ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

শরৎ এলেই বাংলার প্রকৃতি যেমন নতুন শ্রী বিলায় জগৎ কে। তেমনি শরৎ এলেই মর্ত্যে দেবী দূর্গার আগমনী বার্তায় সনাতন ধর্মালম্ভী বাঙালী নর নারীর মনকে আনন্দে ভরিয়ে দেয়। দেবী দূর্গার আগমনের ধারাবাহিকতায় প্রতি বছরের ন্যায় এবার ও চাঁদপুরের মন্দির গুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়। প্রতিমা কাড়িগররা মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রতিমা গুলো তৈরি করেছেন,এখন শুধু বাকী রং আর ডেকোরেশন এর।

আসছে ৬ অক্টোবর বাংলা ১৯ আশ্বিন, বাংলাদেশ ২১ আশ্বিন দূর্গা দেবীর সায়ংকালে বোধন পঞ্চমীর মধ্যে দিয়ে শুরু হবে শারদীয় উৎসবের। ৭ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্যে দিয়ে শুরু হবে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। এর পর পর্যায়ক্রমে সপ্তমী, অষ্টমী, নববী ও দশমী। ১১ অক্টোবর মঙ্গলবার দশমী পূজার মধ্যে দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দূর্গাউৎসবের।

20160926_004708

এবার চাঁদপুরের শ্রী শ্রী কালী মন্দির, গোপাল জিউর আখড়া,রামকৃষ্ণ মিশন, পালপাড়া শীতলা মন্দির, আদালত পাড়া,ডক লাইন হরিজন কলোনী,হরিসভা,কুন্ডের বাড়ি,পুরাণ বাজার দাশপাড়া,প্রতাপ শাহ রোড,মেথা রোড সহ বেশ কটি মন্দির ঘুরে দেখা যায় প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় সম্পূর্ন করেছে মন্দির কতৃপক্ষ।

ছবির প্রতিমাটি চাঁদপুরের কালী বাড়ি মন্দিরের। সেখানকার পুরোহিত শ্যামল চক্রবর্তী জানান প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। রং করা বাকী। ডেকরেশন এর কাজ চলছে। তিনি আরো বলেন আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ৫মী তিথীতে জগৎ জননী দূর্গার স্বর্গ ছেড়ে মর্ত্যে আগমন। এবার স্বামীর ঘর স্বর্গ ছেড়ে দেবী দূর্গা মর্ত্যে আসছেন ঘোড়ায় চড়ে। তার সাথে আসছেন তার দুই পুত্র গনেশ,কার্তিক, লক্ষী,স্বরস্বর্তী।

মহিষাসুরদের অত্যাচারে যখন দেবতারা অতিষ্ঠ,এমন কি স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়েছিলো, ঠিক তখন ব্রক্ষ্মা,বিষ্ণু,মহেশ্বররদের ক্রোধে দেবী দূর্গার আবির্ভাব ঘটে। মহিষাসুর শিবের বরে অমরত্ব লাভ করেছিলো,ঠিক তখন শিব তাকে কোন দেবতা হত্যা করতে পারবে না বলে বর দান করেন।এক মাত্র মহিষাসুরের মৃত্যু কোন নারীর হাতে সম্ভব বলে ই দেবতারা তাদের সমস্ত শক্তি একত্রিত করে দেবী দূর্গাকে সৃষ্টি করেছিলেন।

সনাতন ধর্মালম্ভীদের বিশ্বাস দেবী দূর্গা এবার নতুন কোন বার্তা নিয়ে ধরনী আলোকিত করবেন।ধনধান্যে ভরিয়ে তুলবেন বসুন্ধরাকে। হানাহানি আর মনুষত্যহীনতা দূরীভূত করে শান্তির বার্তা পৌছে দিবেন সকল ভক্তের মাঝে। এমন টাই বিশ্বাস সনাতন ধর্মালম্ভী দেবী ভক্তদের।

চাঁদপুরের মন্দিরগুলো ঘুরে রিফাত কান্তি সেন।