ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

এখন ঘোর বর্ষা, উত্তাল নদী। আষাঢ়-শ্রাবণ এই দুই মাস নদী ভয়ংকর রুপ ধারন করে। চারদিকে পানির থৈ থৈ বিচরন। দেশের সর্ব বৃহৎ নদ- নদী গুলোর মধ্যে অন্যতম চাঁদপুরের মেঘনা আর পদ্মা। বর্ষায় নদী গুলো ব্যাপকহারে উত্তাল হয়ে ওঠে। এদের ঢেউ গুলোই জেনো জানান দেয় কতটা ভয়ংকর এ নদী গুলো। কিন্তু এই ভয়াল-উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিয়েই প্রতিদিন শত সহস্র লোক ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড়ি জমান নিজ গন্তব্যে।

চাঁদপুরে জেলায় প্রায় ত্রিশটি চরাঞ্চল রয়েছে। সাধারনত ইঞ্জিনচালিত ট্রলার গুলো শরীয়তপুর, চর রাজরাজেশ্বর, মেঘনার চর সহ বেশকটি চর অঞ্চলের যাত্রীদের পাড়াপাড় করেন। চাঁদপুরের পুরানবাজার এলাকার মদিনা মসজিদ ঘাট, ভূঁইয়ারা ঘাট, মৌলভীর ঘাট ও ১নং গুদারাঘাট থেকে ট্রলার গুলো ছেড়ে যায় চরাঞ্চলের উদ্দেশ্যে।

চরাঞ্চলে যাওয়ার একমাত্র বাহন এই ইঞ্জিন চালিত ট্রলার বলেই শত সহস্র চরাঞ্চলবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল ঢেউ উপেক্ষা করে তাদের নিত্যনামিত্ত কর্ম সারতে চাঁদপুরে আসেন। চরাঞ্চলে উৎপাদিত শাক-সবজি ও পণ্যদ্রব্য বিক্রি করতে তারা চাঁদপুর কে ব্যবহার করেন। চরাঞ্চলবাসী সেগুলো বিক্রির অর্থ দিয়ে চাঁদপুর থেকে তাদের সাংসারিক জীবন যাপনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করে আবার সেই নিজ গন্তব্যে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার যোগে ফিরে যান।

IMG_20160724_121000

কিন্তু ভরা বর্ষায় এই ছোট্ট ট্রলার গুলোর দৃশ্য কেমন জেনো ভয়ানক মনে হয়। উত্তাল মেঘনার বুকে ঢেউয়ের তালে যাত্রীবোঝাই ট্রলারগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়। যদিও তারা বলে অতিরিক্ত যাত্রী ট্রলারে পরিবহন করেন না। কিন্তু যে পরিমান যাত্রী ট্রলারে সচক্ষে দেখা যায় তা কি অতিরিক্ত কিনা সেটা বিবেকের কাছে প্রশ্ন রেখে গেলাম।

অথচ ইদানিং উত্তাল মেঘনায় ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও নৌকা ডুবির সংখ্যা বেড়ে গেছে। প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এরপরও একমাত্র যাতায়াত ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনের তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী হয়েই পাড় হতে হচ্ছে ভয়াল মেঘনা। কেন না চরাঞ্চলবাসীর যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম যে এই নৌপথ!

চাঁদপুরের কিছু উপজেলা হাইমচর, মতলব থেকেও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার চরাঞ্চলে যাতায়াত করে। কয়েকদিন আগে হাইমচরে মেঘনায় একটি যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবে যায়। সেখানে প্রচুর হতাহত ও নিহতের ঘটনা ঘটে।