ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

প্রায় দশ মাস কেটে গেল আইভরিকোষ্টে,সময় কিভাবে দ্রুত চলে যায় মনে হয় এই তো সেদিনের কথা ফেব্রুয়ারী মাসের আট তারিখ এয়ার ইউরোপায় আকাশে উড়াল দিল ১৮০ জনের পুলিশ সদস্য,গন্তব্য পাহাড় আর বন জঙ্গলে ঠাসা পশ্চিম আফ্রিকার দেশ কোত দি ভোয়ায়।এদেশের জলবায়ু আবহাওয়া ও ভূপ্রকৃতির বেশ সাদৃশ্য রয়েছে বাংলাদেশের সাথে । দেশটির চারিদিকে সবুজে শ্যামলে ঘেরা অনেকটা খাগড়াছড়ি এলাকার মত,লোকসংখ্যা একেবারেই কম আমাদের দেশের দশ ভাগের এক ভাগও হবেনা অথচ আয়তনে বাংলাদেশের চেয়ে দশ গুন বড়। হাতির জন্য বিখ্যাত এ দেশ ,সাদা হাতির দেশ বলা হতো একসময় এ দেশকে,রাষ্ট্রীয় স্হাপনা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণঃ জায়গায় বিভিন্ন ভাবে এই হাতির পোট্রেট,ছবি ,স্কাল্পচার ও মূর্তি দেখা যায়,হাতির মূল্যবান দাঁতও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে লোভনীয় বিষয় ছিল,মানুষের লোভের কাছে সেই বন জঙ্গলের পাহাড়ী দেশ থেকে হাতির অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথে।

ফরাসীরা দীর্ঘঃকাল এ দেশ শাসন করেছে।যদিও ১৯৬০ সালে তাদের কবল থেকে মুক্ত হয় তারপরও এখনও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে তাদেরেই নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।আইভরিকোষ্টের প্রধান সিটি আবিদজানের এয়ারপোর্টের কাছে বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে ফ্রান্সের ক্যান্টন মেন্ট “লিকন” স্বাধীন একটা দেশে আরেকটা দেশের ক্যান্টন মেন্ট থাকবে ভাবা যায়?আইভরি কোষ্টের জাতীয় প্রতীক হাতি ,আর এ হাতিকে একমাত্র একটা প্রাণীই হত্যা করতে পারে আর তা হলো লিকন।তাই এদেশে অনেক কিছুই ফ্রান্সের আদলে ,রাস্তাঘাট ,বিভিন্ন স্হাপনা,পড়াশুনার সিস্টেম,ভাষা,টেকনোলজি সব কিছুই ফ্রান্স অরিয়েন্টেড।যদিও ফ্রান্স বলে থাকে এদেশ কে বহিঃশত্রুর হাত থেকে রক্ষা ও জাতিগত হানা হানি থেকে মুক্ত রাখতে তারা সাহায্য করছে মাত্র।কিন্ত আইভরিয়ান দের ধারনা একেবারেই বিপরীত,সাহায্যের ব্যানারে তারা এ দেশকে শাসন শোষন ,বিভিন্ন খনিজসম্পদ(যেমনস্বর্ণেরখনি,ইউরেনিয়াম,কাঠ ও বিভিন্ন মিনারেল) লুটপাট করছে। আইভরি কোষ্টের রাজধানী ইয়ামুসুক্রু।প্রধান শহর আবিদ জান থেকে ৩০০কিমি উত্তরে অবস্হান।

এখানেই বাংলাদেশী পুলিশের ১৮০ জন সদস্যের কর্মঃস্হল।আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে আইভরিকোষ্টই সবচেয়ে সুন্দর ।আফ্রিকার কথা ভাবতেই মানস পটে যে চিত্র ভেসে উঠে যুদ্ববিধ্বস্ত,ভুখা নাঙ্গা,অসহায় দরিদ্র আর দুর্গঃম এলাকা হবে কিন্ত এখানে এসে এর কোনটিই পেলামনা।রাস্তাঘা্ট চমৎকার ও প্রশস্ত বিভিন্ন শহরের সাথে যোগাযোগ ব্যসস্হা দারুন।আবিদজান আসলে মনে হবে ইউরোপের কোন শহরে এসেছি আর ইয়ামুসুক্রু হলো এ দেশের সবচেয়ে সুন্দর শহর,দারুন পরিচ্ছন্ন সুবিশাল ও প্রশস্ত রাস্তাঘাট ,মানুষ জন খুবই কম এবং শান্তপ্রকৃতির।শহরের মাঝখানে দারুন এক লেক আরেক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।রাতের এই সিটিকে দেখতে অপূর্বঃ ও মনোরম মনে হয়,চারদিকে আলোর ঝলকানী আর লেকের পাশে বারগুলোতে যখন মিউজিকের ছন্দে কপোত কপোতিরা আয়েশী ভঙ্গিতে বিয়ারে হুইস্কিতে ঠোট লাগায় অদ্ভুৎ লাগে তখন।অন্য ইউনিটের জাতিসঙ্গের অনেক সদস্য ও পর্যঃটকগন এই শহরকে বেড়ানোর তালিকায় তাই প্রথম রাখে।পরবর্তী পর্বে ইয়ামুসুক্রু নিয়ে ডিটেইলস লিখব্।