ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

আমি মানুষের মাঝে থাকতেই বেশী ভালোবাসি। মাঝে মাঝে দুই এক ঘন্টার জন্য একা থাকা যায়, কিনতু এরপরে আমার অস্থির লাগতে শুরু করে। আমি বড় হয়েছি লোকালয়ের ভেতর। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের মাঝে থেকেছি মাত্র দেড় বছর, অনার্স ২য় বর্ষেই বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পর শুরু হয় টোনাটুনীর সংসার। টোনাটুনীর সংসার শুরু হতেই একাকীত্ব ব্যাপারটির সাথে পরিচয়। স্বামী অফিসে চলে গেলেই পুরো বাড়ী ফাঁকা, নিস্তব্ধতা আমাকে গ্রাস করতো। ঠিক তখনই আমার গল্পের বই পড়া শুরু। একসময় গল্পের বইয়ের চরিত্র গুলোই আমার বন্ধু হয়ে উঠে। পর্যায়ক্রমে কোলজুড়ে এক দুই করে তিন মেয়ের আবির্ভাবের সাথে সাথে কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায়, একাকীত্ব দূর হয়ে যায়।

আমেরিকা এসে আবার অন্যরকম একা হয়ে পড়ি। গল্পের বইয়ের ভান্ডার শেষ হয়ে যায়, দুই মেয়ে কলেজে চলে যায়, বাকী থাকে শুধু স্বামী আর ছোট মেয়ে। এরাও এদের কাজে চলে গেলে আমি যে কে সেই। আবার একা। একাকীত্ব কাটাতেই ঢুকে গেলাম কাজে। মিসিসিপিতে আমার অর্জিত বিদ্যা কাজে লাগানোর সুযোগ পাইনি। আমি অনার্স মাস্টার্স করেছি কেমিস্ট্রিতে। আমাদের বাড়ীর ধারে কাছে কোথাও কোন ল্যাবরেটরি নেই যেখানে আমি এপ্লাই করতে পারি। তাছাড়া আমি তখন ড্রাইভিং জানতাম না, তাই দূরে কোথাও চাকুরীর সন্ধান করিনি। খুব কাছাকাছি ছিল ওয়ালমার্ট সুপার সেন্টার। সেখানেই চাকুরী চেয়েছি ও পেয়েছি।

ওয়ালমার্ট সুপার সেন্টার হচ্ছে ছোট আরেকটা পৃথিবী, যেখানে আলপিন থেকে শুরু করে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের জন্য অপরিহার্য্য জিনিসের সবই পাওয়া যায়। সাত বছর আগে আমি ওয়ালমার্টে জয়েন করি, ঐ বছর আমাদের ওয়ালমার্ট সুপারসেন্টারে মোবাইল ফোন সার্ভিস ওপেন করা হয়। তিনটি বড় বড় ফোন কোম্পাণির ডিলারশীপ নেয় আমাদের স্টোর। আমেরিকাতে খাবার দাবারের পাশাপাশি মোবাইল ফোন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য্য। সাধারণ মানুষ অক্সিজেন ছাড়া বাঁচেনা, আমেরিকানদের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেনের পাশাপাশি একখানা সেল ফোন দরকার হয়। নাহলে ওদের অর্ধেক অঙ্গহানি ঘটে যাবে। এত বেশী ভীড় থাকে ফোন সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের সামনে, তা আর বলার নয়।

আমি চেয়েছিলাম ওদের অফিসে কাজ করতে। কিনতু তৎকালীন ম্যানেজার জেসী স্মিথ আমাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে ফোন সার্ভিস ডিপার্টমেন্টে নিয়ে আসে। আমি যত বলি যে সাউদার্ণ ইংলিশ আমি বুঝিনা, ততই সে হাসে। সে আমাকে বলে, লোকের কথা বুঝার দরকার নেই, ওরা প্রশ্ন করার আগেই তুমি ওদেরকে সব বুঝিয়ে বলে দিবে, যাতে আর প্রশ্ন করার সুযোগ না পায়। অফিসের কর্তার ইচ্ছেতেই কর্ম চলে, তাই অনিচ্ছাসত্বেও আমাকে ফোন সার্ভিস ডিপার্টমেন্টেই আসতে হয়েছে। আস্তে আস্তে আমি কাজটা এনজয় করতে শুরু করি। কাজটিতে সারাক্ষন কথা বলতে হয়, প্রতি মুহূর্তে গ্রাহকের আনাগোনা চলতেই থাকে। আমার একাকীত্ব দূর হয়ে যায়।

প্রতিদিন নানা বয়সের, নানা বর্ণের , নানা দেশের মানুষ আসে আমাদের কাছে। কাজটা করতে অনেক ধৈর্য্য থাকা দরকার। আমার ধৈর্য্যশক্তি মনে হয় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশী, নাহলে সাত বছর ধরে এই কাজে লেগে থাকতে পারতামনা। প্রমোশনাল পরীক্ষায় পাশ করেও এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজারের পোস্ট নেইনি। ম্যানেজারদের কাজ অনেক ঝামেলার, আমি আমার কাছে আসা শত লোকের মাঝেই আনন্দে থাকি। কত রকমের মানুষের সাথে যে পরিচয় হয়, লিখে রাখতে পারলে বিরাট ভ্যলুমের বই হয়ে যেত।

অনেকেরই ধারনা হয়ে গেছে, আমি খুব হেল্পফুল। বিশেষ করে বয়স্ক গ্রাহক, মেক্সিকান, চায়নিজ গ্রাহকেরা আমার কাছে সাহায্য পেতে চায়। তাদের কথা অন্যেরা মনোযোগ দিয়ে শুনতেও চায়না, বুঝতেও চেষ্টা করেনা। তাই এই ধরনের গ্রাহকেরা ডিপার্টমেন্টে এসেই আমার খোঁজ করে। আমার ছুটি থাকলে প্রয়োজনে ওরা পরের দিন আসে। ব্যাপারটা আমার ভালো লাগে। মানুষের বিশ্বাস অর্জন করার মধ্যে এক ধরনের তৃপ্তি আছে। আমি কাজের ফাঁকে ওদের সাথে গল্প জুড়ে দেই। কত রকমের কাহিণী শুনতে পাই, আমার দারুন লাগে। এদের প্রায় প্রত্যেকে আমার নাম জানে, ওয়ালমার্টে অন্য কাজে আসলেও আমার সাথে দেখা করে যায়। সেদিন এক মেনোনাইট ভদ্রলোক এসে দেখা করে গেল। প্রায় চার পাঁচ মাস আগে তাঁর কাছে আমি আমিশ, মেনোনাইটদের জীবন ধারার গল্প শুনতে চেয়েছিলাম। আরেক কালো বয়স্ক লোক আমাকে দেখে জানতে চাইলো, এতদিন আমি কোথায় ছিলাম? দেশে গেছিলাম শুনে সে বললো যে আমি ছিলামনা বলে কেউ তার প্রিপেইড ফোনে অতিরিক্ত মিনিট যোগ করে দেয়নি। আসলে আমার সাথে যারা কাজ করে, এরা সব ইয়াং ছেলেপেলে, একটু ফিচেল ধরনের। কাজে ফাঁকী দিয়ে আনন্দ পায়। বয়স্ক বা এশিয়ান কেউ আসলেই আঙ্গুল দিয়ে আমাকে দেখিয়ে দেয়।

এভাবেই সাত বছরে অনেকেই আমার কাছে খুব পরিচিত হয়ে গেছে। আমার এই আপনজনেরা প্রায়ই আমাকে কিছু না কিছু গিফট দিতে চায়। আমি কারো কাছ থেকেই কিছু নেইনা বলে, আর কিছু না হোক একখানা চকোলেট, নাহয় তো একখানা কলম দিতে চায়। সেদিন এক বুড়া-বুড়ী এসেছে আমার জন্য একখানা ‘ক্রস’ নিয়ে। নিজেরাই বানিয়েছে। আমি সব ধর্মের প্রতি সবসময়ই শ্রদ্ধাশীল। বিনা বাক্যে ‘ক্রস’ হাতে নিতেই ওদের মুখ হাসিতে ভরে গেল। আমাকে বললো, ” তুমি খুব ভালো। পবিত্র আত্মা তোমার। তুমি আমাদের সব সময় সাহায্য করো বলে আমরা খুব খুশী। ক্রসটা তোমাকে উপহার দিলাম”। আমি ধন্যবাদ জানিয়ে মনে মনে বলি, ” ভালো মানুষ হওয়া কি অত সহজ”? অবশ্য বুড়ো বুড়ীরাই আমাকে উপহার দেয়ার জন্য উতলা হয়ে উঠে, কারন এরা বৃদ্ধ বয়সে পৌঁছে মনে হয় একা হয়ে যায়, তাই আমার মত ভিন দেশীর কাছ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত সাহায্য পেয়ে খুশীতে আটখানা হয়ে যায়।

আজকে দারুন সুন্দরী দুই তরুণী এসেছিল তাদের আগের ফোন ফেরত দিয়ে আরও ভালো ফোন নিতে। দুই তরুণী সম্পর্কে বোন হয়। বড় বোনের সাথে ফুটফুটে দুই বাচ্চাও এসেছে। সাথে আইডি, ফোন চার্জার আনতে ভুলে গেছে। ওগুলো নিয়ে আসতে বললাম, নাহলে কাজটা শুরু করতে পারবো না বুঝতে পেরেই একজন বাইরে গেল এবং আধ ঘন্টা পর ফিরে এলো সব কিছু সাথে নিয়ে। ঐ আধঘন্টা আমি আমার নিজস্ব কাজ করছিলাম, আর ফাঁকে ফাঁকে বাচ্চা দুটোর সাথে মজা করছিলাম। প্রথমদিন বড় বোন তার স্বামী, দুই বাচ্চা নিয়ে এসেছিল। তাদের ফোন কন্ট্র্যাক্ট আমিই করে দিয়েছিলাম। সব কাজ যখন প্রায় শেষের দিকে, বড় বোনটি আমার কাছে একটা কলম চাইতেই আমি তাকে কলম এগিয়ে দিয়ে পেপারস রেডি করছিলাম। পেপারসে যখন মেয়েটির সাইন করা শেষ, তখন মেয়েটি আমার দিকে ছোট্ট একখানা বই এগিয়ে দিয়ে বলল, ” তুমি একজন ভালো মানুষ। এই বইটার পেছনে আমার ফোন নাম্বার লিখে দিলাম। বইটা পড়ে তুমি আমাকে ফোন করো, প্লীজ”। ত্রিশ সেকেন্ডের মধ্যে সবটুকু কথা বলে মেয়েটি সবাইকে নিয়ে চলে গেল।

বইটির উপরের পাতায় লেখা আছে, ” ARE YOU A GOOD PERSON’? ছোট্ট বইটি হাতে নিয়েই বুঝলাম, পবিত্র বাইবেলের কিছু হবে। বইয়ের পাতা উল্টাতেই দেখলাম, লেখা আছে, সকলেই দাবী করে তারা ভালো মানুষ। আসলে সেটা সঠিক নয়। তুমি একজন ভালো মানুষ কিনা তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য বাইবেলের দশটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, সঠিক উত্তর, মিথ্যে বললে হবেনা। সত্যি উত্তর দিয়ে তুমি নিজেই জানতে পারবে তুমি আদৌ ভাল না মন্দ।

আমি অবশ্য জানি যে আমি ভালো নই, তাই প্রশ্ন পড়েও লাভ নেই। তবুও এমন সুন্দরী এক মেয়ে আমাকে ডেকে বলেছে যে আমি খুবই ভালো, আমার পবিত্র আত্মা। এ কথার মর্যাদা দেয়ার জন্যই আমি প্রশ্নগুলো পড়তে শুরু করলাম। সবই সাধারণ প্রশ্ন, সব ধর্মেই যা করা হয়ে থাকে। “তুমি মিথ্যা কথা বল কিনা”, “তুমি চুরি করেছো কি না’, ‘তুমি বাবা মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছ কিনা”, “কারো উন্নতি দেখে ঈর্ষা করো কিনা’ জাতীয় দশখানা প্রশ্ন। একফাঁকে এটাও পড়লাম, মিথ্যে কথা বললে নরকের গনগনে আগুনে ফেলে পোড়ানো হবে মিথ্যেবাদীকে। আমার একটু হাসি পেল। ছোটবেলায় গাজীর পট নিয়ে একজন লোক আসতো। তার সাথে আনা পোস্টারে নরকের নানা ভয়ংকর সব দৃশ্য আঁকা থাকত। যেদিন সেই লোক আসত, দিনের বাকী সময় খুব সাবধানে চলতাম, যেন কোন পাপ কাজ না করে ফেলি। পরেরদিন থেকে যে কে সেই।

আমি ধরেই নিয়েছি দশ প্রশ্নের পরীক্ষায় আমি ফেল করবো। কারন আমি সদা সত্য কথা বলিনা। মাঝে মাঝে মিথ্যে বলি। তবে আমার নিজের জন্য আমি কখনও মিথ্যে বলিনা। এই একটা ভালো দিক আছে আমার মধ্যে। নিজের অপরাধ সব সময় স্বীকার করি, কাউকে বাঁচাতে হলে মিথ্যে বলে দেই।

চুরি? বড় হওয়ার পর আর করিনি। ছোটবেলায় চুরি করে রসগোল্লা খেতে গিয়ে বিষম খেয়ে মরার যোগার হয়েছিল। ছোটখাট চুরি করেছি ছোটবেলায়। মানুষের বাড়ীর গাছ থেকে ফুল চুরি করাও একটা চুরি।

বাবা মায়ের সাথে বেয়াদবী করিনা বললেই কি হয়? গলা উঁচু করে কথা বললেই বাবা মা বলতো, ” বেশী বেয়াদব হয়ে গেছে, আজকাল মুখে মুখে তর্ক করে”।

কারো উন্নতিতে ঈর্ষা করি?? না, মনে হয় ঈর্ষা করিনা। তবে ঈর্ষা না করলেও ‘ইনফেরিয়রিটি কম্পলেক্সে ভুগি। মনটাতে অস্বস্তি হয়, বুঝিনা কিসের জন্য, কার জন্য অস্বস্তি হচ্ছে। পরে খেয়াল হয়, কারো ভালো কিছু শোনার পর থেকে নিজের অক্ষমতার কথা মনে হয়েই এই অশান্তি।

বাকী প্রশ্ন পড়ার প্রয়োজন মনে করিনি। আমি শুরুতেই ফেল। কোনটাতেই পাশ করিনি। মেয়েটাকে ফোন করবো আর দুই দিন পরে। ফোন করে বলবো, তুমি যা ভেবেছো তা ঠিক নয়। আমি ভাল মানুষ নই, আমার আত্মা পবিত্র নয়। আমি পাপী মানুষ, অযথাই লোকে আমাকে দেখলেই ভালো বলে। কোন কারন দেখিনা আমাকে ভাল বলার পিছনে।

আমি জানি মেয়েটি আমাকে বলবে, “তুমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছো, এটাই বা ক’জন পারে? বইটাতে শেষের দিকে কি লেখা ছিল, পড়োনি? ওখানে লেখা ছিল, ঈশ্বরের কাছে অতীতের খারাপ কাজের জন্য তওবা কাটতে। খারাপ কাজের জন্য তওবা কেটে নতুন করে জীবন শুরু করে বাকী জীবন ভালো কাজ করে গেলেই মৃত্যু সহজে গ্রাস করবেনা”।

আমার উত্তরও রেডী থাকবে, “এই সমস্ত উপদেশবাণী ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি। আমরা বিশ্বাস করি, সব ধর্মের মূল বাণী এক, শুধু ধর্ম চর্চ্চার পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকে। সব জেনেও আমরা কিছুই মানিনা। তুমিও জানো, সব ধর্মের মূল বাণী এক, তারপরেও তুমি বলবে তোমার ধর্মই শ্রেষ্ঠ ধর্ম। আমি বলবো আমার ধর্মই শ্রেষ্ঠ ধর্ম। এবার দেখো, সব জেনেও আমরা ধর্ম বিশ্বাস নিয়েই একমত হতে পারিনা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়, কত নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করি, অথচ মনের মধ্যে একবারও প্রশ্ন জাগেনা, কি লাভ এসব হানাহানি করে? কেনো মানতে পারিনা যার যার ধর্ম তার তার কাছে? নিজের মত প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে দূর্বলকে সব সময় আঘাত করে চলেছি।

তবে মেয়েটিকে বলা যাবেনা, আমি এমন এক দেশ থেকে এসেছি যে দেশে প্রতি মুহূর্তে পাপ কাজ হচ্ছে। হত্যা, লুণ্ঠন, চুরি, ডাকাতি, দূর্নীতির মত পাপ হচ্ছে সমাজের সাধারণ স্তরে, আর সমাজের উপরের স্তরে কী যে হচ্ছে, তা আমাদের বুঝার সাধ্য নেই। তুমি যেমন করে বাইবেলের বাণী সংবলিত বই বিলি করে বেড়াও, আমাদের দেশেও রাস্তা ঘাটে, গ্রামে গঞ্জে পাপ-পূণ্যের বর্ণনা দিয়ে ওয়াজ মাহফিল হয়, মন্দির থেকে কাসর ঘন্টার আওয়াজ ভেসে আসে, গির্জা থেকেও ঘন্টা শোনা যায়। তারপরেও আমরা পাপ কাজেই বেশী আনন্দ পাই। দেশের একেবারে উঁচুর দিকে যাঁরা বসে আছেন, তাঁরা মনে হয় উঁচু মাপের অন্যায় করে, আর সাধারণ স্তরের মানুষ সাধারণ অন্যায় করে। কিনতু সর্ব স্তরেই অন্যায়, অকাজ, কুকাজ চলছে। ভালো মানুষও আছে, তবে তাঁদের সংখ্যা অতি নগণ্য। সেই ভালো মানুষেরাও কি মাঝে মাঝে একটু আধটু পাপ করেনা? ঠিকই করে। কাজেই ভাল মানুষ খুঁজতে হলে চালুনি দিয়ে ছেঁকে দেখতে হবে। সেই চালুনির ছিদ্র হতে হবে খুবই সূক্ষ্ম, যাতে দুই একজন মোটামুটি ভাল মানুষ জালে আটকা পড়ে।