ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

 

mujib-1sss

.

বাঙালি জাতির জীবনে ১৫ আগস্ট এক রক্তাক্ত শোকাবহ দিন। বাঙালি ও বাংলাদেশ যাকে ছাড়া কল্পনা করা কঠিন সে আর কেউ নয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অন্নদাশংকর রায় লিখেছে,

“যতদিন রবে পদ্মা-যমুনা-গৌরী-মেঘনা বহমান,

ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবর রহমান।”

অন্নদা শংকরের সাথে তাল মিলিয়ে আমিও বলি-

“শুধু পদ্মা মেঘনা গৌরি নয়-

যতদিন এ পৃথিবী রবে ঘুর্ণায়মান

ততদিন রয়ে যাবে আপনার কীর্তি

শেখ মুজিবুর রহমান।”

এই সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে নিজের সমস্ত সুখ জলাঞ্জলি দিয়েছিলেন মুজিব। ৪৮, ৫২,৬২,৬৯,৭১ এ বঙ্গবন্ধু যে অবদান রেখেছিলেন তা নিতান্তই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনে সুবিশাল ভূমিকা রেখেছিলো। বঙ্গবন্ধু তাঁর সারাজীবনে ১৩ বছর জেল খেটেছিলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন প্রবীণ নেতাই এত সংখ্যকবার জেল খাটেননি। শুধু দেশ-মাটি-মা কে ভালোবেসে কণ্টকাকীর্ণ জীবন পার করে দেন। আর আমাদের পক্ষ থেকে তার প্রতিদান দিয়েছি মাত্র চার বছরের মাথায়! পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়াই ঘাতকদের উদ্দেশ্য ছিলো।

দেশের প্রতি গভীর মমত্ববোধ ছিলো বঙ্গবন্ধুর। তাইতো জীবনে আরাম-আয়েস সুখের কথা ভাবেননি। কেবল ভেবেছেন দেশের মানুষের কথা দেশের মানুষের সুখ শান্তির কথা । সেসময় যদি শেখ হাসিনা কিংবা শেখ রেহানা দেশের বাইরে না থাকতেন তাহলে তাদের জীবনও বিপন্ন হবার সম্ভাবনা ছিলো। দীর্ঘ চল্লিশ বছর পরও তারা রিক্স ফ্রি নন। একের পর এক আক্রমণ হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপর। যা খুব দুঃখজনক।

আমরা সেদিকে যাচ্ছি না। বলছি সাম্প্রতিক কথা। ১৫ আগস্ট মানুষের জন্য যতোই কষ্টের হোক, গরীব-দুঃখী সকলের জন্য একটু সুখের। অন্তত একটা দিন তারা প্রিয় পিতার সুবাদে পেট ভরে খাচ্ছে আনন্দ করছে। আর তাদের মুখের হাসির মাঝে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর হাসি।

এ কিন্তু সুক্ষ্মভাবে চিন্তা করতে গেলে বিশাল ব্যাপার। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে তাকে কেউ হারাতে পারেনি। তিনি চেয়েছিলেন মানুষের মুখের হাসি, পেয়েছেন। মৃত্যুর পর ৪০ বছর পেরিয়ে যাবার পর তিনি যে সুখটা মানুষের মধ্যে বিলাতে পেরেছেন যা খুব ভাবনার বিষয়। শত্রুরা তাকে হারিয়ে দিতে পারেনি। মানুষের ভালোবাসা বঙ্গবন্ধুর প্রতি কতগুণ যে বেড়েছে তা ভেবে পারা যাবে না। তা গবেষণার বিষয়।

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একইসূত্রে গাঁথা। বঙ্গবন্ধুকে ছাড়া যেমন এদেশ কল্পনা করা যায় না। তেমনই বর্তমান প্রেক্ষিতে তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাকে ছাড়া এদেশ ও দেশের উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না। এই ১৫ আগস্টের ভালোবাসায় উজ্জীবিত হয়ে বলবো, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে শেখ হাসিনাকে আরোও সতর্ক হয়ে কাজ করতে হবে। আবেগাপ্লুত হয়ে কাজ করা যাবে না । তাকে সকল সময় ১৫ আগস্টের কথা মনে রাখতে হবে।

এবার যে দৃশ্যটি বেশি চোখে পড়ার মতো ছিলো তা হলো– যারা একসময় শিবির করতো তারা এখন আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী! তা কতটুকু ভালো ভেবে দেখা উচিত। যে দলটি একসময় দেশ বিরোধীদের মদদে চলতো, সে দলটি রাতারাতি কি করে আওয়ামী লীগের অন্তরাত্মায় ঢুকে গেলো তাও ভেবে দেখা উচিত। আর এও ভেবে দেখা উচিত, একি কোন রাজনৈতিক চাল কিনা। উনাদের হঠাৎ চুপ করে যাওয়ার হেতু কি?

আর এদেশের সর্বশ্রেণির জনগণকে তথা পোর খাওয়া রাজনীতিবিদদের শেখ হাসিনার জন্য তার চাইতে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যাতে এদেশে আর কোনদিন মার্শাল ল’ কিংবা আরেকটি ১৫ ই আগস্টের পুনরাবৃত্তি না ঘটতে পারে। যাই করুন, মনে রাখতে হবে হাতে যদি ক্যান্সার হয় ঠিক মতো চিকিৎসা না করলে একসময় হাতটাই কেটে ফেলতে হয়, না হলে জীবনাপর সমস্যা হয়।

দেশ যেভাবে এগিয়ে চলছে, আরো দূরন্ত গতিতে এগিয়ে যাবে সে প্রত্যাশাই করি । তবে সকলে যেন ১৫ আগস্টকে ভুলে না যাই। এই দিনে কেবল হোন্ডা শো আর মিছিল না করে সাথে বঙ্গবন্ধু আদর্শকেও ধারণ করতে হবে। অন্যথা হলে আমও যাবে, ছালাও যাবে।