ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

কেউ না কেউ তো ঠিকই সাপোর্ট করতে হয়! এইতো কদিন আগে অনেক বড় বড় লোকের কাছে ছোট হয়েছিলাম। হয়তো বড় কিছু পাইনি তবু যা পেয়েছি তা ই বা ছোট কিসের। অনেক মাধ্যমে লেখা পাঠাতাম কেউ ছাপতো না,অনেক সাংবাদিকের কাছে করুনার ছলে, ভিক্ষুকের মত অনুরোধ করতাম। কেউই সাড়া দিতো না। সবার পিছনেই তো মামা, খালুদের জোর থাকে। আমার ওগুলো কিছুই নেই।

ছোট থেকে বিদ্যার্জন করেছি নিজের পকেটে এক টাকা লক্ষ টাকার সমান! অনেক কষ্টে মাধ্যমিকের গন্ডি পেরুলাম পেরুলাম উচ্চ মাধ্যমিকের ও। যদিও সার্টিফিকেট আর আমি দুইটার একটা ও মিল খুঁজে পাওয়ার নয়! অনেকটাই ভেলুলেস সার্টিফিকেট।

অনেক সময় অনেকেই নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে লিখতে গিয়ে নিজের পান্ডত্য প্রকাশ করে।আমি তেমন করতে চাই না।আর তেমন নইও। সুযোগের অভাবে অনেকবার ছিটকে গিয়েছি। পারিবারিক ভাবে ফিনালশিয়াল সাপোর্ট অত টা ছিলো না। এর পরও সামান্য ডিগ্রী যেটা অনেকে ছোট করে দেখেন সেটার শেষের দিকে আছি।

আমার বয়সী অনেককেই দেখেছি আত্মীয় স্বজনরা চাকরিতে দিয়েছেন। আমার জুনিয়র যারা তাদের ও দেখি ভাল চাকরি করছে। আমার আত্মীয় স্বজন ভাল অবস্থানে থাকা সত্তেও অনেক সময় সময়ের মারপ্যাঁচে অনেকে ফিরে থাকানোর সময় হয় না। চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়া তো অনেক দূর!

আমি যখন কোন ভাল কাজে যাই তখন কোন আত্মীয়ের পাওয়ারের পরিচয় দেই না। নিজেদের ফায়দা লুটতে অনেকে মাঝে মাঝে আমায় ব্যবহার করে। আমি বুঝে ও না বুঝার ভান করি। আমার স্পস্ট মনে আছে আমি যখন সদ্য এইস,এস,সি পাশ করি তখন আমি একটি চাকরির সার্কুলারে বিজ্ঞপ্তি দেখে এক বড় ভাইকে বলেছিলাম আমাকে চাকরিটা নিয়ে দিতে পারেন?

উনি খুব বিশ্রি ভাষায় বললেন এই চেয়ারায় চাকরি করা যায় না! স্মার্টদের চাকরিতে সুযোগ দেয়। ভাবলাম উনি হয়তো ঠিকই বলেছে। আমি তো খেঁটে নিতে চাই তবু সুযোগ হয় না আমার।

মাঝখান দিয়ে একটা স্কুলে কদিন শিক্ষকতা করি।অনেকেই ভেবেছিলো চাকরি বোধয় পার্মানেন্ট! আসলে তেমন কিছুই নয়।অতিথী হিসেবে স্কুলে ক্লাস নেয়ার সুযোগ হয়েছিলো এই আর কি! অনেকেরই আবার এটা সহ্য হয়নি। ঐ স্কুলে কত পার্ট টাইম শিক্ষক এলো গেলো কোন বিতর্ক হয়নি। আমি গেলাম আরই সব বিতর্কের জন্ম। ভাগ্যিস কোমলমতী শিশুরা আমার নামে কোন অভিযোগ করেনি।

ঐ স্কুল থেকে আমাকে আহামরি কোন টাকা ও প্রদান করতো না। যা দিতো খুশি মেনে তাই নিতাম। এর পর ও হেলা হেলা ছিলো যদিও স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমার মামা। আমাকে অনেকবার ক্লাস দিয়েও ফিরিয়ে নিতো।আমি মনে কষ্ট নিতাম না।
এ্যাসিন্টেট হেড স্যার আমায় আদর করতেন।তাই হয়তো এমনটা করতেন। সকল স্যাররা আদর করতেন। কিন্তু স্কুলে আসি এটা অনেকে পছন্দ করতেন না এটা আমি বুঝতে পারতাম। ভাবতাম আড্ডা দিতে গেলেই তো নানা নেশায় আশক্ত হতে পারি। অলস মস্তিস্ক শয়তানের কারখানা। এজন্য যেতাম।

লেখালেখিও করতাম পত্রিকায়, স্কুলের দারিদ্র শিশুদের জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে বেতন,ফিস, আনুসাঙ্গিক খরচ মউকুপের অনুরোধ করতাম। তুলে ধরেছি স্কুলের দারিদ্র শিশুদের না বলা কথা। আমি সব সময় ছেলে মেয়েদের বলতাম প্রাইভেট নয় ক্লাসে মনযোগ দেও। ক্লাসে শিখলে প্রাইভেট পড়তে হয় না।

জানি না আমি কি শিখাতে পেরেছি,তারাই ভাল জানে কি শিখেছে। আমি নিজেই তো অজান্তা, বিন্দুমাত্র জ্ঞানর্জন করতে পারি নি আজও। তবে যা শিখেছি তাই উজাড় করে দিয়েছিলাম তাদের।