ক্যাটেগরিঃ জনজীবন


ঈদের ছুটিতে প্রিয়জনের কাছে ফিরে যেতে  যত রকমের ঝুঁকি আছে সবই নিতে প্রস্তুত ঘরমুখী মানুষেরা। দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরতরা বাস, ট্রেন, লঞ্চে করে  ছুটছেন শেকড়ের টানে।

একটি বেসরকারি ঔষধ কোম্পানির মার্কেটিং অফিসার আকমল হোসেন। বাড়ি পাবনা জেলায়। কর্মের কারণে তিনি থাকেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে। কাজের চাপে এমনিতে গ্রামে যাওয়া হয় না, তবে  ঈদ এলে কয়েকটা দিন ছুটি পাওয়া যায় তাই পরিবারের টানে ছুটে যাচ্ছেন নিজ গ্রামে।

তিনি বলেন, “মা-বাবার সাথে ঈদ করার আনন্দই আলাদা। ছোট বেলায় তো গ্রামেই আমরা ঈদ করতাম। চাকরির কারণে এখন নিজ ভিটামাটি থেকে অনেক দূরে। তাই এ ছুটিতে নিজের পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদ করতে পারার আনন্দটা বলে বোঝাবার মত নয়।”

আকমল হোসেন চাঁদপুর থেকে পাবনার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন কর্মস্থল থেকে।

চাঁদপুরের মাতৃপীঠ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক মো. মাসুদুর রহমান। স্ত্রী, সন্তান নিয়ে থাকেন চাঁদপুরেই। গ্রামের বাড়ি শাহারাস্তি।

প্রচণ্ড রৌদ্র আর ভিড় উপেক্ষা করে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি। কথা হয় তার সাথে, তিনি বলেন, “যদিও বাসা চাঁদপুরে কিন্তু শেকড়ের টানে বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ঈদ করতে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি। এ আনন্দ সত্যি আনন্দের।”

রাজধানী শহরে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মেহেদী হাসান। বাড়ি চাঁদপুরের কড়ৈতলীতে।পড়ালেখার সুবাদে ঢাকাতেই তার বসবাস। লেখাপড়ার চাপে বাড়ি আসা হয়ে উঠে না। তাই ঈদ উপলক্ষে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে নিজ গ্রামে ফিরছেন।

চাঁদপুরের মাদ্রাসা ঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বাড়ি ফেরা এ তরুণের সঙ্গে কথা হয়।  ‘বাড়ি ফেরার আনন্দ বলে বোঝাবার মত নয়‘ বলেই মনে করেন তিনি।

লঞ্চে প্রচণ্ড ভিড় থাকায় এবং প্রথম শ্রেণির টিকেট না পেলেও ডেকের যাত্রী হয়ে ভিড় সামলে বাড়ির জন্য রাজধানীর সদরঘাট থেকে লঞ্চে চেপে বসেছেন এই তরুণ।

 


তবে উল্টো চিত্রও দেখা গেছে। অনেকেই ইচ্ছে থাকা স্বত্ত্বেও প্রিয়জনের সঙ্গে  ঈদ আনন্দ ভাগ করতে পারেন না।

গুরুত্বপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত সেসব মানুষ কর্মস্থলে থেকেই সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবেন। কালের কন্ঠের সিনিয়র সাংবাদিক হায়দার আলী বলেন, “আমরা গ্রামের ছোঁয়া পাইনি ঈদে। শহরেই কাটাবো বিগত দিনের মতো।”

সময় টিভির সাংবাদিক রাশেদ বাপ্পি। গতবারের মত এবারও ঈদে বাড়ি যাওয়া হবে না। কর্মস্থলে থেকে খবরের পিছে ছুটে বেড়াবেন।

নাড়ির টানে নিজে বাড়ি ফিরতে না পারলেও অন্যের বাড়ি ফেরার গল্প তৈরি করবেন তিনি।

রাশেদ বাপ্পি বলেন, “গত কয়েক বছর বাড়ি যাওয়া হয় না ঈদে। প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা হয় না। ছোট থাকতেই ভাল ছিলাম বোধহয়।

“তখন কত আনন্দ ছিলো। সকলের সাথেই তো ঈদ উদযাপন করা যেতো। ঈদে ঢাকা থাকবো ঠিকই কিন্তু মনটা থাকবে বাড়ির দিকে।”

মন্তব্য ০ পঠিত