ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

received_1119223661466044

প্রশাসন আর সংবাদকর্মীদের সহায়তায় ফরিদগঞ্জ উপজেলার শতবর্ষী নারী সহিদেন্নেছা বয়স্ক ভাতার কার্ড পেলেন। ইউপি মেম্বার সহ, নানা নেতা কর্মীর নিকটে ঘুরেও মিলেনি একটি সরকারী সাহায্যের কার্ড।

১৯২৭ সালে এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেন সহিদেন্নেছা। ১৪ বছর বয়সে পিতৃ গৃহের বোঝা ভেবে বাল্য বিবাহের স্বীকার হতে হয় তাকে।

স্বামীর ঘরে নানা বঞ্চনা,অবশেষে স্বামীর রেখে চলে যাওয়া।এমন শত বঞ্চনার স্বীকার এক কন্যার জননী তিনি। চাঁদপুর জেলার, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৯ নং গোবিন্দপুর ইউনিয়নে বাড়ি এই মমতাময়ী বৃদ্ধার। একই গ্রামের খলিলুর রহমানের সাথে ১৪ বছর বয়সী সহিদেন্নেছার বিয়ে হয়।কিছুদিনের মধ্যে খলিল তাকে ফেলে রেখে উদাও হয়ে যায়। এক কন্যাকে নিয়ে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন সহিদেন্নেছা।

অভাগা এ নারী শত বছরেও একটি সরকারী সাহায্যের কার্ড না পেয়ে খুবই হতাশ ছিলেন। বয়সের ভাড়ে কুঁজো হয়ে গেছেন। কথাও ঠিক মত বলতে পারেন না। অনেক নেতার কাছে গিয়েও ফিরে আসতে হয় তাকে। এমন অবস্থায় সহিদেন্নেছার মেয়ে ফরিদগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে তাদের অসহায়ত্বের কথা জানান দেন।

নিজেরও স্বামী নেই, অসুস্থ মা কে যে ভাল মন্দ খাওয়াবো তার ও ক্ষমতা নেই। আমাদের কথা কেউ হুনে না। সহিদেন্নেছা কথা বলতে পারেন না বলেই কথা গুলো বলেছিলেন তার মেয়ে ফাতেমা।

সাংবাদিকরা সে খবর তুলে ধরলে প্রশাসনের টনক নড়ে। বয়স্ক ভাতার কার্ড মিলে সহিদেন্নেছার। ফরিদগঞ্জের ইউ,এন,ও জয়নাল আবেদিন এ কার্ড তুলে দেন বয়স্কা সহিদেন্নেছার হাতে।

সরকার দিচ্ছে, শুধু সেটা পৌছাচ্ছে না আসল নিরীহদের কাছে। আজো ও স্বজনপ্রীতি আর লোভের কাছে হেরে যেতে হচ্ছে সহিদেন্নেছার মত শতবর্ষের বৃদ্ধা মায়েদের। জনগনের সেবক হয়ে যারা জনগনের অসহায়ত্বের কারন হয়ে দাড়ায়, তাদের কাছে জানতে চাই কেনো এসেছেন জনগনের সেবক হয়ে যদি ছোট লোভই সামলাতে না পারেন? গরীবের হক মেরে খেয়ে কি এমন লাভ?

ধন্যবাদ ফরিদগঞ্জ প্রশাসন ও সাংবাদিকদের এমন ভাল কাজে নিজেদের উজাড় করে দেয়ার জন্য।