ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

পৃথিবীর সাত বিলিয়ন (সাত শত কোটি) এরও অধিক মানুষ এখন সত্যি সত্যিই একটি ইউনিপোলার বিশ্বের নাগরিক। যেখানে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র সুপার পাওয়ার। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এই বাস্তবতা ক্রমশঃ গোটা পৃথিবীর কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠছে দিনে দিনে।

বিশ্বের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক বিষয়াদি এখন আর কোনও দেশের একক ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না, তা সম্ভব ও নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোভাব বিবেচনায় রেখেই সব দেশ নিজের ঘরের জন্য, বাইরের জন্য নীতি-পদ্ধতি ঠিক করে।

আর এই গ্লোবালাইজড আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নেতৃত্বের চুড়ায় একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান নিশ্চিত করেছে। এবং এই ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বকে অস্বীকার করার কোনও উপায় নাই। এই বাস্তবতা অস্বীকার করার মতো বোকা হয়তো এখন কেউই নাই।

তাই গোটা দুনিয়ার জলবায়ু, শান্তি, বাণিজ্য থেকে শুরু করে সব কিছুর বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দিক নির্দেশনা দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দিকে চেয়ে থাকতে হয়।

কিন্তু আমেরিকাও তো একটি দেশ। তার আভ্যান্তরিন রাজনৈতিক-সামাজিক অবস্থাই প্রাথমিকভাবে নির্ণয় করে দেয় তার এগিয়ে যাবার কর্ম পরিকল্পনা। এরপর আছে তার কাছের, নিকটতম এবং ঘনিষ্ঠ মিত্রদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি।

কিন্তু আমেরিকার নেতৃত্বে থাকা বাকী বিশ্ব তার কাছে কিছুই আশা করবে না, এমনটি তো হতে পারে না। তবে এ ব্যাপারে যে আমেরিকা একেবারে যে নির্লিপ্ত তা কিন্তু নয়। দেশের ভীতর প্রেসার গ্রুপ, ইন্টারেস্ট গ্রুপের কথা যেমন মাথায় রেখে আমেরিকা নীতি-পদ্ধতি নির্ণয় করে; তেমনি দেশের বাইরের পুরা বিশ্বেও এমন অনেক জোট, গ্রুপ, এলায়েন্স এর বিষয়েও তার ভাবতে হয়।

তার পরও বিশ্বের এমন হাজারো বিষয় আছে যাদের দুর্বল আওয়াজগুলো আমেরিকার ব্যাস্ত নীতি নির্ধারকদের কান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। সেই সব ইস্যুগুলো থেকে আজ আমেরিকা নিজেরই ইনপুট নেয়ার সময় হয়েছে।

অনেকে এসব কথাকে ঔপনিবেশিক মনের ভাবনা বলে উড়িয়ে দিতে পারেন। কিন্তু জলন্ত বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে আজ সময় এসেছে নিজেদের স্বার্থের কথা তুলে ধরার।

আমেরিকা যদি দুনিয়াকে তার নীতি কৌশল দিয়ে এগিয়ে নিতে চায়, তাহলে দুনিয়ার সব মানুষের জন্য তার কমিটমেন্ট থাকা উচিত। আর দুনিয়ার মানুষ আশা করে এই কমিটমেন্টের কথা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থীদের ইশতিহারে প্রতিফলিত হোক।