ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 
1507099113220

গান ভালবাসেন না এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুস্কর। গান মানুষকে বিনোদন দেয় যেমন, তেমনি আবার গান মানুষকে আবেগেও ভাসায়। বলছিলাম এক সন্তানহারা পিতার গান গাওয়ার খবর। সন্তানের প্রতি ভালবাসা নেই এমন মানুষ হয়তো দুনিয়াতে একটিও খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। আবার এমনও প্রবাদে আছে, ‘সন্তান কু-সন্তান হলেও পিতা-মাতা কু পিতা-মাতা হন না।’

কয়েকদিন আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয় চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওয়ালি উল্লাহ অলির বড় মেয়ে কলেজ ছাত্রী আনিকা (১৭ ) সড়ক দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। গত ৬ জুন সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আনিকা কুমিল্লা ইস্পাহানি স্কুল এন্ড কলেজে এইচএসসির ২য় বর্ষের ছাত্রী ছিলো। চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওয়ালি উল্লাহ অলির দুই মেয়ের মধ্যে আনিকা ছিলো বড় মেয়ে। ছোট মেয়ে আতিকা।

507099122912
সন্তানের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করতে; সন্তান হারা পিতা গাইলেন একটি হৃদয় বিদারক গান। যার প্রতিটি লাইন তার কন্যা সন্তানকে উৎসর্গ করা। একজন পিতার কাছে তার আদরের সন্তান হারানোর জ্বালা যে কতটা নির্দয় তা-ই ফুটে উঠেছে গানটিতে। বুক ফাটা আর্তনাদ আর সন্তান হারানোর বেদোনায় আবেগে আপ্লুত ছিলেন তিনি। হৃদয় বিদারক এ দৃশ্য কোন পিতারই কাম্য নয়।

Screenshot_2017-10-04-02-51-24
নিজের ফেসবুক ওয়ালে তাই সন্তানহারা পিতা গানটি গেয়ে শেয়ারও করেন। গানটির কলি ছিলো ‘কোথায় আছো আনিকা তুমি, তোমাকে মাগো আমি আজও খুঁজি’। এতে সুর দিয়েছেন ডিএ রেইন, লিখেছেনও রেইন নিজেই, ভিডিও ক্রেডিট ছিলো মরহুমা আনিকার ছোট বোন আতিকার।

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সন্তানের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করে এমনই একটি গান গেয়েছিলেন। তার সে গানের শেষ লাইনটি ছিলো, ‘আয়রে আমার পাশে আয় মামনি, এ হাতটা ভাল করে ধর এখনি, হারানো সেদিনে চল চলে যাই ছোট্টবেলা তোর ফিরিয়ে আনি, আয় খুকু আয় খুকু আয়।’

সে ছোট্ট বেলা হয়তো আর কখনোই ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় আনিকার। আনিকা যে এখন না ফেরার দেশে চলে গেছে। ওয়ালী উল্লাহ অলি তাইতো হেমন্তের মতই গেয়ে উঠলেন নিজের লেখা গান, কোথায় আছো আনিকা তুমি, তোমাকে মাগো আমি আজও খুঁজি।

এ খোঁজা-খুঁজি হয়তো মৃত্যুর আগ পর্যন্ত করবেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। কেননা সন্তানকে ভালবাসেন না এমন জীব পৃথিবীতে একটিও নেই।

ভাল থাকুক পরপারে আনিকা, সেটাই একান্ত কামনা।