ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

রানার ছুটেছে তাই ঝুম,ঝুম ঘন্টা বাঁজছে রাতে,রানার ছুটেছে খবরের বোঝা হাতে—–রানার,রানার ছুটেছে রানার।দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছুটে রানার,কাজ নিয়েছে সে নতুন খবর আনার। সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতায় রানার আর চিঠির কথা উল্ল্যেখ থাকলে ও ডিজিটালের ছোয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে রানাররা। এখন আর লন্ঠন হাতে নিয়ে, রাতের আঁধারে ছুটে যেতে হয় না মানুষের দ্বারে দ্বারে।

ফরিদগঞ্জে মোট ৩০ টি পোস্ট অফিস। যার মাঝে ২৭ টি শাখা, ২ টি সাব ও মূল উপজেলা অফিস। তথ্য বলছে বেশীরভাগ ডাকঘর গুলোর চিত্র ই ভয়াল।মরিচা পরে আছে ডাকবাস্ক গুলোতে।মাকড়সায় জড়িয়ে আছে দেয়াল। এছাড়া যথাযথ জনবল ও নেই এসব ডাকঘর গুলোতে।নেই ভাল কোন সরঞ্জাম,আসবাবপত্র বলতে ভাংঙ্গা টেবিল। আবার কোনটা তালা ঝুলানো।

20151206_125459

মরিচা পরে আছে ডাকবাস্ক গুলোতে!

হাতে লেখা চিঠি আসে না বলে অলস সময় পার করেন পোস্ট অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা। তবে এখনো সকল সরকারী চিঠি পত্র আসে ডাকঘরের মাধ্যমে। স্কুল,কলেজে এমন কি চাকরির চিঠি-পত্র ও আসে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে।

তথ্য প্রযুক্তির আধুনিকতার ফলে দিন দিনই নতুন, নতুন সেবা পাচ্ছে মানুষ। সেই জমিদারদের আমল থেকেই চিঠির প্রচলন বাংলার প্রতিটি ঘরে, ঘরে। এক সময় বার্তা আদান-প্রদান এর একমাত্র মাধ্যেম ছিলো এই ডাকঘর। কিন্তু এখন দ্রুতগামী যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে,অনেকে ভূলতে বসেছেন চিঠির ইতিহাস।

বিদেশ থেকে টাকাও আসতো ডাকঘরের মাধ্যমে। একটি চিঠি বিদেশ থেকে এ দেশে আসতে সময় লাগতো, কয়েক মাস- কয়েক বছর। কিন্তু এখন মূহুর্তেই পৌছানো যায় খবর তথ্য প্রযুক্তির আধুনিকতার ফলে। চিঠির বদলে এখন মানুষ ব্যবহার করে, ই-মেইল, ফেসবুক, টুইটার, ইমো, ভাইবার, হোয়াটস এ্যাপ সহ নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। কিন্তু পোস্ট অফিস গুলোর এমন ভয়াল চিত্র হলে, একদিন প্রজন্ম ভূলতে বসবে চিঠির ইতিহাস।

ভুক্তভূগী জনসাধারন মনে করেন এই পোস্ট অফিস গুলো সংস্কার যদি করা হতো, আধুনিক করা হতো উপজেলার, গ্রামের ডাক ব্যবস্থা। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ডাক ব্যবস্থা উন্নত হতো, তবে গ্রামের মানুষদের ডাক পাঠানোর জন্য শহরের দিকে ঝুঁকতে হতো না।

গ্রামবাসী মনে করেন পোস্ট অফিস গুলো যদি ইন্টারনেট পরিসেবার আওতায় আনা হতো এবং ডাক ব্যবস্থার মান আরো বারানো হতো তবে ডাকের প্রতি মানুষের আস্থা আরো বেড়ে যেতো।