ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

একঃ শহরের বাঁকে বাঁকে কয়দিন আগে ও অনেক সিনেমা হল ছিল। সপ্তাহান্তে মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষ দলে দলে যেখানে ভিড় করতো। ছুটির দিনগুলোতে লাইনে দাড়িয়ে টিকেট পাওয়া যেতো না এমনকি রীতিমতো দুই তিন গুণ দামে টিকেট নিয়ে মানুষ সো দেখে বাসায় ফিরত।
আমাদের নাকের ডগার ওপর দিয়ে ওই হলগুলো ভেঙে হাইরাইজ ভবন উঠছে কিংবা মার্কেট, বিপনি বিতান উঠছে।

দুইঃ অল্পদিন আগেও ফুলবল খেলা বলতে অজ্ঞান ছিল এই শহরের মানুষ। জাতীয় লিগের খেলাগুলোতে হাজার হাজার মানুষে স্টেডিয়াম ভর্তি হয়ে যেত। একদলের সমর্থক অন্য দলের সমর্থকের উত্তেজনা সামাল দিতে পুলিশ হিমশিম খেত।
অবস্থা এমন হয়েছে ডমেস্টিক ক্রিকেটে ম্যাচগুলোতেও স্টেডিয়াম খালি পড়ে থাকে। এখন অবশিষ্ট আছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট।

তিনঃ নিকট অতীতে শহরের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে গোপন পতিতা পল্লী ছিল। এক সময় এগুলো ভেঙে দেয়া হল। যৌন কর্মীরা এখন সাড়া শহরে ভাসমান অসহায় মানবেতর জীবন যাপন করে, মানুষের চোখের সামনে। কেউ দেখে ও দেখেনা।
সন্ধ্যায় কিছু স্থান দিয়ে যদি কেউ পরিবার নিয়ে যাতায়াত করে, তার পরিবারের নারী সদস্যরা অনাখাংকিত পরিস্থিতিতে পড়তে পারে। সীমিত আয়ের খদ্দেররা রাস্তার মোড়ে দাঁড়ায়। কিন্তু অবস্থাপন্নরা হয়ত শহরের বিলাশ বহুল ফ্ল্যাটেই এরকম পরিসেবা পায়।

কাজ কর্মের ব্যস্ততার যাত্রিক জীবনই তো শহরের নাগরিক জীবন। কিন্তু কাজের ফাকে মানুষের বিশ্রাম দরকার, বিনোদনের প্রয়োজন; এই বাস্তব সত্য অস্বীকার করার কোনও সুযোগ নাই। সহজ লভ্য সমাজ অনুমোদিত বিনোদনের পরিসেবাগুলো সংকুচিত হয়ে যাওয়ার ফলে মানুষ অপেক্ষাকৃত কঠিন বিনোদন খুঁজবে আর তাতে অভ্যস্থ হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সমাজের অনুমোদনহীন বিনোদন হচ্ছে মূল্যবোধহীন বিনোদন। এমন বিনোদন মূল্যবোধকে দ্রুত অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যাবে। সমাজ শৃঙ্খলা হারাবে। নেশা, ড্রাগ, অশ্লীলতা বাড়ছে সবার চোখের সামনে। দিনে দিনে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা।
গনহারে মানুষ যখন এই অননুমোদিত বিনোদনে আসক্ত হবে তখন আর সময় থাকবেনা। সবচাইতে আশংকার বিষয় হচ্ছে এই ব্যাপারটি নিয়ে নগরের কেউ ভাবে না।