ক্যাটেগরিঃ মানবাধিকার

মনে আছে ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ রাজধানীর বেগুনবাড়ীতে ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে চাপাতি দিয়ে খুন করে যখন ধর্মান্ধ জঙ্গিদের দলটি পালাচ্ছিল, তখন দুই জঙ্গিকে প্রায় একাই ধরে ফেলেছিলেন লাবণ্য নামের এক হিজড়া ?

আর আমরা যারা স্বাভাবিক মানুষ তারা সেদিন দাঁড়িয়েছিলাম দায়হীনভাবে । সেদিন আমরা সাবাশ ! সাবাশ ! রব তুলেছিলাম এই বলে যে, একজন হিজড়া একাই দুইজন জঙ্গিকে পাকড়াও করে ফেলল ! একজন হিজড়া !

কিন্তু আমাদের অভিজাত চোখে সেদিনও লাবণ্য মানুষ হয়ে উঠতে পারেনি । হিজড়া আবার মানুষ হয় নাকি ! আমরা কেউ তাঁর খবর রাখিনি । রাখার প্রয়োজন বোধ করিনি ।
অথচ সে যদি আমাদের মতো মানুষ হতো তাহলে তাঁকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করা হতো, মিডিয়া তাঁকে খুঁজে বের করে তাঁর সাক্ষাৎকার ছাপতো । সেটা হয়নি, কারণ সে হিজড়া । অথচ আমরাই হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছি ।

হিজড়ারা এই সমাজেরই অংশ। সুস্থ- স্বাভাবিক মানুষের ঘরেই হিজড়াদের জন্ম হয় । হিজড়াদের পিতা-মাতা এই সমাজেই বাস করে , তাঁরা কলা গাছ ফেরে জন্ম নেয়নি । তাঁদের পিতা-মাতারা লোক-লজ্জার ভয়ে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখে । ‘কমন জেন্ডার ‘ সিনেমায় ব্যাপারটি তুলে ধরা হয়েছে দারুণভাবে ।

সম্প্রতি উত্তরায় টাকা তোলা নিয়ে একদল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ (হিজড়া) আরেক দলের একজনকে গুলি করেছে । ব্যস, তাতেই কেল্লা ফতে । হিজড়াদের বাড়াবাড়ি আর সহ্য করা হবেনা, এদেরকে এখনই যেভাবেই হোক দমন করতে হবে । এ নিয়ে সে কি তোলপাড় !

কিন্তু আমাদের যাদের লিঙ্গ আছে অর্থাৎ পুরুষ লিঙ্গ, স্ত্রীলিঙ্গ তারা যে প্রতিনিয়ত আকাম কুকাম করে দেশের বারোটা বাজাচ্ছি, খুন-খারাবি, চান্দাবাজি, ধর্ষণ করেই চলছি সে বিষয়ে রাষ্ট্রের ভূমিকা এত স্থবির কেন ?????