ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

ভেলকি ১/

মাল বাবু বললেন, ভ্যাট দিতে হবে। অমনি শিক্ষার্থীরা বলল, দিব না।

টিপ্পনী :

যেহেতু শিক্ষা মৌলিক অধিকার, সেখানে ভ্যাট দেয়ার বা নেয়ার প্রশ্ন আসছে কেন ?

 

ভেলকি ২/

এনবিআর বলছে ভ্যাটের টাকা শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির মধ্যেই আছে। আলাদা করে দিতে হবে না।

টিপ্পনী :

তাহলে এতদিন সরকার কেন এই টাকা ভার্সিটির মালিকপক্ষ থেকে নেয় নাই ?

আর যেহেতু ইউনিভার্সিটির মালিক পক্ষ এতদিন সরকারকে ভ্যাট দেয় নাই, সেহেতু এ যাবত আদায় করা অতিরিক্ত অর্থ সকল শিক্ষার্থী, বর্তমান ও প্রাক্তন সকল শিক্ষার্থীকে ফেরত দিতে হবে। কেননা বাংলাদেশের শিক্ষানীতি অনুসারে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই অলাভজনক ভাবে পরিচালিত হতে হবে।

 

ভেলকি ৩/

ভার্সিটির মালিক পক্ষ বলল: ভ্যাট আমরা দিব, শিক্ষার্থীদের দিতে হবে না। অমনি মাল বাবু মাঠে নামলেন; তিনি একবার বললেন, এবার ভার্সিটির মালিক পক্ষ দিচ্ছে, দিক, আগামীতে শিক্ষার্থীদের দিতে হবে। পরক্ষণে শিক্ষার্থীদের  তিনি সতর্ক করলেন, তাদের সজাগ থাকার জন্য, যাতে ভার্সিটির মালিক পক্ষ ফন্দিফিকির করে তাদের কাছ থেকে ভ্যাটার টাকা আদায় করতে না পারে !

টিপ্পনী :

প্রতিটি নাগরিকের শিক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্র, তথা রাষ্ট্র পরিচালনাকারীরা ( বর্মান ও অতীতের ) ব্যর্থ হয়েছে। তাদের এই দূর্বলতায় প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির পথ চলা শুরু। যেখানে শিক্ষা দান যতটা হয়, তার চেয়ে বেশি বিক্রি হয় ।

আর শিক্ষার্থীরা শিক্ষা কিনতে বাধ্য হয়। ক্রেতা শিক্ষার্থীরা সমাজের উচ্চবিতত্তের না মধ্যবিত্তের ? ভ্যাট দেবার ক্ষমতা তাদের অবিভাবকদের আছে কি নেই – সে প্রশ্ন এখানে অবান্তর।

প্রশ্নটা হচ্ছে :

আপনি শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার মনে করেন, কি করেন না ?

আপনি শিক্ষাকে পণ্য হিসেবে চান, কি চান না ?

কেননা, মাল বাবু যখনই শিক্ষায় ভ্যাট বসালেন, তখনই রাষ্ট্র শিক্ষাকে পণ্য হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে দিল ?

 

ফাও ভেলকি

‘মন পাবি দেহ পাবি ভ্যাট পাবি না’ বা ‘জয়বাংলা ভ্যাট সামলা’ ব্যানার নিয়ে যারা বিক্ষোভ করেছেন তারা আর কিছু করেন নি, আন্দোলনের গাম্ভীর্য খর্ব করেছেন ( ব্যানার ব্যাখ্যা যত যুক্তিযুক্তই হোক ) । সচেতন আন্দোলনকারীদের উচিত এ বিষয়ে ক্ষমা চাওয়া। শিক্ষার্থীদের আরেকটি কথা মনে রাখা উচিত – আপনাদের আন্দোলন যেন অন্যের যন্ত্রণার কারণ না হয়, তাহলে আপনার সাথে কাওকে পাবেন না।

ফাও টিপ্পনী

দেশের দশটা বেসরকারী ইউনিভার্সিটি ভাল। প্রশ্ন হল এগুলো কি শুরু থেকে ভাল ? ধীরে ধরে ভাল হয়েছে। যেগুলো ভাল নেই সেগুলোকে ভাল হবার সময়তো দিতে হবে। এজন্য সরকারের কী বাড়ানোর উচিত ছিল  –  ভ্যাট না নজরদারি ?

এ অনন্দোলন দীর্ঘ হলে কী হবে ?

প্রতিটা ভার্সিটি থেকে কয়েকজন নেতা ওঠে আসবেন।যারা ক্যাম্পাসে, ছাত্র-ছাত্রীদের ও শিক্ষকদের মাঝে পরিচিত, জনপ্রিয় হয়ে ওঠবেন ।সেই সাথে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীও বেরিয়ে আসেবে। শুরু হবে নোংরা রাজনীতি। তখন প্রাইভেট ভার্সিটিগুলোর বর্তমানের শিক্ষার পরিবেশ যে বিঘ্নিত হবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।  চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা শীষবাজি বা নৌকাবাজি শুরু হবে কিনা কে জানে ?

 

একটা সময় ছিল এদেশের অনেকে পাশ্ববর্তী দেশে লেখাপড়া করতে যেত। এখন চিত্রটা ধীরে ধীরে পাল্টাচ্ছে, এক নর্থ-সাউথেই বিভিন্ন দেশের তিনশর মত স্টুডেন্ট পড়ছে ????