ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

জাফর ইকবাল স্যারের এক লেখায় পড়েছিলাম মানুষের যতগুলো অনুভূতি আছে তার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি হচ্ছে ভালবাসা।আর এই পৃথিবীতে যা কিছুকে ভালবাসা সম্ভব তার মাঝে সবচেয়ে তীব্র ভালবাসাটুকু হতে পারে মাতৃভূমির জন্যে।


রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেও একুশে ফেব্রুয়ারীর রাত বারোটার প্রথম প্রহর থেকে আজ রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত চিটাগাং এর সর্বত্র লাবিবাদের নিয়ে ঘুরে জন মানুষের স্রোত চেতনা আবেগ উচ্ছাস দেখে মনে হচ্ছিল জাফর ইকবাল স্যার যদি মাতৃভূমির সাথে মাতৃভাষা কথাটাও যোগ করত তাহলে বোধ হয় লেখাটা আরও পরিপূর্ণতা পেত। যারা কখনো মাতৃভূমি মাতৃভাষার জন্য ভালবাসাটুকু অনুভব করেনি তাদের মত দুর্ভাগা মনে হয় আর নেই।

পাকিস্তান সৃষ্টির একবছরের মধ্যেই ঢাকায় মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ঘোষনা করে বসলেন উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাস্ট্রভাষা।তৈরী হলো শোকাবহ একুশে ফেব্রুয়ারী।যেখানে আমাদের ভাষা সৈনিকেরা প্রাণ দিয়েছিলেন,সেখানে নির্মিত হলো প্রিয় শহীদ মিনার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকা,শহীদুল্লাহ হল সংলগ্ন মেডিক্যাল কলেজ,অহংকারের প্রতীক শহীদ মিনার প্রাঙ্গন,কলাভবন সংশ্লিষ্ট আমবাগান এগুলো শুধু আমাদের অহংকারের প্রিয় জায়গাই নয় এক একটি ইতিহাস।তাই ঢাকায় গেলে সেই প্রিয় জায়গা সেই ইতিহাস সেই চেতনায় উপস্হিতি জানান না দিয়ে আসতে ইচ্ছা করে না।আর ডিসেম্বর ফেব্রুয়ারী মার্চ মাস এলেতো কথাই নেই আবেগে বুদ হয়ে পড়ি।

সেই চেতনা আর ভালবাসা থেকেই অফিসিয়াল কাজের ব্যস্ততার পরও লাবিবাদের নিয়ে চট্টগ্রামে একুশে ফেব্রুয়ারীর আজকের দিনে কোথায় যাব তার প্লান করে ফেলি গতকালই।শহীদ মিনারে ফুল দেয়া,বইয়ের রাজ্য বইমেলায় বই কেনা,একুশের অনুষ্ঠানে উপস্হিত থাকা,দুপুরে হ্যান্ডিতে লাঞ্চ সারা এবং সন্ধ্যায় থিয়েটারে বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রে মঞ্চ নাটক দেখা ইত্যাদি সব কিছু হচ্ছিল পরিকল্পনা মাফিকই কিন্ত রয়েল হাটে রাতের ডিনারের আগে ডিসি হিলে একুশের সাংস্কৃতিক মঞ্চে গিয়ে একেবারে থ হয়ে গেলাম, মনে হচ্ছিল লাখো মানুষের প্রাণের জোয়ার।এত ভীড়ের মধ্যেও লাবিবাদের দেখলাম অন্যদের মত বাঁধভাঙা উল্লাস করতে, তারা প্রটোকল ছাড়াই আরও কিছুক্ষন সেখানে থাকবে ভেবে ভাল লাগল।এত রাজনৈতিক সহিংসতা অনিশ্চয়তা হানাহানির মধ্যেও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষদের একাত্বতা দেখে ভাবতে ইচ্ছে হল তারা যদি বিপরীত কিংবা ভিন্ন মতের মানুষদের এরকম এক প্লাটফরমে দাড় করিয়ে সমঝোতা আর ঐক্যের আহবান জানাতে পারত তাহলে আমরা বোধ হয় বেচে যেতাম।

যাঁদের রক্তের বিনিময়ে পেয়েছি প্রেরণার একুশে ফেব্রুয়ারী তৈরী হয়েছে অহংকারের শহীদ মিনার এবং অর্জিত হয়েছে প্রিয় বাংলা ভাষার গৌরবোজ্জল ইতিহাস
বায়ান্নোর সেই অকুতোভয় ভাষা সৈনিকদের প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।