ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

IMG_20180103_160441

এক সময় আমাদের দেশে জমিদারদের অধিপত্য বিরাজ করলেও এখন আর জমিদারদের অস্তিত্ব নেই আমাদের সমাজে। অস্তিত্ব না থাকলেও তাদের রেখে যাওয়া স্থাপত্যশৈলি নজর কারে আমাদের মত ভ্রমণপ্রিয়সী মানুষদের। তেমনই এক জমিদার বাড়ি চাঁদপুর জেলার ‘কড়ৈতলী জমিদার বাড়ি’। সে জমিদার বাড়ি ঘুরে লিখেছেন রিফাত কান্তি সেন।

“নেই জমিদার, নেই জমিদারিও, আছে শুধু তাদের রেখে যাওয়া স্থাপত্যশৈলি।” অনেকটা এমন যে, “রাম নেই, নেই রাজত্ব”। এটি একটি বাংলা প্রবাদ হলেও আসলেই কালের বিবর্তনে আমাদের দেশ থেকে হারিয়ে গেছে জমিদারদের অস্তিত্ব। হাতি, ঘোড়া, পাক-পেয়াদা না থাকলেও ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে জমিদারদের রেখে যাওয়া স্থাপত্যশৈলি। পোঁড়া ইট-পাথরের দেয়ালে বাসা বেঁধেছে বিভিন্ন রকমের উদ্ভিদ আর শেওলা।

ইতিহাস, ঐতিহ্য মণ্ডিত এ জমিদার বাড়িটি আজও নিজের অবস্থানে অটুট আছে; যদিও জমিদার কেউই এখন সেখানে নেই। দৃষ্টিনন্দন এ জমিদার বাড়িটির সৌন্দর্য দিন দিনই কমতে শুরু করেছে। বিভিন্ন লতাপাতা মোড়ানো উদ্ভিদরা এখন সেখানে একক অধিপত্য বজায় রেখেছে।

IMG_20180103_160255

শেওলারাও যেন বাসা বাঁধার একমাত্র নীড় খুঁজে পেয়েছে পরিত্যক্ত এ জমিদার বাড়িটিতে। স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ‘১২২০ সালে হরিশ চন্দ্র বসুর হাত ধরে জমিদারদের কড়ৈতলীতে প্রত্যাবর্তন। ১৯৫১ সালে শেষ জমিদার ‘গোবিন্দ চন্দ্র বসু’র হাত ধরে সমাপ্তি ঘটে রাজ পরিবারের। প্রায় তিনশ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত জমিদার বাড়িটির অস্তিত্ব এখন সামান্য জায়গা নিয়ে। তার উপর যা আছে তাও যথাযথ পর্যবেক্ষণ এর দরুণ বিলুপ্ত হতে চলেছে।

লোকমুখে শোনা যায়, সেখানকার জমিদাররা অনেক আগেই গ্রাম থেকে চলে গেছে। তাদের বংশের কেউেই এখন আর খবর নিতে আসেন না। জমিদার বাড়িটি ‘বাবুর বাড়ি’ নামে সকলের কাছে পরিচিত। বাবুর বাড়ি বললেই এক নামে চিনে এলাকাবাসী তথা উপজেলাবাসী।

IMG_20180103_155831
ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে জমিদার বাড়িটিতে দাঁড়িয়ে আছে দূর্গা মন্দির, রয়েছে জড়াজীর্ণ লতা-পাতা মোড়ানো বিধ্বস্ত প্রাসাদ, আট্টালিকা। রয়েছে ঐতিহ্যবাহী কাছারি ঘর, সুরঙ্গপথ। এছাড়া বাবুর দিঘী নামে বিশাল এক দিঘীও রয়েছে। কড়ৈতলী বাজারে রয়েছে জমিদারদের ‘শশ্মানকালী মন্দির’। তবে সেখানে এখন আর নেই কোন পূজোর ব্যবস্থা।

IMG_20180103_154924 প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা ভীড় জমান জমিদার বাড়িটি দেখতে।

স্থানীয় বাসিন্ধা মোঃ হাসান জানান, ‘বাবুর বাড়িটি দেখতে অনেক মানুষই ছুটে আসেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা জমিদারি স্থাপত্যশৈলির ব্যাপারে জানতে আগ্রহী হয়ে ছুটে আসেন সেখানে। প্রতিদিনই জমিদার বাড়িটিতে লোকারণ্য দেখা যায়।’

IMG_20180103_160400

‘অচিরেই প্রশাসনের উচিত জমিদার বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণ করে আরো পর্যটক উপযোগী করে গড়ে তোলা। এতে করে উক্ত অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা হবে আরো বেগবান।’

কীভাবে যাবেন:

চাঁদপুর শহর থেকে ২০ কি.মি. দূরে অবস্থিত গ্রাম কড়ৈতলী। ঢাকা থেকে লঞ্চে কিংবা গাড়িতে চড়ে চাঁদপুর আসবেন। সেখান থেকে সিএনজি যোগে কড়ৈতলী। ঢাকা থেকে চাঁদপুরের ভাড়া ১০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। চাঁদপুর থেকে কড়ৈতলীর ভাড়া জনপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। কড়ৈতলী বাজারে এসে বাবুর বাড়ি যেতে চাই বললেই লোকে দেখিয়ে দিবে।