ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 
2016-04-27-23-54-19-058

ঘরে বিদ্যুতের বাতি ও ফ্যান থাকলে ও পল্লী বিদ্যুতের সীমাহীন লোডশেডিং এর ফলে কোমলমতী শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভরসা মোমবাতি! এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা! একে তো অসহনীয় গরম, তার উপর আবার ফরিদগঞ্জ জোনের পল্লী বিদ্যুতের সীমাহীন লোডশেডিং এর ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে অশান্তি। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু বয়সী মানুষের ভোগান্তীর যেন শেষ নেই। অসহনীয় গরম আর ঘন ঘন লোডশেডিং এ বিপদগ্রস্থ ফরিদগঞ্জের গ্রাম্য এলাকার জনপদগুলো।

গ্রীষ্মের তাপদাহে পুড়ছে দেশ,তাপমাত্রা ও ৪২ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর কাছাকাছি। এই সময়টাতে বেশীরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা চলে। এছাড়া দেশের বৃহৎ পাবলিক পরীক্ষা এইস,এস,সি ও চলছে এ সময়। এমন এক সময় বিদ্যুতের এমন অসহনীয় লোডশেডিং জনমনে বিরক্তির সৃষ্টি করেছে।

কোমলমতী শিশুদের যারা স্কুল,কলেজ পড়ুয়া তাদের পড়া-লেখায় ঘটছে বেঘাত। ফরিদগঞ্জের, কড়ৈতলী গ্রামের দুই শিশু ইফাজ সরকার ও সামিয়া। দুইজনেই আপন ভাই,বোন।পড়েন যথাক্রমে ৭ম ও ৫ম শ্রেনীতে।

সন্ধ্যার সময় পড়ার টেবিলে দুজনে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়ছে। কথা হয় তাদের সাথে। তারা বলে প্রতিদিনই পড়ার সময়টাতে বিদ্যুত থাকে না। বিশেষ করে গত পাঁচ,সাত দিন মাত্রাটা এত বেড়েছে যে সহ্য শক্তি লোপ পেতে চলেছে।

সামিয়া পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রী। সামনে সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিবে। প্রস্তুতির কথা জানতে চাইলে সে বলে লোডশেডিং এর ফলে পড়ালেখা করতে কষ্ট হয়।মোমবাতির আলোতে বইয়ের ছোট পড়াগুলো বুঝতে কষ্ট হয়।

জানি না এভাবে পড়ালেখা করলে সমাপনীতে ভাল রেজাল্ট করতে পারি কি না। অভিযোগের সুরে ইফাজ বলে আমরা গ্রামে থাকি বলেই হয়তো এত ভোগান্তি পোহাতে হয়। ফরিদগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৭৭ হাজার। এসব গ্রাহকের চাহিদা মেটানোর জন্য প্রয়োজন ২০ মেগাওয়াট। দুঃখের বিষয় সরবরাহ নাকি মাত্র চার – পাঁচ মেগাওয়াট। এত বিশাল গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে তাই ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং দিচ্ছে পল্লী বিদ্যুতের কর্তব্যরতরা। দিবানিশি বিদ্যুতের এই লোডশেডিং এর খেলায় জনজীবনে নেমে এসেছে অশান্তি। অতিষ্ঠ জনপদ বিক্ষুব্দ মনভাব পোষন করেছেন। পল্লী বিদ্যুত জেনো মানুষের নিকট এখন ভোগান্তীর আরেক নাম। কবে এই সমস্যার সমাধান ঘটবে এ বিষয়ে ও কেউই ধারনা দিতে পারছেন না।