ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

rifat

“শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড”- সেই মেরুদন্ডকে সোজা রাখতে শিক্ষার্থীদের ছুটতে হয় শিক্ষকের দ্বারে-দ্বারে। “শিক্ষক জাতির রক্ষক”। কিন্তু মাঝে, মাঝে এ রক্ষকই ভক্ষক এ পরিনত হয়। যার দরুন অকালে জীবন দিতে হলো ছোট্ট শিশু সাথীকে। সাথীর পরিবারের অভিযোগ ছিলো,স্কুলের মাসিক বেতন ও পরীক্ষার ফি সহ ছিল ৪০০ টাকা। এর মধ্যে ৩২০ টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। বকেয়া ৮০ টাকার জন্য সাথীকে সাজা দিয়েছিলেন মো. আলাউদ্দিন। অপমান সহ্য করতে না পেরে সাথী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলো।

আলাউদ্দিন, বাগাদী গণি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক। উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম হজের উদ্দশ্যে ঢাকায় অবস্থান করছেন বিধায় আলাউদ্দিনই এখন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

দারিদ্রতা অনেক শিশুর ভবিষৎকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে।কিন্তু সাথীর জীবনকে অকালে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে।টাকার অপমান সইতে না পেরে দুনিয়াকে চির বিদায় জানিয়েছে। কি এমন ক্ষতি হতো ঐ স্কুলের যদি ৮০ টাকা না নিতো? কেনো এমন অপমান করলো সাথীকে যে তার কাছে আত্মহত্যা ছাড়া আর কোন পথ ই রইলো না?

মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা শিক্ষার ব্যাপারে যতটা ই ততপর কিন্তু শিক্ষাদানকারী (শিক্ষক)ব্যক্তিরা ততটা ততপর নয়। প্রতিদিনই খবরের কাগজে এমন লোমহর্ষক ঘটনা আমরা দেখতে পাই। একজন শিক্ষকের মর্যাদা অনেক অনেক গুন বেশী।কিন্তু সেই শিক্ষকের আচরন টা যদি যন্ত্রুর মত হয়, তবে সেটা শিক্ষক জাতির কলঙ্ক ছাড়া আর কিছু নয়! সরকার এত এত সুবিধা প্রদান করছে শিক্ষকদের তবু তারা শিক্ষাকে বাণিজ্যে রুপান্তরে নানা কৌশল অবলম্ভন করছেন।

প্রাইভেট -কোচিং বাণিজ্যে রিতিমত অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। কজন পড়তে পারে প্রাইভেট? কজনের ই বা কোচিং করার মত ক্ষমতা রয়েছে? প্রাইভেট-কোচিং বাণিজ্যের কারনে শিক্ষাক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে বৈশম্য। সরকার ফ্রি দেয় আর শিক্ষকরা বাড়তি ইনকাম করতে গিয়ে দরিদ্র শ্রেনীর মানুষদের স্বপ্নকে ধুলিষাৎ করে দেয়। এটা মহা অন্যায়, এ অন্যায়ের কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করলে হয়তো এমন ঘটনা আর ঘটতো না। একটু বিবেক কি নাড়া দেয় ঐ শিক্ষিত সমাজের প্রতিনিধিদের।

শিক্ষা তো আলোর পথ দেখায়।শিক্ষা প্রদানে যারা নিয়োজিত তারাই যদি অন্ধকারের গল্প শুনায় তবে তো শিক্ষা আলোর যায়গায় অন্ধকার ই ছড়াবে। হয়তো অনেক বড় স্বপ্ন ছিলো সাথী আক্তারের।সামনে ই জে,এস,সি পরীক্ষা। দিনমজুর বাবার হয়তো স্বপ্নের সারথী হিসেবে ছিলেন সাথী। কিন্তু শিক্ষকের অবহেলা আর অনাদরে আজ স্বপ্ন সারা জীবনের জন্য স্বপ্ন ই থেকে গেলো। হয়তো সাথীর বাবা আর মায়ের বার বার মূর্ছা যাওয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই। একটু অবহেলা,আর অপমানে প্রান গেলো ছোট্ট শিশু আগামীর ভবিষৎ সাথী আক্তারের। জানি না এর শেষ কি হয়।হয়তো একটি মিমাংশা, নয়তো পর্দার অন্তরালের গল্প!