ক্যাটেগরিঃ নাগরিক মত-অমত

 

 

বাংলা ভাষার প্রতি দরদটা যেন শুধু দিবসকেন্দ্রিকই লক্ষ্য করা যায়। নির্দিষ্ট দিবস এলেই সকল ভালোবাসা আমাদের মাঝে দেখা যায়। আসলেই কি আমরা বাংলার প্রতি মায়া-মমতা অনুভব করি? ছোট-বড়, শহর-গ্রাম কিংবা নগর থেকে পাড়া কোথাও সহসা দেখা মিলবে না বাংলা দিনপঞ্জিকার খবর রাখা লোকের। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অনেকেই জানেন না বাংলা দিনপঞ্জিকার ব্যাপারে।

বাংলার প্রতি গভীর টান দেখালেও এখন বাংলা কোন মাস কিংবা বাংলা মাসের কত তারিখ তা অনেকেই খোঁজ রাখেন না। প্রথম শ্রেণির বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করলে সেও ইংরেজি আজ কত তারিখ তা বলে দিতে পারবে। কিন্তু একজন স্নাতকোত্তর পাস করা ব্যক্তিকেও বাংলা মাসের তারিখ জিজ্ঞেস করলে শুধু নিচের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া তার কোন উপায় থাকে না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন আমরা নিজেরটার খবর না রেখে অন্যেরটার প্রতি ঝুঁকছি। আর ঝুঁকছি ভাল কথা, কিন্তু নিজেরটাকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেই না কেন?

আমরা শুধু ভিনদেশিদের নিয়ে ব্যস্ত থাকতে সময় পার করি। অনেকে তো বাংলার কথা শুনলে কেমন জানি মুখ ছিটকায়। আবার বেশিরভাগ ‘দেশপ্রেমিকদের’ সন্তানই পড়ে ইংলিশ মিডিয়ামে! যেখানে কিনা বাংলা শেখানো হয় না! দেশপ্রেমিকরা মুখে বড় কথা বলেন আর তলে তলে ভিনদেশিদের প্রেমে হাবুডুবু খান। সন্তানকে বাংলায় পড়ালে যেন জাত চলে যায়। দুঃখবোধটা তখন জাগে যখন ভদ্রের বেশে এসব লোক সমাজে ঘুড়ে বেড়ায় আর মাইকে বলে- বাংলা ছাড়া উপায় নাই।

 

বিদেশি আগ্রাসনে আমরা জর্জরিত। শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে টিভি চ্যানেল সবখানেই আমাদের উদাসীনতা বিদ্যমান। নিজ দেশের প্রতি প্রজন্মের উদাসীনতার জন্য আমরা নিজেরাই দায়ি। আমরা শিশুদের প্রকৃত বাঙালি হওয়ার শিক্ষা না দিয়ে ভিনদেশি হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা নিজেরাই তো বাংলার খবর রাখি না, হিসাব রাখিনা বাংলা তারিখ আর মাসের। তাহলে সন্তানদের কি শেখাবো?

আমাদের উদাসীনতার পাশাপাশি বাংলার বহুল প্রচলন না থাকার কারণেও এমনটা ঘটে থাকতে পারে। তাই সবখানে বাংলা ভাষার ব্যবহার এবং বাংলা দিনপঞ্জির ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শহর থেকে শুরু করে গ্রামের শিশুরাও যেন গর্ব করে বলতে পারে বাংলা আজ অত তারিখ।

বাংলার প্রতি আমাদের সত্যিকারের ভালোবাসা ফুটে উঠুক। দিবস কেন্দ্রিক নয়, বাংলা তারিখ আর মাসের খবরটা যেন সবসময়ই আমাদের মনে থাকে। পরিবার কেন্দ্রিক বাংলা দিনপঞ্জির ব্যবহার নিশ্চিত করা হোক। সরকারের প্রতি অনুরোধ, ইংরেজি দিনপঞ্জির সাথে বাংলাকেও শতভাগ বাধ্য করে দেয়া হোক। কেবল পহেলা বৈশাখ কবে সেটা জানলেই হবে না, ষড়ঋতুর প্রতিটি দিনই যেন আমাদের মনে থাকে।

বাংলাকে সত্যিকারে ভালোবাসার মধ্যে দিয়ে প্রজন্মের মাঝে ফুটে উঠুক দেশপ্রেম। বাংলা দিনপঞ্জির ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে বাংলার প্রতি আসক্তি আরো বাড়ুক। বাঙালি হিসেবে আমাদের পরিচয়টা ছড়িয়ে যাক বিশ্ববাসীর কাছে।