ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 

বৃদ্ধ দুলালের কাছে অনেক কিছু শেখার আছে তরুন প্রজন্মের। ‍বয়সের ভাড়ে নূইয়ে পড়েছে মাথা, গায়ের চামড়া গুলোও বটতে শুরু করেছে। চুল, দাড়িও সাদা হয়ে গেছে। সামনের দাঁত গুলো নেই। অনেকটা গুঁজো হয়েই হাঁটা-চলা করেন বৃদ্ধ দুলাল।

আজ ৪০ বছর ধরে ফরিদগঞ্জের বিখ্যাত মিষ্টির দোকান আলামিন সুইটস (আওয়াল) এর দোকানে কাজ করে আসছেন। এর আগে দুলাল সুইটস নামে তার একটি দোকানও ছিলো। বৃদ্ধ দুলালকে চেনেন না এমন লোক ফরিদগঞ্জে খুব কমই রয়েছেন। খড়িদ্বারদের সাথে মিশে যেতে বেশীক্ষন সময় নেন না তিনি।

হাসি,খুশি মনা এ মানুষটির জীবন সংগ্রাম অতটা সুখের নয়। ২ সন্তানের জনক বৃদ্ধ দুলাল। বাড়ি ফরিদগঞ্জ সদরেই। ছেলে থাই গ্লাস লাগানোর কাজ করে। মেয়েকে কিছুদিন আগে বিয়ে দিয়েছেন। দূর্ভাগ্য তার সহধর্মীনি তাকে ছেড়ে পরপারে পারি জমিয়েছেন দু’বছর আগে।

2016-09-18-16-06-20-627
নিজের জীবনের গল্প বলতে গিয়ে থমকে দাড়ান বৃদ্ধ দুলাল। “পড়ালেখা করিনি বাপু, তাই তো আজও এই মিষ্টির দোকানেই কর্ম করতে হচ্ছে।
বউডা আমারে ছাইড়া চইলা গেছে ওপাড়ে। ওহন আমি একলা। বুড়া হইলে জ্বালা বাজান। মালিক সাবরা খুব ভালা মানুষ, খুব আদর করে আমারে। দোকানের পুরাতন কর্মচারী আমি। ওনারা ভাল বইলাই তো আজ এতদিন দোকানে কাজ করি। ওনার ছেলেরাও ভালা, হাসি, খুশি মনা পোলাপাইন। কখনো কর্মচারীর চোখে দেহে না। আমরা যারা কাম করি সকলেই এক, একজন এই দোকানের মালিক মনে কইরাই কাম করি”।

জীবনের কাছে হার নয়, জীবন যুদ্ধে সামনে এগিয়ে গিয়ে জীবনকে চালাচ্ছেন সানন্দে। অভাব তবু মাথা নত করবার মত নয় বলে আজও এ বৃদ্ধ দুলাল কর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

বৃদ্ধ দুলালের কাছে অনেক কিছুই শেখার আছে। শেখার আছে এই শেষ বয়সেও কি করে কর্মকরে জীবন চালানো সম্ভব। শেখা যায় কর্ম করলে বিপথে যাওয়া থেকে বিরত থাকা যায়। সমাজের মানুষের মধ্যে যে কুলশিত মনভাব, হীনমন্যতার বেড়াজালে আবদ্ধ জনসমাজ। কর্মে সক্ষম মানুষগুলে যখন বিপথগামী। ঠিক তখন বৃদ্ধ দুলালের দিকে তাকালে মনে হবে জেনো এক তাগড়া জোয়ানের আবির্ভাব।

শরীরের শক্তি কমে গেলেও মনের দম তো কমেনি। মনের দমেই আজও বেঁচে আছেন তিনি। তাইতো শখের বসে ছবি নয়, সেলফি তুলতে চাইলেন বৃদ্ধ দুলাল।