ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

পুলিশ হচ্ছে যেকোন দেশের জন্য সহযোগীতা মুলক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাদের কাজ হচ্ছে, তারা সমাজে কোন প্রকার অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম, নিপীড়ন, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, অপহরন, হত্যা, লুন্ঠন ইত্যাদি ইত্যাদি কাজের দেখভাল, প্রতিরোধ করা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

অথচ, আমাদের দেশে ঠিক তার উল্টো চিত্র। আমাদের দেশের পুলিশের কাজ হচ্ছে অন্যায়-অত্যাচার করা, নিরীহদের উপর জুলুম-নিপীড়ন করা, চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাই-রাহাজানি করতে সহযোগীতা করা, অপহরন কারীদের চোখের সামনে দেখেও তাদের গ্রেপ্তার না করা, নিশ্চুপ পুলিশের নাকের উপর হত্যা-লুন্ঠন করা, এ যেন এক ভয়াল সেই ৭১’ এর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বহি:প্রকাশ দেখা যাচ্ছে। আমরা সাধারন জনগন তাহলে কার দুয়ারে আমাদের সমস্যার সমাধান ও সাহায্য চাইতে যাব? তাহলে কি আবার একটি যুদ্ধ আমাদের পুলিশের বিরুদ্ধে ঘোষনা করা উচিত নয় কি? পুলিশকে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য মনে করিয়ে দেয়া উচিত নয় কি?

পুলিশ কোন একটি রাষ্ট্রের সরকারের একার নয়। পুলিশ একটি দেশের সমস- জনগোষ্ঠীর। পুলিশে যারা ভর্তি হয়, তারা দেশের জন্য কিছু করার জন্যই ভর্তি হয়। কিন’ পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেয়ার পর পরই তাদের দৃষ্টিশক্তি কেন যেন পাল্টে যায়। তাদেরকে একটি দলীয় কাজের জন্যই ব্যবহৃত করা হয় সবচেয়ে বেশি। পুলিশকে সরকার তাদের নিজেদের গদি বাঁচানোর কাজে ব্যবহার করে, দেশের মানুষদের অন্যান্য অপকর্মের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের কাছে জিম্মি করে রাখে।

আমাদের দেশের পুলিশ বাহিনী এতটাই শক্তিশালী যে, চোখ মেললেই দেখা যায় যখন একটি বিরোধীদলীয় লোকদের দমন-পীড়ন এ ব্যবহৃত করা হয়। এটা আমাদের জন্য অবশ্যই একটি গর্বের বিষয় যে, আমাদের পুলিশও একটি খুবই শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। যদি সেরকম শক্তিশালী বাহিনী আমাদের মত জনসাধারনকে হেফাজত করতে ব্যবহৃত করা হত তাহলে অন্যান্য বাহিনীর (র‌্যাব, বিডিআর, স্পেশাল বাহিনী) আর প্রয়োজন হত না। আসে- আসে- মানুষ তাদের উপর আস’া রাখতে পারত। পুরো দেশের সমস- সিষ্টেমই পাল্টে যেতো। মানুষ দুর্নীতি ও অন্যান্য যেকোন অন্যায় ও অপরাধমুলক কাজ করতে পারতো না বা অনেকাংশেই কম হতো।

সুতরাং, আমরা চাই পুলিশদের শুধুমাত্র জনসাধারনের উপকারের কাজের জন্য ব্যবহার করা হোক।

পুলিশদের একটি কথা মনে রাখা উচিত, তাদের পকেটের সেই মাসিক বেতনের টাকাটি এমনকি থাকা ও খাওয়াও কিন’ আমাদের জনসাধারনের টাকা থেকেই আসে। আমরাই কিন’ আমাদের সাহায্য, হেফাজত ও উপকারের জন্যই সেই টাকাটি দিয়ে থাকি।

আজ পুলিশ সব ভুলে গিয়েছে আর আমাদের জনসাধারনের উপরই তারা জুলুম-অত্যাচার চালাচ্ছে। আজ দেশের যে ভয়াবহ অবস’া ও বিপর্যয় সেটা পুলিশ হয়তো বুঝতে পারছে না। কারন, তারা যে সরকারী কোষাগার থেকে রেসন পায়। তাই তাদের সরকারী কোর্য়াটার থেকে বেরিয়ে এসে পরিবার সহ কোন বাসা বাড়িতে ভাড়া থেকে আর তার বেতনের টাকায় পরিবারের জন্য বাজার করে অন্ত:ত ০১ (এক) মাস চলে দেখুক ও অনুভুতি করুক, আমরা সাধারণ জনগন কিরকম নাভিশ্বাসের মধ্যে দিনাতিপাত করছি, তাহলে তারাও (পুলিশ বাহিনী) আমাদের সাথে কাঁধ মিলিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বলতে বাধ্য হবে যে, সরকার ব্যবস্থা ভুল পথে অগ্রসর হচ্ছে, তাদেরকে ঠেকাও নাহলে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।

পুলিশ কাদের?

আজকের একুশ শতকে এসেও আমাদের তাদের অত্যাচার সহ্য করতে হয়। জ্বালানী তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এর এক বছরে ঘন ঘন দর বৃদ্ধিতে আমরা কেন মুখ খুলবো না। অবশ্যই আমাদের প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। তবে এখানেও কেন পুলিশী হামলা? এটা কখনই কাম্য নয়। এটা কোন রাজনৈতিক ইস্যু ছিল না, তবে কেন এ বর্বরোচীত হামলা, ধর-পাকড়। আমি একজন স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এটাকে ন্যাক্কার জনক ঘটনা বলে নিন্দা প্রকাশ করছি।

আমি কোন সাংবাদিক নই, কোন রাজনীতিবিদও নই- অতিসামান্য একজন দেশের নাগরিক।

বাংলাদেশের একজন সাধারন নাগরিক

সৈয়দ রায়হান আলী