ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব

 

তিনি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় রাষ্ট্রপতি। পদমর্যাদায় দেশের সবচেয়ে বড় মাপের একজন মানুষ। ক্ষমতা থাকলেও কোনদিন করেননি বড়াই। উল্টো যারা ক্ষমতালোভী তাদের বিপক্ষে ছিল তার অবস্থান। হাস্যরস, কৌতুক আর নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া মজার ঘটনাগুলো জনসম্মুখে সাবলীল ভাবে বলে ফেলেন তিনি। আর তাই তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণার আরেক নাম আবদুল হামিদ। বিশ্বে বর্তমানে কোন রাষ্ট্রপতি তরুণ সমাজের কাছে এত জনপ্রিয় কি না তা আমার জানা নেই, তবে বাংলার মাটিতে জনপ্রিয় একজন রাষ্ট্রপতির তকমা গায়ে লাগিয়েছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চাশতম সমাবর্তনে এসে নিজের জীবনের কিছু কথা খুব সাবলীল ভাষায় বলেছিলেন। যার শিক্ষা জীবনে একটি প্রথম বিভাগ তো দূরের কথা দ্বিতীয় বিভাগও জোটেনি, তৃতীয় বিভাগ নিয়েই কোন রকমে পাস করেছেন। পাস করতেও লেগে গেছে কয়েক বছর। তিনি এক চান্সে পাস করতে পারেননি এসএসসি, এইসএসসি কোনটাতেই। শেষমেশ তিন বছরের বিএ পাস করতেও অনেক বছর লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি খুব অকপটে নিজের জীবনের না বলা কথাগুলো বলে বেড়ান। বিশেষ করে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফরমটি তুলতে পারেননি অথচ আজ সে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর তিনি, সে বিষয়টি অনুপ্রেরণামূলক। তার মোটিভেশনাল কথাগুলো তরুণদের স্বপ্ন দেখতে বড় ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশে তরুণ যুব সমাজের বিশাল একটা অংশই আজ বেকার। হতাশার কারণে তারা ভেবে নিচ্ছে জীবনে কিছুই করতে পারলাম না। সে সমস্ত যুবকের কাছে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মডেল স্বরুপ। তার স্বভাবসূলভ, হাস্যরসাত্মক ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য শোনার জন্য তরুণরা ব্যাকুল হয়ে থাকেন। আবদুল হামিদ শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই নয়, পুরো বাংলাদেশের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য।

বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তার প্রথম মেয়াদে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বপরায়ণ কর্মকাণ্ড করার কারণে দেশের ২১ তম রাষ্ট্রপতি হিসেবেও দায়িত্বভার পেয়েছেন। ২০১৩ সালে প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এখন ২০১৮ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।


তিনি ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর পরই ব্যতিক্রম এক রাষ্ট্রপ্রতি। তিনি মনে করেন, তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজনীতিবিদদের জন্য বঙ্গভবনের নিয়ন্ত্রিত জীবন সব সময় সুখকর নয়। তার ভাষায়– “খাঁচার পাখিরে যতই ভালো খাবার দেয়া হোক না কেন, সে তো আর বনের পাখি না।আমি এখানে একটা দায়িত্ব হিসাবে এখানে এসেছি। সংসদে মনের খোড়াক পেতাম, বঙ্গভবনে পাই না। মনটা অনেক কিছু চায়।”

মহামান্য রাষ্ট্রপতি সরকারি বিদেশ সফরে যে ব্যয় হয় সে ব্যয় কমিয়ে আনতেও সক্ষম হয়েছেন। বিদেশে হোটেল ভাড়াও কমিয়ে খরচ করে আলোচনায় এসেছিলেন। মাঝে মধ্যে হাস্যরসাত্মক এই রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের পরিবেশ নিয়ে বলেন, “জিয়াউর রহমানের আমলে জেলে ছিলাম, এখনও জেলে আছি। পার্থক্য আগে স্যালুট দিতো না কেউ, এহন অনেকেই দেয়।”

তৃণমূল থেকে বেড়ে উঠা রাজনীতিবিদ আবদুল হামিদ ছাত্র রাজনীতির সাথেও জড়িত ছিলেন। ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল হামিদ। কলেজ জীবন থেকেই বর্ণাঢ্য তার রাজনৈতিক জীবন। তথ্য বলছে, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ ১৮ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখায় পান স্বাধীনতা পুরস্কার।


১৯৭৩ সালে দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি। এরপর পর্যায়ক্রমে ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালে নির্বাচিত হন। বর্ণাঢ্য তার কর্মজীবন। ১৯৯৬ সালের ১৩ জুলাই থেকে ২০০১ এর ১০ জুলাই ডেপুটি স্পিকার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এ গুণী ব্যক্তি। ২০০১ এর ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। নবম সংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৩ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর বঙ্গভবনে জায়গা করে নেন জনপ্রিয় ব্যক্তি আবদুল হামিদ। কৃষক, শ্রমিক, মুজুর ও গণমানুষের ভালবাসায় সিক্ত জনাব আবদুল হামিদ। সংবিধান অনুযায়ি একটানা দু-বারের বেশি সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। তাই এ মেয়াদই আবদুল হামিদের শেষ মেয়াদকাল। এর সাথে সাথেই বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি হওয়ার গৌরবের মুকুটটাও নিলেন নিজের ঝুলিতে।

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম