ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

জয়ের উল্লাসে নিজে কাঁদলেন, কাঁদালেন সবাইকে। কে ভেবেছিলো এই ছোট্ট ছেলের এত জনপ্রিয়তা!  একাই এক তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে বিজয় লাভ করবে? সেই ভাবনা কারো মনে না আসলে ও সেটা ই করে দেখিয়েছেন কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী শাকিল শেখ।

প্রথমে প্রার্থী হওয়ার কথা চিন্তাও করে নি সে। গরীবের সন্তান নির্বাচনের কথা কি  চিন্তা করা যায়!  যেখানে নূন আনতে পান্থা ফুরায় তার বাবার। বন্ধুদের উৎসাহে তাই প্রার্থীও হয় সে। আর বন্ধুরাও তাকে ঠকায় নি! কথা রেখেছেন বন্ধুরা, আর তাইতো একচেটিয়া ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন বন্ধুকে।

সারাদেশের ন্যায় কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ও অনুষ্ঠিত হয়েছে ছোট্ট সোনামনিদের ভোট যুদ্ধের লড়াই স্কুল কেবিনেট নির্বাচন। উৎসব মুখর পরিবেশে সোমবার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত চলে ভোট গ্রহণ। ২৪ জন ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেনীর প্রার্থী অংশ নেয় ভোট যুদ্ধে। ৫০৮ জন ভোটারের মধ্যে ৪৩৯ জন ভোট দেন। ৩৯ টি পঁচা যায়।

তবে সবাইকে আশ্চার্য করে দেন শাকিল নামে অষ্টম শ্রেনীতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী। শাকিল সবাইকে ছাড়িয়ে নিজের জনপ্রিয়তার প্রমান দেন। ২৯৬ ভোট পেয়ে স্কুল কেবিনেট প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। তবে শাকিলের পথ চলাটা মোটেও হয়নি সহজ!

জয়ের পর আবেগে আল্পুত শাকিল!

এবার শাকিলের গল্পটা শুনুন।  শাকিল কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর এক মেধাবী ছাত্র।রোল ১। দরিদ্র ঘরের মেধাবী সন্তান শাকিল। বাবার টানা-টানির সংসার।পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে শাকিল ছোট। বাবা শফিকুর রহমান ঢাকার পাথর শ্রমিক। বড় ভাই দিন মজুর। একটি বোন আইয়ে পড়ে। তাদের পড়ালেখার খরচ চালাতে বাবাকে হিমশিম খেতে হয়।

শাকিল ২০১৩ সালে প্রাথমিক সমাপনী  পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়েছে। সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিও পেয়েছিলো সে। স্কুল থেকে উপবৃত্তি পায় সে। প্রধান শিক্ষক সহ সকল শিক্ষকরা তাকে খুব আদর ও স্নেহ করে বলে জানায় সে। তার পথ চলাটা খুবই কষ্টদায়ক। সে জানায় দারিদ্রতা কখন জেনি তার জীবনের পথের কাঁটা হয়ে সামনে দাড়ায়! তবে নির্বাচনে জেতার পর তার বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলে এ ঋন শোধরাবার নয়। এমন কি প্রতিটি শিক্ষার্থীর ঋন ও শোধরাবার নয়।

সব সময় সবার পাশে থাকার ইচ্ছে পোষন করেন শাকিল। এর আগে সকালে আমাদের ফরিদগঞ্জের সাথে কথা হয় শাকিলের। শাকিল জানায় আমি এজেন্ট রাখেত পারি নি টাকার জন্য। আমি তাদের নাস্তা খাওয়াবো সেই পয়সা টুকু নেই। এ কথা বলে অঝড়ে কাঁদলেন শাকিল!