ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

আমরা মুখে বলি শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। আর এই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরি করেত আমরা কিভাবে কতটুকু কাজ করি তা মাঝে মাঝে আয়নায় দেখে ছোট ছোট কাজ করা দরকার বলে আমরা অনেকেই মনে মনে তাগিদ অনুভব করি।তবে, আমারা বড়দের সমস্যা সমাধানে এত ব্যস্ত থাকি যে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং নেতৃত্ব নিয়ে ভাবার কথা ভুলে যাই। কিন্তু আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠন করতে হলে আমাদের শিশুর সার্বিক বিকাশ নিয়ে গুরুত্বসহকারে ভাবতে হবে, সঠিক নীতিমালা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে এবং এগুলোর সঠিক প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। আর এটি শুধুমাত্র পারিবারিক পর্যায়ে প্রয়োগ করলেই হবে না, এক্ষেত্রে সমাজ ও রাষ্ট্রের ভূমিকা হতে হবে অগ্রণী। শিশুদের নিয়ে গভীর চিন্তা ও পর্যবেক্ষণ থেকেই এ লেখার তাগিদ অনুভব এবং পাঠকদের সাথে আলোচনা করার এই প্রয়াস।

আমাদের সম্পদ সীমিত, তাই শিশুদের কল্যাণে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ খাতেও বাজেট বরাদ্ধ অপ্রতুল। কেউ কেউ অবশ্য আমাদের অগ্রাধিকার মনোনয়নের দুর্বলতার কথাও বলেন। যেমন আমাদের শিশুদের পাঠ্যপুস্তকের ডিজাইন ও ছাপার মান শিশুদের জন্য একেবারেই আকর্ষণীয় নয়। এতে খরচ বাড়লেও বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবা এবং অবশ্যই বাজেট বরাদ্ধ বাড়ানো দরকার। শিশুদের জন্য এরকম আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে যার সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্ধ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা আছে। আমি আজ স্বল্প বাজেটে করা যায়, অথচ শিশুদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এরকম তিনটি বিয়য় পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য উল্লেখ করছি। এক, শিশুদের বিদ্যালয়গুলোকে নিয়মিত রং করা। দুই, শিশুদের বিদ্যালয়ের আঙ্গিনা ও খেলার মাঠগুলোকে সুন্দরভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও খেলার উপযোগী করে রাখা। তিন, পাড়ার খেলার মাঠ ও শিশুপার্কগুলোকে শিশুদের উপযোগী করে রক্ষণাবেক্ষণ করা।পাঠক খেয়াল করবেন, দুর্ভাগ্যক্রমে তিনটি জায়গারই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বেহাল দশা। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবস্থা এত করুণ যে সেগুলো কোনভাবেই শিশুদের আকৃষ্ট করার মত নয়। এগুলো দেখার যেন কেউ নেই, আমাদের যেন ১/২ বছর পর পর বিদ্যালয়গুলোকে চুনকাম করারও সম্পদ নেই। এটা কি আমাদের সম্পদের অভাব, না গুরুত্ব দেওয়ার অভাব, না কবিগুরুর ভাষায় ‘মনের দারিদ্রতা’? পাঠক দেখুন, আমরা সারা জাতি আজ পরীক্ষার পিছনে (যার বেশিরভাগ মুখস্ত-নির্ভর) দৌড়াচ্ছি, যার ফলে ভুলেই যাচ্ছি যে, শিশুদের অন্যান্য বিকাশের (শারিরীক, আবেগিক, সামাজিক, সৌন্দর্যবোধ) প্রয়োজনীয়তার কথা। যার ফলে পরিপূর্ণ বিকাশের অভাব নিয়েই বড় হচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।যার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে আমাদের সমাজের অসামঞ্জস্যপূর্ণ অনেক আচরণে।

পাঠক, প্রশ্ন হচ্ছে উপরোক্ত বিষয়গুলো আমাদের সীমিত সম্পদ দিয়ে সমাধান করা সম্ভব কি না? আমাদের সাধারণ ধারণা সায় দিচ্ছে যে, এগুলো সহজেই সম্ভব। আর সেখানে বাজেটের চেয়ে, রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্ব দেওযার বিষয়টিই বেশি জরুরি।আর একবার রাষ্ট্র ও সমাজ গুরুত্ব দিলে, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও পরিবারও গুরুত্ব দিবে। আর তখন রাষ্ট্রের ন্যূন্যতম উৎসাহে সমাজ, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকরা মিলে এ কাজগুলো সম্পাদন ও তদারকি করতে পারেন। শিশুরাও একাজে অর্থপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারে। পাঠক চলুন, আমরা যার যার অবস্থান থেকে এসকল বিষয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনি ও সঠিক ভূমিকা রাখি।