ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

আমার মা কঠিন ব্যক্তিত্বের অধিকারী, কিছুটা জেদীও। অতি সম্প্রতি উনার দেহে অস্ত্রোপচার হয়েছে, উনার পছন্দের ডাক্তারের কাছে। হিসটেরক্টোমি হয়েছে যার সোজা বাংলা হচ্ছে পেটের ভেতর থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ইউটেরাস, ওভারি বের করে নিয়ে আসা। মেয়েদের এই এক সমস্যা। পৃথিবীর সব দেশেই মেয়েদের জীবনের কোন এক পর্যায়ে গিয়ে দেখা যায় কারো ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়, কারো ইউটেরাসে বা ওভারিতে ক্যানসার হয়, কোন কোন মেয়ে দেহে ইউটেরাস, ওভারি নিয়েও বন্ধ্যা হয়, আবার বন্ধ্যা নারী সন্তান জন্ম না দিয়েও এইসব জটিল রোগে আক্রান্ত হয়।

উন্নত বিশ্বে মেয়েদের এই সমস্ত রোগ আগাম নির্নয়ের পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। এ সকল দেশে সরকারীভাবেই নারীদেহের গুরুত্বপূর্ণ অংশ (Vital organ) যেমন ইউটেরাস, ওভারি, সারভিক্স এবং ব্রেস্টের সুস্থতা যাচাইয়ের জন্য নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যবস্থা আছে। তারপরেও এসকল দেশে কী মেয়েরা অসুস্থ হচ্ছেনা? এদেশে কী ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীর সংখ্যা আমাদের দেশের তুলনায় কম? না কম নয়, তবে এখানে আগে থাকতেই জানার উপায় আছে কার জীবন কতটুকু ঝুঁকিপূর্ণ, রোগ সঠিক সময়ে চিহ্নিত হয়, রোগের সুচিকিৎসা হয়, চিকিৎসায় ভুল কম হয়, ভুল হলে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কেইস হয়, ডাক্তার ও হাসপাতালকে মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে হয়। আমাদের দেশেতো এই কৃষ্টি এখনও গড়েই উঠেনি। দেশে মেয়েরা ডাক্তারের কাছে যায়না, অথবা গিয়েও নিজের সমস্যার কথা খুলে বলতে লজ্জা পায়। ডাক্তারদেরও কারো কাছে কোন জবাবদিহিতা করতে হয়না, ফলে লাজুক রোগীনির পেটের কথা পেটেই থেকে যায়, ডাক্তারও পরবর্তী রোগীনি দেখার তাগিদে সামনে বসে থাকা রোগীনির জন্য প্রেসক্রিপশানে প্যারাসিটামল, আর কতগুলি ভিটামিন ওষুধ খস খস করে লিখে পাঁচশ টাকার ভিজিট ড্রয়ারে ঢুকিয়ে দেয়।

শুধু ডাক্তারের দোষ খুঁজে বেড়ালে ব্যাপারটা একপেশে হয়ে যায়। আসল সমস্যা থাকে পরিবারের কাঠামোতেই। প্রায় প্রতিটি মধ্যবিত্ত পরিবারের বাবা-মায়েরা নিজের ব্যাপারে উদাসীন। তারা ছেলে মেয়ের গায়ে একটু উত্তাপ টের পেলেই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান, ডাক্তারের কাছে গিয়ে জ্বরের সমস্যার কথা বলতে গিয়ে প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় নানা উপসর্গের বর্নণা দিয়ে থাকেন। ডাক্তারের নির্দেশমত সমস্ত প্যাথোলজী ঘুরে, এন্টিবায়োটিকের বোঝা নিয়ে ঘরে ঢুকেন। কিনতু নিজের বেলায় পাড়ার দোকানের কম্পাউন্ডার সাহেবের শরণাপন্ন হন। অনেকে আবার সেটুকুও করেনা, নিজে নিজেই ফার্মেসীতে গিয়ে ওষুধ কিনে নিয়ে আসে। আমার অতি পরিচিত একজনের কথা বলি, তার পকেটে ‘নাপা’, ‘এন্টাসিড প্লাস’, ‘ফ্ল্যাজিল’, ‘সিপ্রোসিন’ থাকে। সে নিজেকে ‘মোবাইল ফার্মেসী’ বলে দাবী করে। প্রতি সকালে দুইটা নাপা খেয়ে দিন শুরু করে, মাথা ব্যথা বেশী হলে চার ঘন্টা পরেই আরও দুইটা খেয়ে নেয়। পেটে ব্যথা হলে ফ্ল্যাজিল খায়, বেশী ব্যথা হলে ‘সিপ্রোসিন’ খায়। আমেরিকায় এগারো বছর থাকার ফলে এসব কাহিণী শুনে আমার কেমন যেনো অস্থির অস্থির লাগে। আমি যার কথা বললাম সে কিনতু একজন না দেশে, তার মত ‘নিজে নিজে ডাক্তার’ প্রচুর আছে। এবং এভাবেই সবাই বেঁচেও আছে।

আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম আমার সেই পরিচিত মানুষটিকে, ডাক্তারের কাছে না গিয়ে কেনো এমন করে? তার উত্তরেও যুক্তি ছিল, সাধারণ মাথাব্যথা বা জ্বর নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলেও ডাক্তার একশ একটা টেস্ট করতে পাঠায় উনার পছন্দের প্যাথোলোজীতে, সেই সব প্যাথোলজী ছাড়া অন্য কোন প্যাথোলজী থেকে পরীক্ষা করিয়ে নিলে সেই সকল রিপোর্ট ডাক্তাররা দেখতে চান না। তারপরেও রিপোর্টে যখন দেখা যায় সবই ঠিক আছে, তখন তো সেই প্যারাসিটামলই খেতে দেয়। কাজেই মাথাব্যথার জন্য প্যাথলোজী ঘুরিয়ে তিনদিন পরে সেইতো প্যারাসিটামল বা ফ্ল্যাজিলই খেতে দিবে, অসুখ বেশী হলে এন্টিবায়োটিক দিবে। আর এখন কে না জানে এন্টিবায়োটিক হিসেবে ‘সিপ্রোসিন’ হচ্ছে সবার কাছে প্রিয় একটি নাম। কাজেই নিজে নিজে ডাক্তারী করতে তার খুব একটা অসুবিধা হয়না। ডাক্তারের ভিজিট, প্যাথলোজিক্যাল টেস্টের পয়সাও বেঁচে যায়। সেই পয়সায় অনেক কিছু কাজ করা যায়। তাছাড়া যার কপালে যতদিন আয়ু লেখা আছে সে ঠিক ততদিনই বাঁচবে, ভালো যুক্তি।

আমার মায়ের অপারেশান তিনদিন আগেই হয়েছে। কিনতু অপারেশান হওয়ার আগে অপারেশান কোথায় করাতে পারি, এই নিয়ে আমরা ভাইবোনেরা যখন বিভ্রান্ত ছিলাম, মা নিজেও সেদিন আমাদের কপালে আয়ুর জোরের কথা বলেছিলেন। আমরা চেয়েছিলাম অপারেশান ঢাকার নামকরা হাসপাতালে করাতে, কিনতু আমার মা চেয়েছেন নারায়নগঞ্জেই নিজের পরিচিত ডাক্তারের তত্বাবধানে থেকে করাতে। কিনতু সন্তান হিসেবে আমাদের মনে একটু অস্বস্তি দেখা দেয় নারায়নগঞ্জে অপারেশান করার ব্যাপারে। কারন আমার মায়ের বর্তমান বয়স পঁচাত্তর। এই বয়সে দেহে যে কোন অস্ত্রোপচারেই এক ধরনের শঙ্কা থেকেই যায়। তার উপর হিস্টেরেক্টোমি শুনতে যতই সহজ হোক না কেনো, এই বয়সী মহিলার জন্য অত সহজ নয়। অপারেশান পরবর্তী কত জটিলতা থাকে। সারাদেশে একমাত্র ঢাকায় হাতে গোনা কিছু হাসপাতাল ছাড়া আর কোথাও আধুনিক যন্ত্রপাতি মজুত আছে কিনা সে সম্পর্কেও আমাদের ধারনা নেই। অবশ্য তাই বলে কী আর দেশের কোথাও চিকিৎসা চলছেনা? চিকিৎসা চলছে এ ব্যাপারে দ্বিমত নেই, আমাদের দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও অনেক ভালো ভালো ডাক্তার আছেন, অনেক হৃদয়বান ডাক্তারও আছেন, এখনও অনেক ডাক্তার আছেন যাঁরা গরীব রোগীর কাছ থেকে ভিজিট নেন না। এসব কিছু জানা সত্বেও মন মানেনা বলেই মা’কে ঢাকা নিতে চেয়েছিলাম।

বাবা-মাকে দেখতে এই সামারেই দেশে গেছিলাম। আমার বাবার বয়স পঁচাশি আর মায়ের পঁচাত্তর। সারা জীবন দুজনেই খুব ডিসিপ্লিন্ড ছিলেন বলেই এখনও মোটামুটি সুস্থ আছেন। অবশ্য গত বছর আমার বাবা ব্লাডে সোডিয়াম লেভেল নীচে নেমে যাওয়ায় খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। অবশ্য এখানেও সেই পরিচিত মানুষটির মতই আমার বাবাও ‘নিজে নিজে ডাক্তারী’ করতে গিয়ে ধরা খেয়েছিলেন। পেটের পীড়ায় কম্পাউন্ডারের দেয়া চিকিৎসা চালিয়েছেন, চুরাশি বছর বয়সে কম্পাউন্ডারের চিকিৎসার ধকল সামলে উঠতে পারেননি, ব্লাডে সোডিয়াম লেভেল একেবারে নেমে যাওয়ায় মৃত্যুর কাছাকাছি চলে গেছিলেন। নারায়নগঞ্জের কোন ক্লিনিকেই উনাকে রাখতে চায়নি, ঢাকার নামকরা হাসপাতালে রেখে উনার চিকিৎসা হয়। সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরে অবশ্য হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। নিজের উদাসীন ভুলে এমন বিভ্রাট ঘটায় মনে মনে একটু সঙ্কুচিতও হয়েছেন। আমার বাবাকে তো ঢাকা নেয়া গেছে (অবশ্য বাবা সংজ্ঞাহীন ছিলেন, চেতনায় থাকলে কি করতেন কে জানে), কিনতু আমার মায়ের দাপটের কাছে আমরা কুঁকড়ে গেছি। পঁয়তাল্লিশ বছর শিক্ষকতা করেছেন, দাপট উনার অস্থিমজ্জায় মিশে গেছে মনে হয়।

প্রথমতঃ উনার দেহের সমস্যা উনি আমাদের কারো কাছেই বলেননি। দুই বছর আগেই একবার আমাদের পরিচিত ডাক্তারের কাছে গিয়ে আধা বলেছেন আধা বলেন নি। সেই ডাক্তার আমাকে জানিয়েছিলেন যে আমার মা অসুস্থ, উনার কিছু টেস্ট করানো দরকার। উনি আরও বলেছিলেন যে আমার মা নাকি লজ্জায় কিছুই বলতে পারেনা। আমি আমেরিকায় বসে থেকে মা’কে বলেছিলাম ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে গিয়ে প্রয়োজনীয় টেস্টগুলো করিয়ে ফেলতে। এরপরে উনি টেস্টগুলো করিয়েছিলেন কিনা সেই খবর আর নেওয়া হয়নি। আমার মা খুব কঠিন ব্যক্তিত্বের মানুষ, আমরা ভাই বোনেরা সব সময় তাঁকে সমঝে চলি। যাই হোক, দুই বছর আগে টেস্টগুলো করালে উনার যা সমস্যা, তা সেরে যেতো। কিনতু দুই বছর চিকিৎসা না হওয়ায় উনার ইউটেরাসে কঠিন ইনফেকশান হয়ে গেছে। যেদিন আমি চলে আসবো আমেরিকাতে, তার আগের রাতেই জানতে পেলাম মায়ের এই কঠিন অবস্থার কথা। নারায়নগঞ্জের ডাক্তার উনার ইউটেরাসের টিস্যু বায়োপসী করতে চেয়েছেন। আমি সব শুনে বললাম, বায়োপসী রিপোর্টের উপর যেহেতু পরবর্তী চিকিৎসা নির্ভর করে, বায়োপসীটুকু না হয় ঢাকা ভালো কোন হাসপাতাল থেকে করিয়ে নেই।

অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে পরদিন সকালেই মা’কে ঢাকা নিয়ে এসেছি, সরাসরি হাসপাতালে চলে গেছি। এখানেতো আবার এক ডাক্তারের রিপোর্ট আরেক ডাক্তার পড়েও দেখেনা। ডাক্তারদের এটা একটা মানসিক রোগ বলেই মনে করি। আরে বাবা, দুজনেইতো একই পড়া পড়ে ডাক্তারী পাশ করেছো, তাহলে কেনো এতো বৈরীতা! একজন রুগীকে কত জায়গায় পয়সা খরচ করতে হয়! এক ডাক্তারের রিপোর্ট বাতিল হয়ে আরেক ডাক্তারের নির্দেশে নতুন করে মায়ের প্যাথোলজিক্যাল টেস্ট করানো হয়। এগুলো সারতে সারতে পাঁচ ঘন্টা পার হয়ে যায়, তারপরে ঢাকা থেকে নারায়নগঞ্জ পৌঁছাতে গিয়ে পড়ে যাই সত্যিকারের বিড়ম্বনায়। মহাখালি থেকে গুলিস্তান যেতে সময় লেগেছে তিন ঘন্টা। আলট্রাসনোগ্রাম করার আগে মা’কে প্রচুর পানি পান করানো হয়েছিল, রাস্তায় মা ব্লাডারে প্রচন্ড চাপ টের পায়। ঢাকাতে রাস্তায় মানুষের মাথা মানুষ খায়, ফেরিওয়ালা গিজ গিজ করে, অথচ একটাও পাবলিক টয়লেট দেখিনা। কেনো নেই ঢাকার রাস্তায় পাবলিক টয়লেট? পুরুষেরা আব্রুহীনভাবেই কাজটা রাস্তার ধারে সেরে ফেলে বলে? তাহলে মেয়েদের কী উপায়? তারা কী মানুষ নয়? তাদের কি প্রাকৃতিক প্রয়োজন হতে পারেনা? সেদিন আমার ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল (আমার ভাগ্যইতো বলবো, মা’কে তো আমিই ঢাকা এনেছিলাম), হঠাৎ করেই ঢাকা বারডেম হাসপাতালের কাছে চলে এসেছি। গাড়ী হাসপাতাল চত্বরে নিয়ে গিয়ে মা’কে হাসপাতালের বাথরুমে নিয়ে গেছি।

এই একদিনের ঘটনায় মা বেঁকে বসেছে। সোজাসাপ্টা কথা, ‘হুমায়ুন আহমেদকে তো আমেরিকাতেই নেয়া হয়েছিল, দেবানন্দকেও উন্নত চিকিৎসা দেয়া হয়েছে, তারপরেও কি দুজনের একজনকেও বাঁচানো গেছে”? সত্যিকথাই তো! হুমায়ুনের মৃত্যুর জন্য যতই শাওনকে দায়ী করা হোক না কেনো, আমেরিকান ডাক্তাররাতো আর হুমায়ুনের ক্রেজী পাঠক না, তারা হুমায়ুনের মৃত্যুর জন্য তাঁর চতুর্থ স্টেজ ক্যান্সার এবং অতি দূর্বল লাংসকেই দায়ী করেছেন। পরোক্ষভাবে হুমায়ুন আহমেদ নিজেই দায়ী তাঁর এই অকাল মৃত্যুর জন্য। উনিও বেঁচে থাকতে নিজের প্রতি উদাসীন থেকেছেন। হার্টের পেশেন্ট ছিলেন উনি, অথচ চেইন স্মোক করতেন, অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করতেন। ডায়াবেটিস ছিল, হার্টে সার্জারী হয়েছিল, হার্টের ভাল্ব দূর্বল ছিল, এমন অকেজো দেহ নিয়ে কি ক্যানসারের সাথে যুদ্ধ করা যায়? মাঝখান থেকে শাওনকে দায়ী করা হলো।

এক হুমায়ুন মৃত্যু ঘটনায় আমারও বিরাট শিক্ষা হয়ে গেছে। মায়ের মতের বাইরে যাওয়ার সাহস হয়নি। ঢাকা এনে অপারেশান করাতে গিয়ে যদি কোন বিভ্রাট ঘটে, তাহলে শাওনের মতই বিনাদোষে দায়ী হয়ে থাকবো। তারপরেও মন মানেনা, আবার এখান থেকেই আরেক ডাক্তারকে ফোন করে আমার দুশ্চিন্তার কথা বলতেই উনি আরেক হাসপাতালে অন্য ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট করিয়ে রুগী দেখার ব্যবস্থা করে দিলেন। মা’কে শরীর কেমন আছে জানতে ফোন করেছি, মায়ের উত্তর শুনে ভয়ে কুঁকড়ে গেছি। মা সোজা বলেছেন, “কেমন থাকবো আবার? যেমন রেখে গেছো তেমনই আছি। বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মরতে হবে। এখানেই ডাক্তার আমার চিকিৎসা করছিল, তুমি মাতব্বরী করে ঢাকা নিয়ে গিয়ে আমার চিকিৎসা বন্ধই করে দিলে”।

এমন কথা শুনে আমার দম বন্ধ হওয়ার যোগার। এ যে দেখি হুমায়ুন ভক্তদের মতো করে কথা বলছে! আমি নাকি বিনা চিকিৎসায় মা’কে মেরে ফেলার ব্যবস্থা করেছি! চারদিক থেকে পাঠক, মিডিয়ার চাপে শাওনের মনের অবস্থা কেমন হয়েছিল তা জানার সুযোগ হয়নি, কিনতু আমার মায়ের এই এক কথাতেই আমার মনের অবস্থা খুবই ভেঙ্গে পড়ার মতো হয়েছে। এরপর থেকে আমি একটাই কথা বলে গেছি, মা যেভাবে চাইবে সেভাবেই উনার চিকিৎসা হবে। আমার ভাইয়েরাও এ ব্যাপারে একমত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মায়ের ইচ্ছেতেই নারায়নগঞ্জেই মায়ের অপারেশান হলো। যথাসময়ে মায়ের জ্ঞান ফিরে এসেছে। মায়ের সাথে আবার ফোনে কথা বলতেই মন থেকে পাথর নেমে গেলো। অনেকদিন পরে আমাদের সবার মনেই দারুন আনন্দ। এখন আর মনেই পড়ছেনা মায়ের অপারেশানের পূর্বে টেনশানের দিনগুলোর কথা।