ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। তারপর- যা বলার বলছি। রাখাইনদের সহযোগিতার জন্য সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকে এক দিনের বেতন কাটা হচ্ছে। প্রথমেই শুরু করেছে শিক্ষাবিভাগ। শোনা যাচ্ছে প্রাইমারি স্কুলগুলো থেকে শুরু হচ্ছে। (উপজেলা ত্রিশালে প্রথমেই অনুসন্ধানীয়)। এরপর হিসাব রক্ষণ অফিস প্রভৃতি। খুব ভালো ব্যাপার- এটাই ভাগ্য আমাদের।

41_Sheikh+Hasina_Rohingya_Kutupalong+refugee+camp_120917_0001

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাখাইনদের দেখতে গিয়ে বলেছিলেন, “১৬ কোটি মানুষের খাবার দিই৷ সেই সঙ্গে কয়েক লাখ মানুষকে খাবার দেওয়ার সক্ষমতা বাংলাদেশের আছে। আমরাও তো রিফিউজি ছিলাম। রিফিউজি থাকার যন্ত্রণা কী, তা আমরা বুঝি।”

“We do provide foods for 160 million people. We are also capable to provide more foods for some thousands of Rohingya people. Once we were refuge so we can realize what pains of it are as well” -HPM Sheikh Hasina

অর্থাৎ ১৬ কোটি মানুষের অন্নের যোগান তিনি দিতে পেরেছেন। ১০ লক্ষ মানুষেরও পারবেন। কিন্তু কিভাবে তা কিন্তু বলেননি।

রোহিঙ্গাদের জন্য বিদেশি ত্রাণের পরও,  একদিনের বেতন সরকারি কর্মচারীদের দান করতে হবে। কেন? এভাবে সরকারি কর্মচারীদের উপর বাধ্যবাধকতা কেন? খুব কষ্ট করে সরকারী কর্মচারীগণ অর্থ উপার্জন করে থাকে। সচিবদের মতো বত্রিশ হাজার টাকা ভাতা পায় না। এই কেটে নেয়া সকল টাকার যদি সঠিক হিসাব জনগণ জানতে পারতো তা হলে এক কথা ছিলো। যে দেশে বঙ্গবন্ধুর জন্য বরাদ্ধ কম্বল থাকে না আবার ত্রাণের বস্তা থাকে চাল থাকে না। সে দেশে অতিউৎসাহী হওয়া ঠিক কি? যাক ওদিকে আর না যাই।

এখন বলা হতে পারে সরকার তাদের অনেক দিয়েছে। কিন্তু কত ফেরত নেয়া হচ্ছে তাকি দেখা হচ্ছে? আগে যেমন সৎ সরকারি কর্মচারীদের নুন আনতে পানতা ফুরাতো এখনো তাই। বস্তা প্রতি চালের দাম বেড়েছে গড়ে ৬৫০-৭০০ টাকা। বর্তমানে যে চাল কেনা হতো ২৬০০ টাকা বস্তা তা বেড়ে ৩৩০০ টাকা। যে চাল ২০১০ -১১ সালে ছিলো ১২৫০-১৪০০ টাকা বস্তা, তা এখন ২৮০০- ২৯০০ টাকা, কিভাবে চলে তাদের? খাজনার চেয়ে বাজনাই বেশি। শাক-সবজি, তরি-তরকারি সব সব জিনিসের দাম হয়েছে আকাশ ছোঁয়া। এককথায় ভাল নেই মানুষ। চৈত্রের খড়তাপের মতন ভেতরে ভেতরে নাভিশ্বাস। কষ্ট মানুষের খুব কষ্ট।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য যা কিছু সম্ভব করা হোক। সরকারি কর্মচারীরা কেন বেতন থেকে দেবে? জোর করে দান হয় না। সরকারি কর্মচারী যাদের ছোট পরিবার তাদের কথা না হয় মেনে নিলাম। বড় পরিবার বা যারা সব কিনে খায়, ভাড়া থাকে, ঘুষ খায় না। তাদের অবস্থাটাও ভাবতে হবে। একদিনের পরিশ্রমের টাকা কেটে নিলে তা হবে ব্যর্থতার নামান্তর।

ত্রিশাল উপজেলায় ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি কর্মকতা-কর্মচারীদের কাছ থেকে একদিনের বেতন কেটে নেয়া হচ্ছে। যা প্রশংসনীয় হলেও দুঃখজনক। এখানেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর জোর খাটানো। কেউ মন থেকে টাকাটা দিচ্ছে না। চা স্টলে বসে তাদের আলোচনা শুনলেই প্রতীয়মান হয়। যা খুব একটা অর্থবহ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। (সূত্র: ত্রিশাল থানা নির্বাহি অফিস স্মারক নং-০৫.৪৫.৬১৯৪.০০৭.০০.০১.১৪-৫০৬ চিঠি)।

এ এলাকায় অনেক ধনী বা ধনবান আছেন যাদের কাছ থেকে তিনি এ অর্থ সংগ্রহ করা যেতো, তা করা হয়নি। এভাবে প্রতিবার যে কোন সমস্যায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছ থেকে একদিনের বেতন কেটে নেয়া কতটুকু যুক্তিযুক্ত ও সাংবিধানিক তা খুঁজে দেখার বিষয়। নাগরিক হিসাবে আমরা চাই এ হেন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে। উন্মুক্ত ও অন্য কী পন্থা অবলম্বন করা যায় তা ভেবে দেখতে হবে।