ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

fb_img_1480242434458

“যে সহজ সরল জীবনযাপন করে সুখ
তার জন্য অত্যন্ত সুলভ্য॥ ”
—আলেকজান্ডার।

আলেকজান্ডার তার বিখ্যাত কিছু উক্তিগুলোর মধ্যে এটি উচ্চারিত করেছিলেন। আমার বাবা তেমনই এক সহজ-সরল জীবন যাপন করা ব্যক্তি।

আজ এতগুলো বছর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তিনি অবিরাম আমাকে মানুষ করার জন্য পরিশ্রম করে গেছেন।

সম্পদ বলতে আমিই তার সব। নিজের স্বল্প পুঁজির ব্যবসা দিয়েই সংসার তার উপর আবার আমার পড়ালেখার খরচসহ নানাবিধ খরচ তিনি মিটিয়েছেন।

মাঝে মাঝে মানুষের কাছ থেকে ধার করে ও আমার চাহিদা মিটিয়ে ছিলেন। আমার বাবা কোন দিন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়নি, শিক্ষকদের কাছে বিনয়ী হয়ে বলতে হয়নি আমার ছেলেটাকে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ করে দিন।

অত ভাল ছাত্র নই আমি। তবু টেনেটুনে আব্বা আমাকে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, এরপর গ্যাজুয়েশন শেষ করিয়েছেন।

আব্বা কখনো চাননি ছেলে জিপিএ ফাইভ পাক। তিনি চেয়েছিলেন ছেলে জেনো মানুষ হয়।

আমিও ভাল মানুষ হতে চেষ্টা করে গেছি। তার মুখে চুনকালি পরুক এমন কাজ করিনি আজও।

আব্বা খুব সহজ সরল।আব্বা খুব চিন্তিত ছেলের চাকরির ব্যাপারে।আব্বার অত ভাল লোক নেই চাকরি পাইয়ে দেয়ার মত। উনি আমাকে বলতো চেষ্টা কর হয়তো পারবি।

আব্বা খুব আগ্রহী নিয়ে বলে তুই মাষ্টার্সে ভর্তি হ।

লেখালেখি করি বিধায় আব্বা সব সময় বলতো গরীবের কথা লিখবি, অসহায়ের কথা লিখবি।আবার নিজে গ্রামীণ মানুষের দুঃখ কষ্টের কথা লিখবি।

কিন্তু এই যে ফ্রি ফ্রি লিখি এ জন্য আব্বার কোন আক্ষেপ নেই। জানে ছেলে অসহায়ত্বের কথা লেখে, লেখে ভোগান্তির কথা।

আব্বার জীবনের গল্পটা অনেক কষ্টের।অনেক কষ্টে আব্বা আজ এ পর্যায়ে।শুধু দারিদ্রতা তার পিছু ছাড়েনি।

তবু ভাল মানুষদের তালিকায় আব্বার নামটি লিখে দিলাম। আব্বা আজ এত বছর গ্রামে থাকেন কারো সাথে বাক বিতণ্ডা নেই। সামাজিক ভাবে কোন পোস্টও নেই, নেই কোন দাম্ভিকতা। কিন্তু গ্রামের প্রতিটি মানুষ আব্বাকে ভালবাসে।

আব্বাকে এখনো দেখি গরীবদের ফ্রি ঔষধ খাওয়াতে। আব্বা যখন আগে কর্মস্থলে যেতেন তখন পথে গরীব শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও করতেন। তার এক ছাত্র এখন বড় শিক্ষক। তিনি আমায় বললেন, ভাইরে তোর আব্বা আমারে কলা পাতার মধ্যে বীজগণিত অংক শিখাইছে।খুব ভালা মানুষ, ভালা উপদেশ দিতো আমারে।

ধন্য আমি গর্বিত পিতার সন্তান হওয়ার জন্য।

জানি না ভাল অবস্থানে যেতে পারবো কি না তবু বলছি যে অবস্থানে থাকি আব্বা, ভাল কাজ করে যাবো চিরকাল।