ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

Untitled2-660x330

মুক্ত মত কোন খারাপ জিনিস না। যে কোন বিষয়ে মানুষ ‍মুক্ত মত দিতে পারে। কিন্তু মুক্তমত একটি নির্দিষ্ট পরিসীমার মধ্যে থাকা উচিত। মুক্তমতের মাধ্যমে এমন কিছু বলা উচিত নয় যেটা অন্য কারো বিশ্বাসে আঘাত হানে।ধর্ম মানুষের একটি আবেগের জায়গা।আর এই আবেগ নিয়ে কেউ ঠাট্টা তামাশা করলে সেটা সচরাচর কেউ মেনে নিবে না সেটাই স্বাভাবিক।

অনেক মুক্তমনাকে দেখা যায় তারা মুক্তমত দিতে গিয়ে ধর্মকে টেনে আনেন।ধর্মের বিভিন্ন রকম অপব্যাখ্যা দিয়ে একটি ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করছেন।আর যারা এসব লিখেন তারা সব রকম ধর্মের উর্ধ্বে। এক কথায় তাদেরকে নাস্তিক বলা হয়।এখন কথা হলো যারা নাস্তিক তাদের প্রতি আমাদের কোন অভিযোগ নেই। তারা ধর্ম বিশ্বাস করেন না এটা সম্পূর্ণ তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। এখন কথা হচ্ছে,তারা নাস্তিকতাবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানবে এটা কখনো সমীচিন হতে পারে না।নাস্তিকদের বিভিন্ন রকম কথা আর বক্তব্য থেকে বোঝা যায় তারা মুসলিম জঙ্গীবাদের ঘোরতর বিরোধী। আমিও জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী নই।কারন ধর্মীয় লেবাজের আড়ালে তারা সমাজকে প্রতিনিয়ত ধ্বংস করছে।উস্কানিমূলক কথা বলে,কাজ করে মানুষে মানুষে বিভাজন সৃষ্টি করছে।

তবে আমরা নাস্তিকদেরও জঙ্গিদের সাথে তুলনা করতে পারি। নাস্তিকরা তাদের লেখনির মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিচ্ছেন।অথচ তারা কিন্তু সবসময় অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসছেন।কিন্তু আপাতোদৃষ্টিতে দখো যায় জঙ্গিদের মতো নাস্তিকরা সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দেয়ার প্রধান কারিগর। শুধু পার্থক্য,জঙ্গিরা ধর্মের লেবাজে আর নাস্তিকরা ধর্মের উর্ধ্বে এসব কাজ করছেন।

আমরা যারা সাধারন জনগন তারা কখনোও নাস্তিকদের মতাদর্শ নিয়ে মাথা ঘামাই না। তারা কি করলো না করলো সেটা নিয়ে আমরা চিন্তিত নই।শুধুমাত্র তারা যে ভুল পথের অনুসারী সেটা ভেবে আফসোস করি। এর বেশী কিছু না। অথচ আমরা যদি খেয়াল করি,অনবরত তারা অযৌক্তিক কারনে তাদের লেখনিতে ধর্মকে  ছোট করছেন। বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিদের নামে অশ্লীল কু-রুচিপূর্ণ কথা বলছেন,যা হয়তো কোন ধর্মে বিশ্বাসী মানুষ সহ্য করতে পারেন না।

এখানে একটা গল্প বলা যাক। হয়তো গল্পটা সবার জানা,তবুও বলছি- “এক গ্রামে একজন মহিলা ছিলেন। স্বভাবে প্রচন্ড ঝগড়াটে। গ্রামের মানুষের সাথে প্রতিদিন ঝগড়া করতেন। একদিন গ্রামের লোকজন সিদ্ধান্ত নিলেন যে,তারা আর ঐ মহিলার সাথে কোন কথা বলবেন না। যেই বলা সেই কাজ। সবাই কথা বন্ধ করে দিলো। এদিকে মহিলা ঝগড়া করার জন্য উপায় বের করা শুরু করে দিলো। উপায় পেয়েও গেলো।

এক সকালে মহিলা পুরো গ্রামে ঢোল বাজিয়ে বাজিয়ে একা চিৎকার করে বলছে,‘একমন গোস্ত একমন লবন দিয়ে রানবো’। অবিরত এভাবে চিৎকার করেই চলেছে। তার চিৎকারে বিরক্ত হয়ে একজন বললো,‘তুই একমন গোস্ত একমন লবন দিয়ে রান্না কর,তাত আমাদের কি?’ অমনি মহিলাটি ঝগড়া করার ছুতা পেয়ে গেলো।”

গল্পের মহিলা চরিত্রটির সাথে একজন নাস্তিকের চরিত্র পুরোপুরি মিলে যায়। কিভাবে মিলে যায় সেটা একটু ভেবে দেখলে বোঝা যাবে।

এক  মনিষী বলেছিলেন,“বিজ্ঞান সম্পর্কে অল্প জ্ঞানীরা ঈশ্বরে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।”

এবার আসি অভিজিৎ রায় হত্যা প্রসঙ্গে। অভিজিৎ রায় হত্যার প্রসঙ্গে অনেকে এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। আবার অতি উৎসাহী কেউ কেউ ইসলাম ধর্মকে বাজে ভাষায় গালাগাল করছেন।

মানুষ হত্যা কোন কিছুর সমাধান হতে পারে না। কাউকে হত্যা করা মানে নিজের কাছে নিজে হেরে যাওয়া। মুসলামানরা হেরে যাবে এটা কখনো মেনে নেয় যাবে না। সেই আরব যুগে নবী হযরত মুহাম্মদ(সঃ) এর সময় আমরা মুসলমানরা সব রকম বিধর্মীদের সাথে যুদ্ধে জয় লাভ করেছি।ইসলামের বিধান প্রতিষ্ঠিত করেছি।

একটা বিষয়ে আমি বেশ অবাক হয়েছি।অনেক মুসলিম (জানি না আদৌ তাই কিনা) এ হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। কিন্তু এসব মুসলমানদের তখন কোন বিবৃতি দিতে দেখা যায়নি যখন এই অভিজিৎ এবং তার অনুসারীরা ইসলামের বিরুদ্ধে,হযরত মুহাম্মদ(সঃ) এর বিরুদ্ধে আজে বাজে কথা লিখতেন!

আর কথা বাড়াবো না। আমি জানি আমার পরিচিত অনেকে আছেন যারা এই লেখা পড়ার পর আমাকে সহজভাবে নিবেন না।তবুও কিছু করার নেই। বিবেকের তাড়না থেকেই লেখা। শেষ করার আগে একটি কথা মনের ভিতর খুব বেশী উঁকি মারছে,নাস্তিকরা এতো কিছু জানেন,এতো কিছু বোঝেন,সদা শান্তিপ্রিয় এই মানুষগুলো কি জানেন না কারো বিশ্বাসে আঘাত হানলে সমাজে অশান্তি সৃষ্টি হতে হয়?

মন্তব্য ২ পঠিত