ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

img_20141020_133135
বেকার থাকলে কিছু মানুষের কিছু কথা হজম করতে হয়।

১- লিখে কি করবি,দুই পয়সার দাম আছে নাকি!
২-এমন অনেক দেখছি,লাভ নাই /ভাতে মরতে হইবো।
৩- বেল নাই,জীবনে চলতে গেলে ফাউন্ডেশন লাগে।
৪-লিখলে দু-চার জনে ভাল বলবো, এগুলা জীবন চলে না।
৫-এসব কইরা লাভ নাই,পত্র/পত্রিকায় লিখে ভাত জুটবো না।
৬- কিরে অনেকে দেখি তোর কথা কইয়া বেড়ায়,হুম ভাল কাজ করচ ভালো কথা,তবে এসবে দিন চলবো না।
৭-সার্টিফিকেট ভাল না হইলে লিখ্খা লাভ নাই।বেল নাই এসবের।

এ সব গুলো কথাই প্রতিনিয়ত শুনে যাচ্ছি গত কয়েক বছর।দূর্ভাগ্য আমার চাকরি ও হয়নি,লেখালেখি ও বন্ধ হয়নি।দেখতে, দেখতে এস,এস,সি,এইস,এস,সি,স্নাতক শেষ করলাম টেনেটুনে।অনেকের নিকট এখনো যোগ্য হতে পারি নি।
অত ভাল ছাত্র নই,তাই ভাল চাকরি কিংবা কাজের জন্য এ্যাপ্লাই ও করি না।

শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের কাছে কথা গুলো শুনতে হয় প্রতিনিয়ত।সব কিছুর জন্যই তো কেউ না কেউ পিছনে থাকতে হয়।
চাঁদে গিয়েছিলেন নীল আর্মস্ট্রং,ভায়া হিসেবে ছিলো রকেট। আমাদের সমাজে বড় কথা বলা লোকের অভাব নেই, বড় কাজ করার লোকের অভাব।

সবচেয়ে ভাল লাগে তখন যখন ঐ দারিদ্র/ভুক্তভূগী/ বঞ্চিত/অবহেলিত মানুষগুলোর দ্বার গোড়ায় পৌছে শুনতে চাই তাদের জীবনের গল্প তখন তারা খুব আবেগ নিয়ে,দুহাত তুলে যখন বলে “বাজান অনেক বড় হও তুমি,যখন শিশুরা বলে ভাই আপনে অনেক ভালা”।

তখন মনে হয় সত্যি ঐ ক্ষমতাবানদের চাইতে ও এরা বেশী ক্ষমতাশালী,যারা চোখে আনন্দ অশ্রু আনতে সক্ষম।
যখন আমাকে দেখার জন্য কিছু শিশু প্রতিক্ষার প্রহর গুনে সে খবর আমার কানে আসা।

গত পাঁচটি বছর নিদারুন কষ্টেকাটিয়েছি।জেলার সরকারী কলেজ ভার্সিটিতে স্নাতকের ছাত্র ছিলাম।পাস কোর্স বলে অনেকে অবহেলার দৃষ্টিতে তাকাতো।আবার অনেকে প্রশ্ন ছুড়ে দিতো পাশ করবি তো?

আমি অনেককে দেখেছি তারা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের কর্মের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।অনেকে পড়ালেখার পাশাপাশি কর্ম করছে।আমার নানা অজুহাতে কর্মের সংস্থান হয়নি।এজন্য বেকার ও ছিলাম না দুটি টিউশনি যোগাড় করেছিলাম।
এখনো মনে আছে সেবার এক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম, পকেটে মাত্র ১০ টি টাকা ছিলো।অত চেনা জানা নেই, তাছাড়া গ্রাম বলে সকলেই স্কুল টিচার কে দিয়ে টিউশনি করাতে চায় সন্তানকে ভাল নাম্বার পাইয়ে দেয়ার জন্য।ঠিক সেসময় আমাকে একটি টিউশনি যোগাড় করতে ছাত্রকে প্রস্তাব দিতে হয়।সে ইফাজ,সামিয়া আর তাকিয়াদের সে সময়ের উপকারের কথা ভেবে আজ ও তাদের পড়াচ্ছি।এবার সামিয়া সমাপনী দেবে।হয়তো ওরা চলে যাবে।আমি বেঈমান নই,তাই চাকরির লোভ না করে ওদের শেষ সময়ে বেঈমানি করে নিজের স্বপ্ন সাজাতে যাই নি।ছোট হোক উপকার উপকারই।
অনেকে অনেক কথা বলে, আমি দেখেছি আমার বয়সী অনেকে কর্মকরে,এবং সে কর্মের সন্ধান ও আমার আত্মীয় স্বজনরা করে দেয়। দূর্ভাগ্য আমার আজ ও হয়নি!

এর পরও কিছুদিন আগে আমার গ্রামের স্কুলে শিক্ষকতা করা সুযোগ হয়েছিলো।নানা জনের নানা উক্তি,শতরকমের কথা,নানা বঞ্চনা,জেনো আমার উপরেই সবার ক্ষোভ!অনেক কিছু শুনে ও না শুনার ভান করতাম।তবে সেখানকার শিশুরা আমাকে যথেস্ট সম্মান করেছে।আমিও তাদের অফুরন্ত চেষ্টার ফলে ভাল কিছু দিতে চেষ্টা করেছি।নানা অজুহাতে সেখান থেকে বিতাড়িত। আসলে ঠিকই আমার যোগ্যতার বড় অভাব।কারন পৃথিবী এখন উলটো।এ সমাজে বেকার ঘুরলে অকর্মা,কর্মে গেলে অযোগ্য।এ আর নতুন কিছু নয়।অনলাইন, স্থানীয় প্রিন্ট মিডিয়া সহ নিজের তৈরি রয়েছিলো কিছু ডকুমেন্টরি।এখনো সুযোগ পেলে বিনে পয়সায় সেসব কথা তুলে ধরি,যাদের কথা তুলতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন না অনেক সংবাদকর্মী।আর এ জন্য অপূরন্ত ভালবাসায় শিক্ত আমি।
একাবার এক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ছিলাম আমি,সেখানে আমাকে চেয়ারে বসতে না দিয়ে বসতে দিয়েছিলো টেবিল যেখানে দারোয়ান বসে সে চেয়ারে,ঠিক এর কিছুক্ষন পর আমার জুনিয়র এসে সে চেয়ার অলঙ্কিত করেছিলো- প্রার্থক্য ওর হাতে রশমালাইর প্যাকেট ছিলো,শরীরে দামী শার্ট,আর আমার ছেড়া স্যান্ডেল আর কম দামি টি শার্ট,খালি হাত।
তবু আমি লড়ে গেছি,আজো আমি মনের আনন্দে লিখি,বানানে শত ভুল,তবু মোর অদ্রম্য প্রচেষ্টা।একদিন ভাল কিছু হবে বিশ্বাস।
এ এক অপার আনন্দ,চাকরি একদিন হবে।
কিন্তু এ ভালবাসা কোনদিন পাবো না।

টাকা থাকলে হয়তো সাময়িক সুখ পাওয়া যায়,পাওয়া যায় না ভালবাসা।

লেখকঃ ক্রীড়া সম্পাদকঃদৈনিক সুদিপ্ত চাঁদপুর,এইবেলা.কম,বিডিনিউজ২৪.ব্লগ।