ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

2016-12-12-02-19-12-960

“সূর্যাস্তের আবেগে রঙে ভাসে
ধরণী নিঃশব্দে ছড়ায়ে স্মিত হাসি রাশি রাশি।”

কবির কবিতায় যেভাবেই সূর্যাস্ত ফুটে উঠুক না কেন বাস্তবিক জীবনে সূর্যাস্ত একটু হলেও মনকে দোলা দিয়ে যায়। ইট-কাঠের দেয়ালে ঘেরা কর্মব্যস্ত শহর। চারদিকে শুধু কর্মব্যস্ত মানুষ। শরীরে যখন শুধুই অবসাদ, ক্লান্তির ঘনঘটা, ঠিক তখন প্রকৃতির এমন দৃশ্যে চোখ জুড়ায় ব্যস্ত শহরের ব্যস্ত মানুষদের। সূর্যাস্তের এমন দৃশ্য প্রতিদিন নজর কারে শত-সহস্র দর্শনার্থীদের।

মাঝখানে ব্রিজ, ব্রিজের নিচ দিয়ে বয়ে চলেছে ডাকাতিয়া নদী। নদীর দু‘পারে রয়েছে অনাবিল সৌন্দর্য। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। প্রকৃতির অপরুপ খেলায় প্রতিদিন প্রকৃতি নানা রূপে সজ্জিত হয়। সে দৃশ্য দেখতে ছোট, বড় সব বয়সের মানুষেরই মন আনচান করে। সূর্যটা ডুবতে চললো, সেই দৃশ্যটা অবলোকন করতে চাঁদপুরের গাছতলা ব্রিজে দর্শনার্থীরা ভিড় করে।

প্রতিদিনের কর্মব্যস্ত জীবনকে একটু বিনোদন দিতে ভ্রমণ প্রিয়সী মানুষ ছুটে আসেন চাঁদপুর গাছতলা ব্রিজে। ছোট-বড় নানা বয়সের, নানা শ্রেণী পেশার মানুষের মিলন মেলা ঘটে ব্রিজটিতে। ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে আরো রাঙিয়ে তোলে দর্শনার্থীদের হৃদয়কে।

কথা হয় এ প্রজন্মের কিছুর দর্শনার্থীদের সাথে। হাতে ডিএসএলআর ক্যামেরা আর ডজন খানেক বন্ধু-বান্ধব মিলে ঘুরতে এসেছেন ব্রিজটিতে।

তারা বলেন, ‘নদীর দৃশ্য এমনিতে মন কেড়ে নেয়। তার উপর আবার প্রকৃতির এমন অপরুপ দৃশ্য- ‘সূর্যাস্ত’ তারা এভাবে আর কখনো দেখেনি।’

ছোট্ট শিশু মারিয়া বাবা-মায়ের সাথে ঘুরতে এসেছে গাছতলা ব্রিজে। সে বলে সূর্যের এমন আগুনের ললাটের মত রশ্মি দেখে সে বিস্মিত! তার খুব ভাল লেগেছে।

জোড়ায়-জোড়ায় অনেকেই আসেন মনের ক্লান্তি আর অবসাদ দূর করতে। তবে সকল ভ্রমণ প্রিয়সীর দাবি, যদি এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র যেমন পার্কের মত গড়ে তোলা যায় তবে বিনোদন আরো মধুর হতো। কারণ ব্রিজটির উপর দিয়ে যান চলাচল করে প্রতিনিয়ত।

নদীর পাশে যদি একটি পার্ক করে দিতো প্রশাসন, তবে যেমন এটি একটি পর্যটন কেন্দ্র হতো তেমনি ক্লান্তি লাঘবের জন্য মানুষরা নিশ্চিন্তে প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য অবলোকন করতে পারতো সানন্দে।