ঐ সব ঋণ কার্যক্রমের ভালো দিক গুলো ভালো ভাবে কাজে লাগানো যাবে । “আসুন আমরা এক সাথে কাজ করি” এ রকম একটা শ্লোগান দিয়ে আমার গ্রুপ ‘পেট’ ( পোভার্টি ইরাডিকেশন টেকনোলজি ) এর মাধ্যমে প্রথমতঃ আমি লিঙ্কডইন , ফেইসবুক , টুইটার এ দেশের ও বিশ্বের বিভিন্ন “দারিদ্র বিমোচন” সঙ্ক্রান্ত সামাজিক সংস্থাগুলোতে আমার বার্তা পৌঁছাতে শুরু করি । এবং খুব তাড়াতাড়ি অনেকগুলো সংস্থা আমাকে তাদের গ্রুপে যোগদানের আবেদন অনুমোদন দেন ।

তন্মধ্যে এন্ড-পোভার্টি, প্লাটফর্ম এগেইন্সট পোভার্টি , ফার্মার্স ফাইটিং পোভার্টি, বিজনেস এগেইন্সট পোভার্টি ইত্যাদি অন্যতম । আমি একটি লেখায় উল্লেখ করি যে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে অনেক হতদরিদ্র মানুষ তার ভাগ্যের উন্নয়ন করতে পারেনা , কারণ বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে তারা ক্ষুদ্রঋণের সঠিক ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয় । তাই সেই দরিদ্র মানুষগুলো দিন দিন একটি শক্ত চক্রবৃদ্ধি সুদের জালে আবদ্ধ হয় এবং সেক্ষেত্রে তাদের দারিদ্র বিমোচন তো হয়ই না বরং তারা দিন দিন হয়ে পড়ে অধিক হতে অধিকতর দরিদ্র ।এবং তারা প্রথমে পুঁজি হারায় তারপর হারায় ঘটি-বাটি, অতঃপর শেষ সম্বল ভিটে মাটি ।এজন্য যা সবচেয়ে বেশী জরুরী তা হলো তাদের ন্যুনতম শিক্ষার প্রসার ,তাই শুরুতেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন আনতে হবে এবং সেজন্য দরকার গনসচেতনতার , যার বিকাশ ঘটানো জন্য প্রয়োজন আর্থিক সচ্ছলতার , যা কোন প্রদত্ত আর্থিক সাহায্যের বা ঋণের বিপরীতে নয় , শুধুমাত্র দরকার ব্যক্তি বা গোষ্ঠির কৌশলগত কর্মদক্ষতার উন্নয়ন । এবং তারা সেই দক্ষতা দিয়ে কুটির শিল্প ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াবে, তাহলে তাদিয়ে তাদের পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় সংকুলান সম্ভব হবে এবং ধাপে ধাপে তারা তাদের পুঁজি সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে ।