ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

১.

আর বেশি দিন  নেই। সামনে নজরুল জয়ন্তী আসছে । গত ২৪ মে, ২০১৭ নজরুল জয়ন্তী নিয়ে সামান্য কথা মনের মধ্যে কেমন জানি উথাল-পাথাল করছে। তাই বলছি। তার আগে আমার বক্তব্যটুকু ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য অনুরোধ করছি।

কথা ছিলো কবিদের কবিতা সমাবেশ অনুষ্ঠান হবে । কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মানুষ্ঠানে কবিরা কবিতা পড়বেন । মোটামুটি চল্লিশজন কবি তাদের স্বরচিত কবিতা পাঠ করবেন । আমরা একদল কবি এসেছি কবিতা পড়বো আর বইমেলা ঘুরে দেখবো। নজরুল জয়ন্তী থেকে প্রয়োজনীয় বই কিনবো।

কবিদের সাথে সারা বিকেল বইমেলা ঘুরি।খুবই রুগ্ন বই মেলা। ইতিপূর্বে এমন বই মেলা দেখিনি। হাঁটু সমান পানি। বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পড়ছে। অনেকের বই ভিজে যাচ্ছে। খুব খারাপ অবস্থা। কথা ছিলো বিভাগীয় সাহিত্য পরিষদের অনুষ্ঠান বইমেলার ভেতরে করবো এবং দুটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান করবো-তা আর হলো না । পরে সে অনুষ্ঠান সারাদেশ থেকে আগত আশিজন কবিকে সাথে নিয়ে ভিন্ন এক হোটেলে অনুষ্ঠান করি।

আমার কথা হলো কবির অনুষ্ঠান কবিদের বেশি দাওয়াত করা কাম্য। যেভাবে সাধারণ মেলা নিয়ে অতি উৎসাহ দেখানো হয় তাতে নজরুল জয়ন্তীর মান কমে একেবারে জিরো পর্যায়ে চলে যায়। এজন্য আমরা ত্রিশালবাসী এই জয়ন্তীর আগের রূপটি ফিরে পাই না। ক্রমান্বয়ে অনুষ্ঠান দ্বিধা বিভক্ত হয়ে সারা দেশে বিশেষ করে ঢাকায় চলে যাচ্ছে কিংবা কুমিল্লায়। আজ যদি এখানে মেলা নিয়ে  মাতামাতি না করে বিশাল বই মেলা হতো, সারাদেশ থেকে কবিদের ডাকা হতো, পাশাপাশি গান হতো, তাহলে আমার মনে হয় বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশে বইমেলার পর এটি হতো সারা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়ো বইমেলা। মানুষ কিছু শিখতে আসতো। তা কিন্তু মোটেই করা হচ্ছে না। অথচ পাশেই নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সারা বিশ্ব থেকে বড়বড় কবিদের নিয়ে এসে যে গবেষনামুলক উদ্দীপনার সৃষ্টি করা হয় তার ফলশ্রুতিতে সারাবিশ্বে নজরুলের আলাদা এক পরিচিতি হচ্ছে।

মেলা থেকে যে আয় হয় তা দিয়ে  পাবলিক্যালি যদি বছরে অন্তত একটি আন্তর্জাতিক কবি সম্মেলন করা হতো তা হলে হয়তো আমাদের ত্রিশালের সম্মান তথা নজরুলের সম্মান চার গুণ বেড়ে যেতো। আমি ত্রিশালের নেতানেতৃদের কথা বলবো না তাঁরা এখানে কেউ সাহিত্যিক নন। তাই নজরুল সম্বন্ধে তাদের আছে বানিজ্যিক চিন্তাভাবনা নজরুলের জন্য নতুন কোন চিন্তা ভাবনা তাঁদের কাছ থেকে আশা করা যায় না। তাই যা বলছি মাননীয় নির্বাহী অফিসারকেই উদ্দ্যেশ্য করে বলছি। তিনি একজন জ্ঞানী ও গুনী আধুনিক চিন্তাশীল মানুষ। বর্তমানে তিনি যা ভাবছেন ও করছেন তা জননন্দিত।

আমি ক্ষুদ্র মানুষ আমার ক্ষুদ্র চিন্তা-প্রতিবার জয়ন্তী নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম ভালো লাগে না। এখনই সুন্দর সময়। আমার বিশ্বাস একমাত্র প্রশাসনই পারে সুন্দর একটি আয়োজনের মাধ্যমে নজরুল জয়ন্তী সুষ্ঠু ভাবে করার। আমিসহ সকলেই আশাবাদী যে ত্রিশাল থানা প্রশাসনের বিজ্ঞ ইউএনও মহোদয় তা করে দেখানোর ক্ষমতা তিনি রাখেন। ইতোমধ্যে অনেক কাজ তিনি করে দেখিয়েছেন-যেমন সবুজ ত্রিশাল,বাল্যবিবাহ,সরকারী সকল অনুষ্ঠান,পরিবেশ বিষয়ক অবদান ইত্যাদি ইত্যাদি।

২.

নজরুল জয়ন্তী ত্রিশালের মানুষের একার নয় একথা যেমন সত্য, তেমনি সত্য হলো তাঁদের নজরুলের উপর দাবিও কিন্তু সত্য। প্রতিবার নজরুল জয়ন্তী থেকে একটি ম্যাগাজিন সরকারি ভাবে বের হয়। তাঁর মধ্যে যাঁরা লেখেন তাঁরা নজরুলকে নিয়ে অনেক ভাবেন তাঁদের লেখায় সে পরিচয় মেলে । তা গবেষনার ব্যাপার । আমি গবেষক নই নজরুলের কঠিন একজন পাঠক তাই ওসব নিয়ে বলবো না । যাঁরা ত্রিশালের লেখক ও নজরুলকে নিয়ে ভাবেন তাঁদেরও লেখা নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষ্যে বের হওয়া এই ম্যাগাজিনটিতে সামান্য হলেও স্থান দেয়া উচিত ।