ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

পত্রিকা খুলে দেখলাম খবর- এক লাখ এগারো হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে সমুদ্রসীমা বিজয় , উপকূলীয় অঞ্চলে আরও দু’হাজার আশ্রয় কেন্দ্র নির্মানের কাজ শুরু , উন্নয়নের শিখরে উল্লাপাড়া , জয়পুরহাটে দিগন্ত জোড়া সবুজের সমারোহ , কুলাউড়ায় সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় নির্মিত হচ্ছে স্বাধীনতার স্মৃতি সৌধ । চেয়েছিলাম এসব ভালো খবর দিয়ে শুরু করবো দিন ,তবু আবার ভাবলাম পত্রিকা জুড়ে প্রতিদিন যেসব খারাপ খবর দেখি তার আড়ালে যেন আমদের অনেক গৌরবময় অর্জন গুলো তলিয়ে না যায় , যেমন রাণীনগরে ভাসুর কর্তৃক শ্লীলতাহানি , নীলফামারীতে কৃষক খুন , ইটনায় দু’দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে রাজনীতিবিদ নিহত , রংপুরে বৃদ্ধ খুন , রাজধানীতে শিশু অপহরণ, সাভারে ডাকাতি আর ফরিদপুরে ইভটিজিং । লালমনিরহাটে স্কুলছাত্র পেটালেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক, আজ আবার শুনলাম ঐ শিক্ষকেরই ক্ষমা প্রার্থনা ও সেচ্ছায় অন্যত্র বদলী হবার অংগীকার ।

সুশাসনের অভাবে প্রশাসনে দলবাজী , ছাত্র সমাজের টেন্ডারবাজী , পেশীশক্তির দখলদারিত্ব , রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী , দুর্নীতি , বদলী বানিজ্য , নিয়োগ বানিজ্য, কলুষিত ছাত্ররাজনীতি , আমদানীকারকদের সিন্ডিকেট ,এসব খবর শুনে মনে হয় কেমন যেন অসংগতি আর অসামঞ্জস্যে ভরা এই সমাজ ধীরে ধীরে ধাবিত হচ্ছে এক অসহনীয় বিশৃঙ্খলা আর নৈরাজ্যের দিকে, তা যেন অপ্রতিরোধ্য, যা দিন দিন চলে যাচ্ছে সরকারের একক নিয়ন্ত্রনের বাইরে , এক্ষেত্রে সরকার যেমন ব্যর্থ তেমনি বিরোধী দলও ব্যর্থ সংসদে গিয়ে যুক্তিসংগত সমালোচনা করে সরকার পরিচালনায় সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিতে । অপরদিকে নিরবিচ্ছিন্ন তথ্যপ্রবাহের অভাবে ও পদ্ধতিগত বা কৌশলগতভাবে নিরাপত্তাহীন দূর্বল ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এবং এক অশুভ শক্তি দ্বারা আক্রান্ত ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ার ব্যবসা সাধারন শেয়ার ব্যবসায়ীদের করেছে সর্বশান্ত আর অর্থনীতিকে করে দিচ্ছে ক্রমশঃ বিকলাংঙ্গ ।

এর সাথে যোগ হয়েছে রাজনৈতিক হানাহানি , যেমন মতাদর্শের গড়মিল হওয়ায় জাতীয় ইস্যুতেও মতানৈক্য , সংসদে চলছে শিষ্টাচারবিধির অযৌক্তিক ও অশ্রাব্য ভাষায় আলোচনা , বিরোধীদলের সংসদ বয়কট আর সরকারী দলের ফাঁকা মাঠে গোল দেয়া দেখে আমি একদিন বলেছিলাম, “যা কিছু বিতর্ক সংসদে- জনগনের আস্থা অর্জন , আর নয় সংসদ বর্জন” কিন্তু তাতে কেউ অনুপ্রাণিত হয়েছিল কিনা জানিনা , আমিও অবশ্য পরিতৃপ্ত হতে পারি নাই বিরোধী দলের লাগাতার সংসদ বর্জন দেখে । যেমন আশির দশকে আমি একটি নির্বাচনী প্রচারে মাইকে অনেকবার বলেছিলাম, “আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশি তাকে দেব” যা পরবর্তীতে সবার কাছে সমাদৃত হয়েছিল , তবে অবশ্য ঐ শ্লোগান যে আমিই প্রবর্তন করেছিলাম তার কোন উপযুক্ত সাক্ষী প্রমান নেই আমার কাছে ।কিন্তু একথা সত্য যে, ভোট দিয়ে এই সংসদে যাদেরকে আমরা পাঠাই, তারা কি ক্ষমতায় গিয়ে সংসদের পরিবেশ অক্ষুন্ন রাখতে পারে? যাতে বিরোধী দলের নিয়মিত সংসদে যাওয়ার পক্ষে উৎসাহ
যোগাবে ।

তদুপরি বিরোধীদলের অভিযোগ “সংসদে কথা বলতে দেয়া হয় না” , পাশাপাশি সরকারী দল বলছে “শুধু মাত্র বেতন ভাতা নেবার স্বার্থে এবং সংসদে সদস্যপদ টিকিয়ে রাখবার জন্যই তাদের এই সংসদে আসা”।

এসব তর্ক বিতর্কের মধ্যে আধা-খেচরাভাবে চলছে আমাদের এই মহান সংসদ , যার জন্য রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা বেড়েই চলছে ক্রমাগত , দ্রব্য মূল্য হচ্ছে চড়া হতে চড়া , প্রবৃদ্ধি স্থিমিত আর দেশী বিদেশী বিনিয়োগ থমকে যাওয়ার মূলে বিদ্যূৎ-গ্যাস সঙ্কট আর রাজনৈতিক অস্থিরতাকে মূল কারন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা । জ্বালানী সঙ্কটের কারনে বিদ্যূৎ প্লান্ট বসে যাওয়া , গ্যাসের অভাবে সার কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া, আর লোকসানের ভারে নুয়ে পড়া জুটমিল সহ অনেক সরকারী প্রতিষ্ঠান চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়া যেন স্বাভাবিক ঘটনা ,তা অবশ্য সব সরকারের আমলেই ।উপরন্তু রাজনৈতিক সমঝোতার অভাব , সম্পর্কের টানাপোড়েন , আর পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি বা সঠিক বোঝা পড়ার অভাবে দেশ এখন ধাবিত হচ্ছে এক অস্বাভাবিক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে । তাই দেশকে বাঁচাতে , নিজেরা বাঁচতে, আমাদের বাঁচাতে পরস্পর কাদা ছোঁড়াছুড়ি না করে সরকার ও বিরোধী দল সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলছি, জরুরীভাবে পদক্ষেপ নিন ।