ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বার আমেরিকায় যখন সকাল, বাংলাদেশে তখন ১১ তারিখ সন্ধ্যা। আজ থেকে ১১ বছর আগের সেই সন্ধ্যায় আমি ছিলাম রান্নায় ব্যস্ত, আমার স্বামী মাত্রই অফিস থেকে ফিরে টিভিতে সিএনএন খুলে বসেছেন। চা পান করছিলেন এবং সিএনএন এ নিউজ দেখছিলেন। আমাদের তখন আমেরিকা চলে আসা সময়ের ব্যাপার। হঠাৎ করেই তিনি আমার নাম ধরে খুব জোরে জোরে ডাকছিলেন। ড্রয়িং রুম থেকে কিচেনের দুরত্ব খুব বেশী ছিলনা। যাচ্ছি যাই করতে করতেও পনের মিনিট পার হয়ে যেতেই আবার উনার গলার আওয়াজ শুনতে পেলাম। এবার আমার নাম ধরে না ডেকে শুধুই বলছিলেন, “অসম্ভব! অসম্ভব ব্যাপার! এটা হতেই পারেনা”। আমি আর এক মুহূর্ত দেরী না করে চুলার চাবি অফ করে দিয়েই ড্রয়িং রুমের দিকে ছুটে গেলাম। আমার মাথায় তখন ঘুরছে, নিশ্চয়ই ছোট্ট মিথীলার কিছু হয়েছে। ড্রয়িং রুমে ঢুকেই দেখি আমার স্বামীর হাতে টিভি রিমোট কন্ট্রোল, বাটন টিপে শুধু চ্যানেল বদলাচ্ছে আর বলছে, ” অসম্ভব ঘটনা ঘটে গেছে। আমি নিজের চোখে দেখলাম। বিরাট একসিডেন্ট। পর পর দুইটা প্লেন নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারের ভেতরে ঢুকে গেছে। দুই বিল্ডিংয়েই আগুন ধরে গেছে। বুঝা যাচ্ছেনা দুইটা প্লেনই কিভাবে পর পর একসিডেন্ট করলো”।

আমার স্বামীর প্লেন ফোবিয়া এখনও আছে, তখনও ছিল। পৃথিবীর এত দেশ ঘুরেও মানুষটির প্লেন ফোবিয়া কিভাবে হয়, তা আমার জানা নেই। তার ধারনা, বাসে বা গাড়িতে একসিডেন্ট হলে কিছু মানুষ বেঁচে যায়, প্লেন দূর্ঘটনাতে সে সম্ভাবনা একেবারেই নেই। কয়েকদিন পরেই আমাদের আমেরিকা যাত্রা, এর মধ্যে এমন ঘটনা! তার ধারনা হয়েছে, প্লেন দুটোই নিশ্চয়ই টাইমের আগেই একটু নীচে নেমে গেছিল, তাই টাওয়ারে ধাক্কা খেয়ে বিল্ডিংযের ভেতরে ঢুকে গেছে। টিভিতে দেখছিলাম, মানুষজনের ছোটাছুটি, ধোঁয়ায় চারদিক অন্ধকার। আমার রান্না শেষ করার কথা ভুলে গিয়ে টিভি পর্দায় চোখ রেখে বসেছিলাম কিছুক্ষন। ততক্ষনে খবর বের হতে শুরু হয়েছে, একই সময়ে ওয়াশিংটন ডিসিতেও একই ঘটনা ঘটেছে। পেন্টাগন হাউজেও প্লেন হামলা হয়েছে। আমার কাছে সব কিছুই কেমন যেন খেলা খেলা (অবিশ্বাস্য) ব্যাপার মনে হচ্ছিল। মানুষের ভয়ংকরতা বা নিষ্ঠুরতার সাথে দুইবারই পরিচয় হয়েছিল আমার, ১৯৭১ এবং ১৯৭৫ সালে। ‘৭১ এ ভয়ংকরতা বুঝার বয়স ছিলনা, ‘৭৫ এর ১৫ই আগস্ট ছোট হলেও না নৃশংসতা না বুঝার মত বয়স ছিলনা। আর ৯/১১ এর ঘটনা আমি ছাড়াও পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের কাছেও বোধগম্য ছিলনা।

আমেরিকায় ১১ তারিখের সকালটি ছিল আর দশটি সকালের মতই উজ্জ্বল সুন্দর। নিউইয়র্কের আকাশ ছিল ঝকঝকে পরিষ্কার, কর্মব্যস্ত মানুষের পদচারণায় পথঘাট ছিল মুখরিত। ম্যানহাটন নিউইয়র্কের প্রাণকেন্দ্র, সেই ম্যানহাটনের প্রান ভ্রোমরাটি ছিল ওয়ার্লড ট্রেড সেন্টার, যা সারা দুনিয়ায় ‘টুইন টাওয়ার’ হিসেবেই বেশী পরিচিত ছিল। প্রতিদিন নানা পেশার মোট ৫০,০০০ লোক কাজ করত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে, এবং ২০০,০০০ দর্শণার্থীর আসা-যাওয়াও চলতো একই সাথে। এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং, স্ট্যাচু অব লিবার্টির মতই টুইন টাওয়ার ছিল নিউইয়র্কের আইকন।

টুইন টাওয়ারই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং। ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বারের সকালে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আগ মুহূর্তেও মানুষের হাতে সৃষ্ট এই স্থাপণাটি আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে শেষবারের মত মানুষের গৌরব ঘোষনা করেছিল। কত হাজার মানুষের শ্রম, এই স্থাপণা নির্মাণে কত কোটি কোটি ডলার ব্যয়, কী বিশাল বিস্তৃতি, কত হাজার হাজার মানুষের রুটিরুজির কর্মস্থল ‘টুইন টাওয়ার’কে মানুষরূপী একদল হায়েনা যারা ওসামা বিন লাদেনের মতানুসারী ছিল, তারা নিজেদের জীবনের তোয়াক্কা না করেই চলন্ত বোয়িংসহ টুইন টাওয়ারের ভেতরে ঢুকে যায়। তারা নিজেরাও মরে, টুইন টাওয়ারে কর্মরত হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষ মারা যায়, সবশেষে মানুষের পদচারনায় একদা মুখর টুইন টাওয়ারটিও আগুনে জ্বলতে জ্বলতে, আগুনের তাপে গলতে গলতে এর ভেতরে থাকা সকল মানুষকে নিয়েই মাটির সাথে মিশে যায়। ৯/১১ ঠিক একমাস পরেই আমরা চলে এলাম আমেরিকাতে। আগেই সবকিছু ঠিকঠাক হয়েছিল, বাকী ছিল ভিসা পাওয়া। আমেরিকান এমব্যাসীতে ভিসা আনতে গিয়ে দেখেছিলাম, অফিসারদের চোখে কেমন এক কুটিল চাহনি। স্বামীর মুখে আমেরিকার কত জয়গান শুনেছি, কিনতু আমেরিকার মাটিতে পা ফেলার সাথে সাথেই যেন হাহাকার টের পেলাম চারদিকে। এয়ারপোর্টের প্রতিটি স্পটেই টিভিতে দেখাচ্ছিল মানুষের কান্না, আর দুমড়ে মুচড়ে পড়ে যেতে থাকা টুইন টাওয়ারের দৃশ্য। এ যেন এক মহীরূহের পতনের সাথেই তুলনীয়।

সেদিনের এই অভাবিত ঘটনায় সারা পৃথিবীর মানুষ শোকে স্তব্ধ, হতবিহবল হয়ে যায়, কত শত পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায়। কত স্ত্রী বিধবা হয়, কত শিশু পিতৃমাতৃহীণ হয়ে যায়। প্রেমিক হারায় তার প্রেমিকাকে, আমাদের বাংলাদেশের সাতটি পরিবার হারায় তাদের প্রিয় সন্তানটিকে, একই সাথে হারায় উপার্জ্জনক্ষম মানুষটিকে। আর আমরা, সারা পৃথিবীর মানুষ হারাই পারস্পরিক বিশ্বাস, একের প্রতি অপরের শ্রদ্ধাবোধ।শুরু হয় অর্থনৈতিক মন্দা, চাকুরীর বাজারে ধ্বস নামে, আমেরিকার সোনালী দিন হারিয়ে যেতে শুরু করে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশ থেকে মানুষের আমেরিকায় সহজ আগমন জটিল হয়ে যায়। অর্থনৈতিক মন্দা কাটানোর অজুহাতে আমেরিকায় অবৈধ বসবাসকারীদের উপর প্রথমবারের মত সরকারী নজর পড়ে। ধর পাকড় শুরু হয়, অবৈধভাবে বসবাসকারীদের ধরা মাত্রই একেবারে খালি হাতে যার যার নিজের দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেই সকল অসহায় অবৈধভাবে বসবাসকারীদের মধ্যে বাংলাদেশের কত নিরীহ মানুষও ছিল, যাদের কষ্টের উপার্জনে দেশে সংসার চলতো। এক ওসামা বিন লাদেনের বদ খেয়ালের খেসারত দিতে হয়েছে এবং এখনও দিতে হচ্ছে আমেরিকা তথা সারা বিশ্বের নিরীহ জনগনকে।

টুইন টাওয়ারের ছোট্ট ইতিহাসঃ

টুইন টাওয়ার বলতে মুলতঃ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা দুইটি বিল্ডিংকেই বুঝানো হতো। তবে বিল্ডিং দুটি ছিল সাতটি বিল্ডিং কম্পলেক্সের অন্যতম। সেই বিল্ডিং কম্পলেক্সের নাম ছিল ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কম্পলেক্স, যার ল্যান্ডমার্ক ছিল পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা দুইটি টাওয়ার, সারা বিশ্বে যা পরিচিত ছিল ‘টুইন টাওয়ার’ নামে। আমেরিকার নিউইয়র্ক সিটির লোয়ার ম্যানহাটনে অবস্থিত টুইন টাওয়ারটি আকাশের দিকে মাথা তুলে সগর্বে যেন মানুষের সৃষ্টির বিজয় ঘোষণা করতো। টুইন টাওয়ার কম্পলেক্স এর একটি অংশ প্রথম উন্মুক্ত করা হয় ১৯৭৩ সালের ৪ঠা এপ্রিল। এপ্রিল ’৭৩ থেকে সেপ্টেমবার ২০০১, মাত্রই ২৮ বছর বয়স হয়েছিল অনবদ্য এই স্থাপণাটির। যে মানুষের হাতে এই অনবদ্য সৃষ্টি, সেই মানুষরূপী কিছু নিষ্ঠুর প্রতিক্রিয়াশীলের হাতেই তার অপমৃত্যু হয়।

টুইন টাওয়ারের একটি টাওয়ার ছিল উত্তরমুখী, আরেকটি দক্ষিনমুখী, যা পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং হিসেবে পরিচিত ছিল। কম্পলেক্সের বাকী বিল্ডিংগুলো ’৭৫ সাল থেকে ’৮৫ সালের ভেতর সম্পূর্ণ হয়েছিল। ১৯৬০ সালে ১১০ তলা বিশিষ্ট টুইন টাওয়ার এর ডিজাইন করেছিল মিশিগানের মিনরু ইয়ামাসাকি এন্ড এসোসিয়েটস এবং নিউইয়র্কের এমেরি রুথ এন্ড সন্স। মাটি খনন শুরু হয়েছিল ১৯৬৬ সালের ৫ই আগষ্ট। ১৯৭২ সালের ডিসেম্বারে শেষ হয় টুইন টাওয়ারের উত্তর অংশ, ’৭৩ এর জুলাই মাসে শেষ হয় দক্ষিন অংশ। কন্সট্রাকশানে খরচ হয়েছিল ৪০০ মিলিয়ন ডলার যার বর্তমান বাজার মূল্য ২৩০ কোটি আমেরিকান ডলার। নিউইয়র্ক সিটি ডাউনটাউনের হার্ট ছিল এই টুইন টাওয়ার, এর ভেতরকার বিশাল আয়তন আন্দাজ করা যাবেনা। শুধুমাত্র অফিস স্পেস ছিল ১৩.৪ মিলিয়ন স্কোয়ার ফিট, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে কল্পনা করা খুবই দুরূহ ব্যাপার।
রেস্টুরেন্ট ‘উইন্ডোজ অন দ্য ওয়ার্ল্ড’ ছিল উত্তর টাওয়ারের ১০৬ এবং ১০৭ তলায়, ‘টপ অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ নামের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রটি অবস্থিত ছিল দক্ষিন টাওয়ারের ১০৭তম তলায়। ১৯৭৬ সালে তৈরী বিখ্যাত মুভী ‘কিং কং’সহ আরও অনেক ছায়াছবিতে টুইন টাওয়ারের দৃশ্য বেশ কয়েকবার দেখানো হয়েছে।

টুইন টাওয়ারে আক্রমনঃ

২০০১ সালের সর্বশেষ এটাকের আগেও বেশ কয়েকবার এই যমজ স্থাপণাটির উপর হামলা করা হয়েছে।’৭৫ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারী তারিখে এই বিল্ডিং-এ আগুন লাগে। ’৯৩ এর ২৬শে ফেব্রুয়ারী বিল্ডিংটিতে বম্বিং এর ঘটনা ঘটে। রামজে ইউসুফ নামের এক হামলাকারী উত্তর মুখি টাওয়ারের গর্ভস্থলে বোমাটি ফিট করে। বোমা বিস্ফোরিত হওয়ার সাথে সাথে ১০০ ফিট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়, চারদিকে হুলুস্থূল পরে যায়। ছজনের মৃত্যু ঘটে, ৫০,০০০ মানুষ কোন না কোনভাবে আহত হয়। ইউসূফ পাকিস্তানে পালিয়ে যায় এবং ইসলামাবাদে ধরা পড়ে। যেখানে বোমা বিস্ফোরিত হয়েছিল, তার খুবই কাছাকাছি আন্ডারগ্রাউন্ড ভল্টে রক্ষিত ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী গোল্ড ডিপোজিটরিজ, যার মালিকানা ছিল কমার্শিয়াল ব্যাংক গ্রুপের। ’৯৩ সালের বম্বিং এ গোল্ড ডিপোজিটারিজের কোন ক্ষতি না হলেও ৯/১১ এর ধ্বংসযজ্ঞের আগুন থেকে তা আর রক্ষা পায়নি।

’৯৮ সালের ১৪ই জানুয়ারী ট্রেড সেন্টারে ডাকাতি হয়, এবং ২ মিলিয়ন ডলার ডাকাতদল লুট করে নিয়ে যায়। এরপর ১৯৯৮ সালে পোর্ট অথরিটি সিদ্ধান্ত নেয় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারটিকে ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেয়ার এবং ২০০১ সালের জুলাই মাসে ‘সিলভারস্টেইন প্রোপারটিজ’ এর কাছে তা হস্তান্তর করা হয়।

সর্বশেষ আক্রমণঃ

২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বার সকালে সর্বশেষ আক্রমণ হয় পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু স্থাপণা ‘টুইন টাওয়ারের’ উপর। দুনিয়ার সভ্য মানুষ তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছিল, মানুষের নিষ্ঠুর হাতের কালো থাবায় পড়ে মানুষেরই সৃষ্টি কিভাবে গলে গলে পড়েছে। আল-কায়েদা বাহিণীর একটি দল দুইটি বোয়িং ৭৬৭ জেট নিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের ব্যবধানে সোজা ঢুকে যায় দক্ষিন ও উত্তর টাওয়ারের ভেতর। সকাল ৮ঃ৪৬ এ উত্তর টাওয়ার এবং ৯ঃ০৩ টায় দক্ষিন টাওয়ারে আক্রমণ করে। দাউ দাউ আগুনে জ্বলে জ্বলে দক্ষিন টাওয়ারটির ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে মাটির সাথে মিশে যেতে সময় লাগে ৫৬ মিনিট, উত্তর টাওয়ারটিরও একই পরিনতি ঘটতে লেগেছিল ১০২ মিনিট। সরকারী হিসেবমতে আগে ও পরে ২,৭৫৩ জনের মৃত্যু ঘটে টুইন টাওয়ার ধ্বংসের ঘটনায়।
নতুন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারঃ

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কম্পলেক্সের বাকি আধভাঙ্গা স্থাপণাগুলো ডিমোলিশ করে দেয়া হয়। সমস্ত জঞ্জাল পরিষ্কার করতে সময় লেগেছিল আটমাসের মত। মানুষের ধর্মই হচ্ছে আবার ঘুরে দাঁড়ানো। আমেরিকান জাতিও আবার ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করে। ওয়ার্লড ট্রেড সেন্টারের সমাধিস্থলেই আবার নতুন করে তৈরী হতে থাকে নতুন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। প্রথম বিল্ডিংটি তৈরী হয় ধ্বসে যাওয়া ৭ নাম্বার বিল্ডিংটির উপর এবং ওপেন করা হয় ২০০৬ সালের মে মাসে। নতুন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কম্পলেক্স নতুন অবয়বে তৈরী হচ্ছে যেখানে একটি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বিল্ডিং যা ‘ফ্রীডম টাওয়ার’ নামে পরিচিত, ৭ ওয়ার্লড ট্রেড সেন্টার, তিনটি হাই রাইজ অফিস টাওয়ার এবং ‘ন্যাশনাল সেপটেম্বার ১১ মেমোরিয়াল এন্ড মিউজিয়াম’ থাকবে। ৯/১১ মেমোরিয়াল এন্ড মিউজিয়াম ওপেন করা হচ্ছে ২০১২তে, চারটি বিল্ডিং ওপেন হবে ২০১৩ তে এবং কম্পলীট ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কম্পলেক্স ওপেন হবে ২০১৫ তে। এখানেই মানুষের সার্থকতা! মানুষ ভাঙ্গবে তবুও মচকাবেনা। নতুন করে ওয়ার্লড ট্রেড সেন্টার তৈরীর মাধ্যমে মানুষ আরেকবার প্রমান করতে যাচ্ছে, সভ্য মানুষের আনন্দ কর্মে, আনন্দ নব নব সৃষ্টিতে। মানুষের এই নব সৃষ্টির অদম্য স্পৃহা সদা জাগ্রত থাকুক।