ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

উদাস মেঘের মতো ঘুরে ঘুরে একদিন আবার এসে পৌঁছাই সেই আশ্রমের ফটকে। আহ তেমনিই আছে সেই নির্জন রাস্তার বাঁক, জেলখানার মতো উঁচু উঁচু দেয়াল দিয়ে ঘেরা।

শুধু ওই জেলটা ছিল অনেক নিরাপত্তা বেষ্টিত; আর বাইরে তাঁদের অপেক্ষারত উদ্দিগ্ন প্রিয়জনদের প্রচণ্ড ভিড়। এখানে বাইরে অপেক্ষার কেউ নাই। অবশ্য এই বিপথগামী আমলার জন্য সেখানেও এই এগারো বছর অপেক্ষায় কেউ ছিল না।

মুক্তি পেয়ে বেড়িয়ে মহল্লার মোড় দিয়ে যেতেই রঞ্জু চাচার চা’র দোকানে এক কুঁজো বুড়া আমায় হাত ইশারায় ডাকে। কাছে গিয়ে দেখি সেই বুড়াই রঞ্জু চাচা; বলে, ছয় বছর আগে আমার মেয়েটাকে আজিমপুরে মাটি দিয়ে এসেছে।

পরের বছর গিন্নি আবার ঘর বেধেছিল, বললেন; এরপর তার নামে কেনা ফ্লাটটি বেচে কোথায় যেন চলে গেছে কেউ জানে না। তাকিয়ে দেখি আমার বেলকনিতে ঝুলছে কারো রঙিন ভেজা শাড়ি। মাথা ঝিমঝিম, চোখ বন্ধ করে ফীরে চলি একা।

বাতাসে ভেসে বেড়ানো ধূসর স্বপ্নযাত্রা। পুরানো ধারালো তীরের দুঃস্বপ্নের স্মৃতিগুলো আমাকে বিদীর্ণ করে চলে। ঘুরপাক খাই, হেটে যাই কোথায় নিরুদেশে।

এসে পৌঁছাই সেই আশ্রমের ফটকে; বিয়ের এক বছর পর যেখানে মাকে রেখে গিয়েছিলাম, আমি নিজে। অনেক অপেক্ষার পর সন্ধ্যায় একটা গাড়ি গেট দিয়ে ঢুকে; দৌড়ে গিয়ে আমিও ঢুকে পড়ি।

অফিসের খাতা দেখে বয়স্কা সেবিকা অনেক্ষন আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল তাকিয়ে থাকে। শেষে বলে, কিছুক্ষন আগে আপনার মায়ের দেহ আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামে হস্তান্তর করা হয়েছে।