ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানেই নিজেকে একটু ব্যতিক্রম করে সাজানো। ঈদ সকল মানুষের জীবনে বয়ে আনে অনাবিল আনন্দ। হোক সে ধনি বা দরিদ্র। ঈদ এলেই যেমন নতুন কাপড় কেনার ধুম পরে, তেমনি সেই কাপড় বানানোর জন্য ধারধারী হতে হয় দর্জিদের দ্বারে,দ্বারে। আর এজন্যই পুরো রমজান জুড়ে একটু বেশীই ব্যস্থ সময় পার করেন পোশাক কারিগড়রা। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদের পোশাক কারিগড়রা একটু বেশীই ব্যস্ত। কারন শহুরে ক্রেতারা সাধারনত রেডিমেট পোশাক ই বেশী পরিধান করেন। কিন্তু গ্রামীণ মধ্য,নিন্মবিত্ত মানুষগুলোই বেশীরভাগ দর্জিদের স্বরনাপন্ন হন। বেশীরভাগ দর্জিরাই সারারাত ধরে কাজ করেন। কাজের চাপ এত বেশী যে নাওয়া,খাওয়া ছেড়ে পোশাক বানাতে ই ব্যস্থ তারা।

ফরিদগঞ্জের গ্রামীন জনপদগুলোর আনাচে-কানাচে রয়েছে অসংখ্য টেইলার্স বা দর্জির দোকান। কথা হয় অনেক টেইলার্স ব্যবসায়ীর সাথে। তারা আমাদের জানান এবার ঈদে প্রচুর কাজ পেয়েছেন তারা। মুসলিম সসম্প্রদায়ের পবিত্র ঈদ-উল ফিতর, আযহা ও সনাতন ধর্মালম্ভীদের দূর্গা পূজার সময় ই তাদের কাজের চাপ বাড়ে।

2016-06-23-22-45-38-862

ছবিতে নেছার আহম্মেদ খাঁন একজন পেশাদার দর্জি। গত ৩০ বছর যাবত তিনি দর্জির কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন রোজা আসলেই আমাদের ব্যস্ততা বাড়ে। তবে আগের চেয়ে ব্যস্ততা কিছুটা কম। দর্জির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায়,বিদেশী রেডিমেট পোশাকে মার্কেটগুলো পরিপূর্ন বলে তাদের গ্রাহকের সংখ্যা কম। তবে যে পরিমান কাজ পেয়েছেন সেগুলো সঠিক সময় ডেলিভারি দিতেই তাদের হিমশিম খেতে হবে।

তিনি এ ব্যাপারে বিদ্যুতের লোডশেডিং কে ও দায়ী করেন। তিনি বলেন সন্ধ্যার পর এবং রাতে বেশীর ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এতে করে তাদের কাজ করতে সমস্যা হয়। কিন্তু পেশাদারিত্বের তাগিদে সঠিক সময় গ্রাহকের কাছে তাদের পোশাক পৌছে দিতে অনেকে মোমবাতির স্বল্প আলো দিয়েই কাজ করে চলেছেন।

এছাড়া জামা-কাপড় আয়রন করার জন্য বিদ্যুতের প্রয়োজন।যা কি না লোডশেডিং এর জন্য ব্যাহত হচ্ছে। তবে এতে কাজ খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে বলে ও তিনি জানান। এরপরও কথা হলো সঠিক সময় দর্জিরা গ্রাহকের নিকট পৌছে দিবেন তাদের শখের পোশাক। আর সে পোশাক পরিধান করেই পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের আনন্দের মাত্রাটা আরো বাড়িয়ে তুলবেন গ্রামীন জনপদের মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষগুলো।

লেখক – রিফাত কান্তি সেন।
বিশেষ প্রতিনিধি দৈনিক সুদিপ্ত চাঁদপুর।
প্রতিবেদক eibela.com