ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

‘ডাক্তার সে তো শুধু মানুষ নয়, রোগীদের চোখে সে তো ভগবান। কসাই আর ডাক্তার একই তো নয়, বাট দুটোই আজ প্রফেশন। কসাই জবাই করে প্রকাশ্য দিবালোকে তোমার আছে ক্লিনিক আর চেম্বার- ও ডাক্তার’।

ডাক্তারদের উপর এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন নচিকেতা। ডাক্তার, স্রষ্টার পরেই ডাক্তারকে মানুষ বেশী ভরসা করেন। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় ডাক্তারদের চেষ্টায় রোগীদের আরোগ্যে লাভ হয়। ডাক্তার যেমন রোগীর প্রাণ বাঁচান, তেমনি খাম-খেয়ালিপনা কিংবা অসচেতনতার কারণে রোগীর প্রাণ কেড়েও নেন।

ভুল চিকিৎসায়! প্রাণ গেলো এক নবজাতকের। এমনটাই দাবী করেন নবজাতকের স্বজনরা।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সেন্টাল হসপিটালে ২২-০৩-১৭ রাতে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত গাইনী চিকিৎসক ডা. মাহমুদাকে আসামী করে মৃত নবজাতকের নানী সাজেদা বেগম বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

নবজাতকের মা খাদিজা ৮ নং পাইকপাড়া দঃ ইউপির মালেশিয়া প্রবাসী নাসির হোসেনের স্ত্রী। রাত ১১ টায় যখন অপরেশন করা হয় ঠিক তখন ভুল অস্ত্রপাচারের কারণে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবী করেছেন তার স্বজনরা। নবজাতকের মৃত্যু নিশ্চিত জেনে লাশটি একটি কার্টুনে ভরে দিয়ে দেওয়া হয় স্বজনদের। যখন নবজাতককে দাফন করার জন্য খোলা হয় তখন কার্টুনে কলিজা, নারী-ভুরি বের হওয়া নবজাতককে দেখে স্থানীয় থানায় নবজাতকের নানী মামলা দায়ের করতে ছুটে যান। সাংবাদিকদের ঘটনাটি সত্য বলে আখ্যায়িত করেন ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সংবাদকর্মীদের বলেন, “তদন্ত ছাড়া কিছু বলা যাবে না, আগে তদন্ত হোক তার পর আইনানুগ ব্যবস্থা।”

ডাক্তারের কাছে রোগীরা আসেন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার জন্য। ডাক্তারী একটি সেবা মূলক পেশা হিসেবে সমাজে সম্মানিত। কিন্তু যারা জটিল রোগ নিরাময়ের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন সেই তারাই যদি মৃত্যুর কোলে মানুষকে ঠেলে দেয় তবে মানবতার কঠিন পরাজয় ঘটবে।

দেশে ব্যঙের ছাতার মত যত্রতত্র গড়ে উঠছে বেসরকারী ক্লিনিক, হসপিটাল সহ ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো। রোগী কিংবা তার স্বজনরা রোগ মুক্তির জন্য সেসব প্রতিষ্ঠানে ছুটে যাচ্ছেন। কিন্তু সেবার মান অতটা ভাল না হওয়ায় প্রতিনিয়ত খবরের কাগজে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর খবর দেখা যায়।ঐসব প্রতিষ্ঠান গুলোর ডাক্তারদের মান নিয়ে ও প্রশ্ন আছে! আর তাই ভুল চিকিৎসায় প্রাণ হারাতে হচ্ছে ভুক্তভুগী রোগীদের। সাথে সাথে বাড়ছে অকাল মৃত্যুর সংখ্যা।

মৃত্যুর মিছিল বাড়ুক আর কমুক এতে কোন ভ্রুরক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিদের। সম্মানী একটি পেশাকে অসম্মানে পরিণত করতে বদ্ধ পরিকর কিছু অসাধু ডাক্তার চক্র। এদের হাত থেকে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে উদ্ধার করতে সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যাক্তিদের এগিয়ে আসা উচিত। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আরো কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত এসব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ডাক্তারদের। প্রয়োজনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ বক্স ও খোলা যেতে পারে।