ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

2017-03-26-15-00-22-338

রিফাত কান্তি সেনঃ
তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা, তোমাকে পাওয়ার জন্যে আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায় ? আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন ? তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা, সাকিনা বিবির কপাল ভাঙলো, সিঁথির সিঁদুর গেল হরিদাসীর।

অতপর এলো মহান স্বাধীনতা।১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাঙালী আনুষ্ঠানিক ভাবে লাভ করে স্বাধীনতার স্বাদ। তবে স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহন করলে ও অতপর ৯ মাস রক্ষক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা লাভ করি চুরান্ত বিজয়। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়ে আজ ও আমাদের তরুন প্রজন্মের ধারকরা মহান স্বাধীনতা দিবসকে গভীর শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় পালন করে থাকে। ২৫ শে মার্চের সেই ভয়াল কালো রাতের স্মৃতি ও তরুন প্রজন্মকে বিষাদে পরিপূর্ণ করে।
কি দোষ ছিলো বাঙালীর যে নির্মমভাবে আমাদের হত্যা করা হয়েছিলো? তরুন প্রজন্মনের কাছে শুধুই ঘৃনা আর ধিক্কার পাক বাহিনীর জন্য।

এদিন সকালে চাঁদপুরের কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক রচনা ও বক্তৃতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিঃ সমরেন্দ্র মিত্র। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন, সহঃ প্রঃশিঃ মোজাম্মেল হোসেন,সিনিয়র শিক্ষক মিজানুর রহমান,পঙ্কজ শর্মা,শিউলী দাস,শাহাদাৎ হোসেন,হারুনুর রশিদ,অশোক সিংহ রায় বাকী বিল্লাহ,শিব্বির হোসেন,এম,এ মন্নান, রিফাত কান্তি সেন,আবুল হোসেন এবং চতুর্থী শ্রেনীর কর্মচারী ইউসুফ ও জয়নাল।

অনুষ্ঠান পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত এবং গীতা পাঠের মাধ্যমে আরম্ভ হয়।
সভাপতির বক্তৃতায় প্রধান শিক্ষক সমরেন্দ্র মিত্র বলেন,২৬ শে মার্চ বাঙালীর জীবনে একটি ঐতিহাসিক দিন। এই দিনটি ভুলবার মত নয়। সঠিক ইতিহাস জেনে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা আমাদের একান্ত কর্তব্য।

এছাড়া স্কুলের খন্ডকালীন শিক্ষক রিফাত কান্তি সেন বলেন,” স্বাধীনতার যে অর্থ আমরা অনেকেই তা উপলদ্ধি করি না। এই মহান স্বাধীনতার্জনে আমাদের যে ত্যাগ তিতিক্ষা ছিলো তা কোনদিন ভুলবার নয়।”বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে স্মরন করে বলেন,”আমি বলেছি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না,আমি এদেশের মানুষের স্বাধীনতা চাই। লোভ-লালসাকে উপড়ে ফেলে সত্যিকারের দেশকে ভালবাসতে তরুন সমাজের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন।
2017-03-26-15-02-52-554
এছাড়া, ততকালীন ছাত্র নেতা এম,এ মন্নান ও স্বাধীনতা দিবসের তাতপর্যপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন।

ছাত্র/ছাত্রীদের পক্ষে বক্তৃতায় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র সঞ্জিব মিত্র বলেন,” আমরা স্বাধীনতা দেখিনি তবে স্বাধীনতা যে এমনি,এমনি সহজে ধরা দেয়নি তা হারে,হারে উপলদ্ধি করতে পারি। আমরা স্বাধীনতার মান অক্ষুন্ন রাখতে বদ্ধ পরিকর থাকবো।

স্বাধীনতার ৪৭ এ পা রাখা বাঙলায় স্বাধীনতার সুফলতা কতটা বয়েছে তা বলতে চাই না।কিন্তু স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাঙলার নামটি চিরকাল স্মরনীয়-বরনীয় হয়ে থাকবে এমনটাই বিশ্বাস। স্বাধীনতার মানকে অক্ষুন্ন রাখতে, স্বাধীনতার চেতনা সমাজে ছড়িয়ে দিতে তরুন সমাজের ভূমিকা অপরিসীম। মনে রাখতে হবে স্বাধীনতার্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন।