ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

 

পহেলা মে, বিশ্ব শ্রমিক দিবস। ইতিহাস বলে, প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত কোন যুগেই শ্রমিকরা ভালো অবস্থানে ছিলেন না। ঝঞ্ঝাট, বঞ্চনা, না পাওয়ার বেদোনা সব কিছু সঙ্গী করেই মানবেতর জীবন কাটিয়েছে শ্রমিকেরা। যদিও বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন শ্রমিকপ্রেমী। বাঙালির এ শ্রেষ্ঠ সন্তান সর্বদাই ছিন্নমূলের মানুষগুলোর পক্ষে বজ্রকন্ঠে আওয়াজ তুলতেন। তার সোনার বাংলা গড়ে তোলার স্বপ্নের সারথি কিন্তু শ্রমজীবি মানুষেরাই ছিলেন।

শ্রম দুই প্রকার। মেধা শ্রম আর কায়িক শ্রম। পহেলা মে এলেই শুধু আমরা কায়িক শ্রমের মানুষদের কথা তুলে ধরি মিডিয়ায়। তুলে ধরি শিশু হতে শুরু করে, বৃদ্ধ শ্রমিকের কথাও। কিন্তু মেধা শ্রম যারা দিয়ে যাচ্ছেন তাদের খবর কে রাখে? ক’জনে রাখে তাদের জীবন, পরিবারের খবর? বিশেষ করে সৎ মানুষগুলো মেধা শ্রম বিলাচ্ছেন তাদের খবর ক’জনে রাখেন?

বাংলাদেশ বলেন কিংবা বিশ্বের যে কোন রাষ্ট্রে বলেন, সবচেয়ে নিরাপদ চাকরি হলো সরকারি চাকরি। সেখানে বেতন, মুজুরি সবই ঠিকঠাক মতো পাওয়া গেলেও বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে তার ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন সৎ ও নির্ভীকভাবে খবর প্রচার করে গণমাধ্যমে, তাদের খবর কতজনে রাখে? তারা কি ঠিকভাবে তাদের মুজুরি পাচ্ছে কিনা সে খবর কি কেউ রাখে?

বলছিলাম সাংবাদিকদের কথা। বিশেষ করে যারা তৃণমূলে সৎ সাংবাদিকতার সাথে জড়িত তাদের তো মানবেতর জীপন-যাপন করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। আমার জানামতে স্বল্প সংখ্যক সাংবাদিক ছাড়া বাকি কেউই পায় না বেতন। অধিকন্তু অসৎ সাংবাদিকরা সাচ্ছন্দে জীবন অতিবাহিত করলেও এক বুক নিরাশা নিয়ে জীবন সংগ্রামে লড়ে যাচ্ছেন তৃণমূলের গণমাধ্যম কর্মীরা। আবার শহরের সৎ সাংবাদিকরা যে খুব সুখে আছে এমনও নয়। তাদেরও রয়েছে না পাওয়ার হাহাকার।

এরা কি শ্রমিক নয়? এরাও তো শ্রম বিলায়। পার্থক্য কেবল তার শ্রম হলো মেধা শ্রম। যুগে যুগে এসব মানুষদের শ্রমগুলো গণ্য হয় পণ্ডশ্রম হিসেবে! সাংবাদিকদের নেই ওয়েজবোর্ড, নির্বিকার হয়ে তাই মানবেতর জীবন-যাপন করতে হয় তাদের। মাসের পর মাস কারো কারো বেতন ঝুলে থাকে। ক’দিন আগে দেখলাম একটি বেসরকারি প্রিন্ট মিডিয়ার কর্মীদের বেতন আটকে আছে কয়েক মাস।আচ্ছা একবার কি ভেবেছেন এসব মেধা শ্রমিকদের পরিবারের কি অবস্থা? অসৎ হলে না হয় কামানোর ধান্দা আছে, সৎ হলে তো পেটে লাথি।

আমাদের রাষ্ট্র এখনো শ্রমিককে মূল্যায়ন করতে শেখেনি। দিন-রাত গাধার মত খাটিয়ে অবশেষ ঘাস খেতে দিয়ে চলে যাবে ওরা। হয়তো নজরুলরা নেই বলেই এখন আর কেউ শ্রমিকের কথা লিখে না। হয়তো বঙ্গবন্ধুরা নেই বলে এখন আর শ্রমিকদের পাশে কেউ দাঁড়ায় না। প্রজন্ম ঝুঁকছে সরকারি চাকরির দিকে। সরকার চাইলেও দেশে যে পরিমাণ বেকার যুবক রয়েছে তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারবে না। বেসরকারি খাতগুলোর দিকেই প্রজন্মকে ঝুঁকতে হবে। আর বিশেষ করে মেধার শ্রমভিত্তিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা হিসাবে গণ্য। তাই এ পেশাটিতে তরুণদের আগ্রহ বাড়াতে পারলে দেশের বেকারত্ব কিছুটা হ্রাস পাবে। আর তাই সাংবাদিকদের বেতন-বৈষম্য আগে দূর করতে হবে।

শ্রমিক দিবসে এ হোক দৃঢ় অঙ্গিকার। সাথে সাথে নজরুলের সে বিখ্যাত কবিতার লাইনটি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, “তারাই মানুষ,  তারাই দেবতা, গাহি তাহাদের গান। মানুষের চেয়ে বড় কিছু না্ই, নহে কিছু মহিয়ান।”