ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

প্রথমে সরকার এ যারা আসে তাদের ১টি কথা সবার আগে জানা দরকার। আর কথাটি হলো তারা জনগনের নির্বাচিত প্রতিনিধি। অর্থাৎ, জনগন সে প্রতিনিধিকে জনসেবামূলক কাজের জন্য চাকুরীতে নিয়োগ দিল। তারা এখন থেকে জনগনের কি কি চাহিদা, কি প্রয়োজন, কি অসুবিধা, খাদ্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রন করা ও খাদ্যের গুণগতমান নিশ্চিত করা, রপ্তানী বৃদ্ধি করা, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা, জনশক্তি বৃদ্ধি করা, নতুন নতুন কল-কারখানা সংস্থাপন করা ও করতে সহায়তা করা, যোগাযোগ ব্যবস্থা নজরদারি করা ও যোগাযোগে কি অসুবিধা তা সমাধান করা, রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন করা, জনস্বার্থে প্রয়োজনে বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করা, ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থার উন্নয়ন করা, চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রন করা, শিক্ষার মান উন্নয়ন করা, শাসন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা ও কোনো প্রকার মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে কিনা তা যাচাই করা ও তার বিরুদ্ধে শাসি-মূলক ব্যবস্থা নেয়া, কৃষিকাজে বিপ্লব কিভাবে আনা যায় সে ব্যবস্থা করা, কৃষিকাজে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ানোর ব্যবস্থা করা ও তাদের ন্যায্য মূল্য প্রদান করার ব্যবস্থা করা, জনগন বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রন করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা, জনগনের জীবনের মান উন্নয়ন করা ও নিরাপত্তা করা, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও জ্বালানী ব্যবস্থা উন্নয়ন ও বৃদ্ধি করা, দেশের স্বার্থে ও দেশের জনগনের স্বার্থে অভিজ্ঞ ও জ্ঞানী নিতি-নির্ধারক পদে নিয়োগ দান করা, অনভিজ্ঞ অযোগ্য অ-কাজ এর লোককে চাকুরী হতে অব্যাহতি দেয়ার ব্যবস্থা করা, দারিদ্র্য বিমোচন করা, চাঁদাবাজি বন্ধ করা ও তাদের কঠোর হাতে দমন করা, ফুটপাত জনগনের চলাচলের উপযোগী করা ও অবৈধ দোকানপাঠ বন্ধ, অবৈধ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা ও জরিমানা করা, রাস্তা আটকিয়ে জনগনকে বিপদে ফেলে মিটিং মিছিল বন্ধ করা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ও বিচার ব্যবস্থাকে সরকার নিজের কাজে ব্যবহার ও জনগনের কাজে অপব্যবহার প্রচলন বন্ধ করা, সরকার তার চাকুরীতে হটসিটে বসে গা-ছাড়া মনোভাব বন্ধ করা, দেশের ক্যাপিটাল মার্কেটকে সমপ্রসারণ করা যাতে আমার দেশের টাকার মান মার্কিন ডলার ও ইউরোপের ইউরো মুদ্রার মানের সমমান করার ব্যবস্থা করা ও ইত্যাদি। আসলে এরকম আরও অনেক কিছুই আছে যা বলে বা লিখে শেষ করা যাবে না।

এখন কথা হলো আমরা যারা সাধারন চাকুরীজীবি, তারা উক্ত প্রতিষ্ঠানের কোন প্রকার ক্ষতি হলে তার জবাবদিহিতা আছে এবং ভূল করলে তার মাশুল দিতে হয় এমনকি তার চাকুরীও চলে যায়। কিন’ সরকার পদে যারা থাকে তারা যতই ভুল করুক না কেন তাদের চাকুরিচ্যুত তো দূরের কথা তাদের কোন জবাবদিহিতাই থাকে না। সরকার ও সরকারী চাকুরীজীবি ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীরা আমাদের জনগনের টাকায় চলে এবং যা তারা খায় তাও আমাদের টাকা দিয়েই আসে এমনকি যে গাড়িতে চড়ে ও যে সরকারী বাড়িতে থাকে তাও আমাদের জনগনের টাকায়। আমাদের টাকা নিয়ে তাদের বেতন ভাতাদি আসে।
দেশের উন্নয়নের জন্য যা যা করনীয় তাও আমাদের জনগনের টাকা থেকেই আসে, অবশ্য বৈদেশিক ঋন দিয়েও তার কিছুটা আসে কিন’ সেই ঋন পরিশোধ করাটাও আমাদের টাকায়।

যখন একটি প্রাইভেট অফিস দৈনিক তার হিসাবের লেনদেন ও আয়-ব্যয়, মুনাফা বা লোকসান এর হিসাব রাখতে পারে, তবে সরকার ও সরকারী কর্মচারীরা নয় কেন?

যখন একটি প্রাইভেট অফিস তার মাসিক হিসাব রাখতে পারে এবং কোথায় কি লাগবে, কি লাগবে না, কিরকম মান সম্পন্ন জিনিস তার অফিসের ও ফ্যক্টরীর কাজের জন্য প্রয়োজন, কেমন ব্যবস্থাপনা করলে সেই অফিস বা ফ্যাক্টরী মুনাফা অর্জিত করবে তা করতে পারলে সরকার ও সরকারী সচিব, প্রকৌশলীরা পারে না কেন?

আমাদের সবারই জানা, একটি প্রাইভেট অফিস বা ফ্যাক্টরিতে অদক্ষ লোক কখনই থাকে না বা থাকলে তা প্রমান হলে তার চাকুরী আর থাকে না। তেমনি সরকারী কর্মক্ষেত্রে হয় না কেন?

সরকারকে সবসময় একটি কথা মনে রাখতে হবে, সরকার পদে যারা নিয়োগ পায় তারা মাত্র পাঁচ বছরের জন্য। এই পাঁচ বছরেই তাদের দক্ষতা দেখানো ও জনগন কতটুকু সন্তষ্ট তাদের কাজে সেটা প্রমান করা। তাহলেই জনগন সেই সরকারকে পুনরায় বহাল রাখার চিন্তা করবে অর্থাৎ আরও পাঁচ বছর মানে তার চাকুরীতে প্রমোশন।

বাংলাদেশের একজন সাধারন নাগরিক
সৈয়দ রায়হান আলী

সরকারের কারবার।