ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

20161006_174348

এসো মোর ঘরে হে মা তুমি, অকালবোধন হয়ে, জগতের শান্তি বিলাও তুমি আপন হাতের মুঠোয় করে”।

মা আসছেন,শরৎ এর মেঘাছন্ন আকাশ আর প্রকৃতির অপরূপ কাঁশফুলের অবিরাম সৌন্দর্যে মুখরিত মায়ের আগমন জেনো সনাতন ধর্মালম্ভীদের মনে শিহরণ জাগায়। আর কিছু সময় পরই বোধন আমন্ত্রন আর অধিবাস, ষষ্ঠী পূজার মধ্যে দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে শারদীয় দূর্গাৎসবের। স্বামীর ঘর স্বর্গ ছেড়ে মর্ত্যে তার পিতৃগৃহে পদার্পণ করবেন দেবী দূর্গা। পাঁচ দিনের এ সফরে তার সাথে আসবেন গনেশ, কার্তিক, লক্ষী, স্বরস্বর্তী চার সন্তান। আরো রয়েছে কার্তিকের কলা বউও।

দেবী বরণে তাই ব্যস্থ সময় পার করছেন দেবী ভক্তরা। চাঁদপুরের বেশীরভাগ মন্দিরেই দেবীকে আমন্ত্রন জানাতে পুরাপুরি প্রস্তুতি সেরে নিয়েছেন। লাইটিং এ জেনো পুরো শহর এক স্বপ্নের শহরে পরিনত হয়েছে। চারদিকে মরিচ বাতির ছড়াছড়ি, ডেকোরেশন জেনো দেবী ভক্তদের মনে অনাবিল আনন্দ ছুঁয়ে যায়। চাঁদপুর কালীবাড়ী মন্দির, রামকৃষ্ণ আশ্রম, গোপালের আখড়া, পালাপাড়া শীতলা মন্দির, পুরানবাজার দাসপাড়া, গুয়াখোলা মন্দির সহ শহরের সব কটি পূজা মন্ডপকেই সাজানো হয়েছে অপরুপ সাজে।

আজ থেকে চন্ডী পাঠ ঢাক-ঢোল, কাঁসা এবং শঙ্খের আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠবে বিভিন্ন মন্ডপ, চলবে দশমী পর্যন্ত। এদিকে পুজা উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শারদীয়া দুর্গাপূজাকে “অকালবোধন” বলা হয়। কালিকা পুরাণ ও বৃহদ্ধর্ম পুরাণ অনুসারে, রাম ও রাবণের যুদ্ধের সময় শরৎকালে দুর্গাকে পূজা করা হয়েছিল। হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, শরৎকালে দেবতারা ঘুমিয়ে থাকেন। তাই এই সময়টি তাঁদের পূজা যথাযথ সময় নয়। অকালের পূজা বলে তাই এই পূজার নাম হয় “অকালবোধন”।

এবার দেবী আসছেন ঘোড়ায় চড়ে, যাবেন ও ঘোড়ায় চড়ে। হিন্দু পুরোহিতগন মনে করেন এ সময় প্রচুর দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়া থাকতে পারে। তবে সব কিছুর উর্ধে দেবী ভক্তদের বিশ্বাস দেবী দূর্গা, দূর্গতীনাশিণি এবার নতুন কোন বার্তা নিয়ে আসবেন ধরনীতে। ধরনীকে আলোকিত করবেন নতুন আলোয়।ফুলে ফলে বসুন্ধরা হবে মুখরিত।

মহিষাসুর বধের মধ্যে দিয়ে নিজের মনের ভেতরে পুষে থাকা অসুরকে বধ করতে সক্ষম হবেন সনাতন ধর্মালম্ভীরা। এমনটাই বিশ্বাস সনাতন ধর্মালম্ভীদের।