ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

সেদিন অফিসে কাজ করছিলাম, আমাদের কাউন্টারের পাশ দিয়েই কেউ একজন হেঁটে যাচ্ছিল। এমন অনেকেই আমাদের কাউন্টারের পাশ দিয়ে যাওয়া আসা করে। মানুষের আসা যাওয়া দেখতে যতই ভালো লাগুক না কেনো, কাজে ব্যস্ত থাকলে আমার পাশ দিয়ে হাতী চলে গেলেও টের পাই না। কিনতু যে মুহূর্তটির কথা বলতে চাচ্ছি, সেই মুহূর্তে আমার পাশ দিয়ে চলে যাওয়া মহিলাটির দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে না তাকিয়ে উপায় ছিল না। কারন মহিলাটি যাওয়ার সময়ই আমার নাকে হঠাৎ করে ‘কান্তা’ সেন্টের গন্ধ এসে ঝাপ্টা মেরেছে। ‘কান্তা’ সেন্ট কোন নামকরা ব্র্যান্ডের পারফিউম না। তাছাড়া এই নামে কোন সেন্ট আদৌ পাওয়া যায় কিনা, সেটাও জানিনা। এই সেন্টের নাম শুনেছি অনেক ছোটবেলায়, মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে। ‘কান্তা’ সেন্টের সৌরভের সাথে আমার শৈশব মিশে আছে। এ গন্ধ আমি ভুলি কি করে! অথচ ‘কান্তা’ সেন্ট নামে কোন পারফিউম বাংলাদেশেই হয়তো পাওয়া যায় না, তো আমেরিকায় ‘কান্তা’ আসবে কোত্থেকে! এটাকেই কি ভীমরতি ধরা বলে?

শৈশবের শুধু কান্তা সেন্টই নয়, শৈশবের আরও অনেক সৌরভ ইদানিং আমাকে আনমনা করে দেয়। আমার এক দাদা’র মেয়ের জন্ম হয় ‘৭০ সালের শেষের দিকে। আমি নিজেই তখন শিশু। ঢাকা গেছিলাম সেই দাদা’র বাড়ীতে বেড়াতে। একটানা সাতদিন ছিলাম। সেই সাতদিনে আমি ‘গ্ল্যাক্সো’ নামের পাউডার মিল্কের সাথে পরিচিত হয়েছি খুব ভালোভাবে। আমার সামনেই বৌদি বাচ্চার জন্য দুধ বানাতেন। আমার জিভ দিয়ে জল গড়াতো, কিনতু লজ্জায় মুখ ফুটে বলতে পারতাম না আমিও দুধটা খেতে চাই। তখনকার সময়ে বাচ্চাদের দুধের বোতল দেখতে ছিল নৌকার মত। কাঁচের বোতলের দুই মুখ ছিল, যার একদিকে টুপীর মত রাবারের ঢাকনা পরানো থাকতো আর অন্য মাথায় থাকতো মূল নিপল, যাকে আমরা বলতাম ‘চুষনি’।

এই নৌকা শেপের বোতল বাকী জীবনে আর কোথাও দেখিনি। বৌদি দুধের কৌটা খুলে যখন প্লাস্টিকের চামচে করে দুধ তুলতো, আমি মাথাটা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দুধের গন্ধ নিতে চেষ্টা করতাম, কী যে মিষ্টি গন্ধ, এভাবেই দুধের গন্ধ মেমরীতে আটকে আছে। আরেকটু বড় হয়ে দেখেছি, অনেকের বাড়ীতেই চায়ের জন্য পাউডার দুধের টিন থাকতো, আমি নাক টেনে গন্ধ নেয়ার চেষ্টা করতাম, সেই মিষ্টি গন্ধ আর কোনদিন পাইনি। এরপর নিজের ঘরেই ‘ডানো’, ‘রেড কাউ’, ‘ডিপ্লোমা’ নামের সবকটি দুধের টিনেই খুঁজে ফিরলাম শৈশবের সেই ‘গ্ল্যাক্সো’ দুধের গন্ধ, পাই নি, কোত্থাও ফিরে পাইনি আমার শৈশবকে। কিছুদিন আগেই আমি এখানে ‘গোলাপজাম’ বানানোর জন্য পাউডার দুধের প্যাকেট কিনে এনেছি। প্যাকেট খুলে দুধ কৌটায় ঢালতে যেতেই এক মুহূর্তের জন্য সেই বিয়াল্লিশ বছর আগের ‘গ্ল্যাক্সো’ দুধের গন্ধ নাকে এসে ঝাপ্টা দিল। মুহূর্তের জন্য, কারন সাথে সাথে আমি দুধের প্যাকেটে নাক এগিয়ে নিতেই আর পেলামনা সেই শৈশবের গন্ধ। এর আগেও আমি অনেকবার এনেছি এই প্যাকে্ট, কোনদিন এমন তো হয় নি। একেই কি ভীমরতি ধরা বলে?

শুধুই কি পাউডার মিল্ক? কনডেন্সড মিল্কের কথাই ধরি না কেনো। খুব ছোট বেলায় আমাদের পাশের বাড়ীতে চা বানাতো কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে। কৌটার গায়ে নাম লেখা ছিল, এখন নাম মনে পড়ছেনা, কিনতু কনডেন্সড মিল্কের স্বাদ এখনও জিভে লেগে আছে। আমি, আমার মেজদা, আর পাশের ঘরের ছেলেমেয়েরা চা বানানোর সময় গিয়ে ঐ বাড়ির ‘কাকীমার’ সামনে হাজির হতাম। হাত পেতে বসে থাকতাম। চায়ের কাপে দুধ ঢালা শেষ হলেই আমাদের মেলে ধরা হাতের তালুতে একটু একটু করে দুধ ঢেলে দিত কাকীমা। হাত চেটে খেতাম, কি অপূর্ব স্বাদ! এখন আমার ঘরে কনডেন্সড মিল্কের কৌটা সারি সারি সাজানো থাকে। মিষ্টি দই বানাতে কাজে লাগে। একদিন চামচে করে একটুখানি দুধ মুখে দিয়ে সাথে সাথে ফেলে দিয়েছি। কিছুতেই মিলেনা, কিছুতেই সেই বেড়া দিয়ে ঘেরা রান্নাঘরে কাকীমাকে ঘিরে বসে যে কনডেন্সড মিল্ক আমরা খেতাম, তার সাথে মিলেনা। ছোটবেলার সবকিছু অন্যরকম, সবকিছু সরল, সবকিছুই মোহময়।

আমার ঘন কালো কোঁকড়া চুলে বাবা অনেক যত্ন করে শ্যাম্পু করিয়ে দিতেন। খুব ছোট্ট বয়সের কথা। চুল শুকিয়ে গেলে ক্রীম মেখে দিতেন চুলে। শ্যাম্পুর গন্ধ মনে পড়ে না। কারন শ্যাম্পু দেয়ার ব্যাপারটা আমার কাছে অসহ্য মনে হতো। মাথা নীচু করে থাকতে হতো বলে ঘাড় ব্যথা করতো, শ্যাম্পুর ফেনা চোখে ঢুকে চোখ জ্বালা করতো। কাজেই এই তিক্ত স্মৃতির গন্ধ মেমরী ধরে রাখেনি। কিনতু ক্রীমটা আমার খুব পছন্দের ছিল। ক্রীম মাখানোর সময় বাবা তাঁর স্নেহ মেখে দিতেন মাথার চুলে। সবাইকে ডেকে ডেকে বলতেন, আমার মেয়ের মাথার চুলগুলো হয়েছে ইন্দিরা গান্ধীর মত। আমার মেয়েকে ইন্দিরা গান্ধী বানাবো। ইদানিং যখন তখন বাবার কথা কানে আসে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুলে চিরুণী চালাতে গেলেই মনে পড়ে যায় বাবার ‘ইন্দিরা গান্ধী’ প্রকল্পের কথা। বাবা তো আর জানেনা, কোঁকড়া চুলগুলো আর আগের মত কোঁকড়া নেই। আধুনিক ফ্যাশানের ‘লেয়ার কাট’ দিয়ে ইন্দিরা গান্ধী মার্কা চুল কবেই হারিয়ে গেছে, শুধু ক্রীম মাখানোর স্মৃতি হারায়নি। ফিরে ফিরে আসে।

চুলের দিকে তাকালেই মায়ের স্মৃতিও আসে। আমি ছিলাম বাবা মায়ের কালো মেয়ে। কালো হওয়াতে মায়ের মনে তেমন কোন আক্ষেপ ছিল কিনা জানিনা, তবে আমার মাথার চুলগুলো নিয়ে মায়ের খুব গর্ব ছিল। মাথার ঘন কালো চুল দেখেও অনেক পাত্রের বাবা মা মুগ্ধ হন। সেই স্বপ্নে বিভোর হয়েই হয়তোবা আমার মা ইন্ডিয়া থেকে ‘জবা কুসুম’ তেল আনাতেন। নিজে হাতে জব জবে করে আমার চুলে তেল মাখিয়ে দিতেন। আমার অসহ্য লাগতো। তেলের এত তীব্র গন্ধ আমি সহ্য করতে পারতাম না, কিনতু চুল সুন্দর রাখার জন্য এটা আমাকে মেনে নিতেই হতো। চুলগুলো শেষ পর্যন্ত সুন্দরই ছিল, অন্তঃত বিয়ের আগে পর্যন্ত। বিয়ের পরে স্বাধীনতা পেয়ে স্টাইল করার জন্য প্রথমেই বেছে নিয়েছিলাম বাজার চলতি ‘হেয়ার কাট’। যদিও আমার স্বামীর মত ছিলনা এভাবে চুলগুলোর সর্বনাশ করতে, কিনতু আমার ইচ্ছেটাকেও তো ফেলে দিতে পারি না। চুল আবার বড় হবে, কিনতু ইচ্ছেটা তো আর বসে থাকবে না। আমার মা এখন মৃত্যুশয্যায়। এতকাল আমার মনে আফসোস আসেনি ঝরে যাওয়া চুলের জন্য, কিনতু ইদানিং আমার চোখ ঠেলে জল আসে, সেদিনের স্মৃতিগুলো মায়ের স্নেহ মমতা হয়ে ঝরে ঝরে পড়ে। ‘জবাকুসুম’ তেলের গন্ধ এখনও আমার স্মৃতিতে ধরা আছে, তবে গন্ধটা এখন আর তীব্র লাগেনা। স্নিগ্ধ সৌরভ নিয়েই আমার চারিপাশ আচ্ছন্ন করে রাখে।

শুধুই কি শৈশব আর কৈশোর! বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের হোস্টেলে রান্না করা খিঁচুড়ির গন্ধও কি নাকে আসেনা! আসে, সেই স্পেশ্যাল খিঁচুড়ির গন্ধ হঠাৎ হঠাৎ করে নাকে এসে ঝাপ্টা মারে! নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের প্রায় প্রত্যেক রুম থেকেই সকালবেলা খিঁচুড়ির গন্ধ বের হতো। আমি আর আমার রুমমেট অরুনা প্রতি সকালে খিঁচুড়ি রান্না করতাম। কি নিয়ে যেনো অরুনার সাথে মনোমালিণ্য হতেই অরুনা চলে গেলো অন্যদলে, আমি চলে গেলাম ফরিদার সাথে। পাশের রুমেই থাকতো ফরিদা (চুয়াডাঙ্গা সরকারী কলেজের কেমিস্ট্রির সহকারী অধ্যাপিকা)। ফরিদা রান্না করতে পছন্দ করতোনা বলে আমরা ‘রাশিদা খালা’ কে ঠিক করেছিলাম সকালের খাবার বানিয়ে দেয়ার জন্য।। খালা প্রতিদিন সকালে ছোট এক হাঁড়ি খিঁচুড়ী রেঁধে এনে দিত। আহা! কী স্বাদ। শুধুই চাল, মুসুরের ডাল, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ দিয়ে রান্না খিঁচুড়ী। অমৃত অমৃত! আমার বিয়ের পরেও আমি সকালে বাসা থেকে হোস্টেলে এসেই খিঁচুড়ী দিয়ে ব্রেকফাস্ট করতাম। আমি এখন অনেক পাকা রাঁধুনী। নতুন নতুন কত রান্নাই যে করি। কিনতু হোস্টেলের সেই সুস্বাদু খিঁচুড়ী আজও রাঁধতে পারলাম না! গত মাসে একদিন হঠাৎ করেই চারদিকে খিঁচুড়ির গন্ধ পাচ্ছিলাম। কোথা থেকে আসবে এই গন্ধ! আমার আশেপাশে তো সব খাঁটি আমেরিকানদের বসবাস। ওরা কেউ দুপুরবেলা নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের রাশিদার খালার স্টাইলে খিঁচুড়ি রাঁধবে না নিশ্চয়ই! তাহলে আমি কেন সেদিন রাশিদা খালার খিঁচুড়ীর গন্ধ পেলাম! একেই কি ভীমরতি ধরা বলে!

এবার ফিরে আসি ‘কান্তা ‘সেন্টের কথায়। মুক্তিযুদ্ধের আগে আমরা থাকতাম শীতলক্ষ্যা নদীর পারে, খানপুর নামে এক ছোট্ট শহরে। আমাদের ঘর থেকেই নদী দেখা যেত। বারান্দায় বসে বসে আমরা দেখতাম নদীতে নৌকা, লঞ্চের অবাধ চলাচল। আমি সবচেয়ে খুশী হতাম যখন নৌকায় মাইক বাজানো হতো। যে নৌকায় মাইক বাজতো, সেই নৌকায় করে নতুন বৌ যেত। ” ঢেউ দিও না ঢেউ দিও না ঢেউ দিও না জলে” গানটি আমি প্রথম শুনি নৌকায় বাজানো মাইক থেকে। এই গানটি যে কোন নতুন বৌ’ এর নৌকায় বাজতোই বাজত। আরেকটি গান ছিল, ” জ্বালাইলে যে জ্বলে আগুন নেভানো বিষম দায়, আগুন জ্বালাইস না আমার গায়”। কতদূর দিয়ে নৌকা যেত, আর আমি বারান্দায় বসেই ‘কান্তা ‘সেন্টের গন্ধ পেতাম। আসলে ঐ সময়টাতে মধ্যবিত্তের সংসারে ‘সেন্ট’ ব্যবহার হতো কিনা জানিনা। আমাদের পরিবারে হতো না, সেটি মনে আছে। তবে কোন বিয়ে বাড়ীতে গেলে, বৌদের শাড়ী থেকে ‘কান্তা সেন্টের গন্ধ আসতো। সেন্টের নাম ‘কান্তা’ জেনেছি সবার মুখে শুনে শুনে। আমার দুই দাদা (কাজিন) বিয়ে করেছিলেন ‘৬৯ সালে। সেই বৌদিদের দেখতাম, বেড়াতে যাওয়ার সময় ‘কান্তা ‘সেন্ট মাখতে। একবার সবাই মিলে ‘ যে আগুনে পুড়ি’ সিনেমা দেখতে গিয়েছিল। দুই বৌদির পরনে ছিল নীল রঙের নেটের শাড়ী, শাড়িতে সেন্ট, ছোট্ট আমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিলাম, আমার ‘গুলশান’ জামাতেও দুই ফোঁটা সেন্ট মাখিয়ে দিয়েছিল বৌদি। সেই গন্ধ নাকে আটকে গেছে। জীবনে কত নামী দামী ফরাসী পারফিউম মাখলাম, কিনতু আমার সেই ‘গুলশান’ জামার থেকে আসা ‘কান্তা’ সেন্টের গন্ধ আর কিছুতেই পেলাম না!

আর কৈশোরের সেই ‘অলি’ সেন্ট! সেটিই কি ভুলতে পেরেছি? আমাদের সাধারন মধ্যবিত্তের সংসারে আমার মেজদা কিভাবে কিভাবে যেনো একটু শৌখিন প্রকৃতির হয়ে গেল! তার সব সময় একখানা সেন্ট চাই ই চাই। আমাদের দিদিমা বছরে একবার কি দুইবার কলকাতা বেড়াতে যেতেন। ফেরার সময় আমার জন্য আনতেন চুলের বাহারী ক্লিপ আর মেজদার জন্য ‘অলি’ সেন্ট। একেবারে রজনীগন্ধা ফুলের গন্ধ। একটুও ভুল বলছি না। কারন এই গন্ধটাও মাথায় আটকে গেছে। তখন ভাই-বোন দুজনেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম। একদিন দুজনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে উঠেছি, মেজদা আমার পেছনের সীটেই বসা ছিল। বাসে ছিল ভিড়। ছাত্রীদের মধ্যে থেকে কেউ একজন বলে উঠেছিল, ” কি রে! এতো ভীড়ের মধ্যে রজনীগন্ধার গন্ধ পাচ্ছি কেনো? কারো হাতেই তো ফুল দেখছিনা”। কথাটা শুনে আমি ঘাড় ফিরিয়ে মেজদার দিকে তাকিয়ে একটা অর্থপূর্ণ হাসি দিতেই মেজদা হাসিতেই প্রতি উত্তর দিল। সেই ‘অলি’ সেন্ট কি আর পাওয়া যায়? জানিনা, কারন এখন তো আর একেবারে সাধারন মধ্যবিত্ত নই আমরা, আমাদের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে, মাঝে মাঝে আমরাও ব্র্যান্ড নেমের জিনিস কিনি। ‘কান্তা বা অলি’ না কিনে ফরাসী পারফিউম কিনি। তবে সত্যি কথা হচ্ছে, দামী পারফিউমের গন্ধ ছাড়িয়ে ‘কান্তা’ আর ‘অলি’ই বার বার ফিরে আসে।

খুব সম্প্রতি এমনি হরেক রকম শৈশব, কৈশোর মাখানো গন্ধ পেতে শুরু করেছি। ২১শে সেপ্টেম্বারও বছরে একবার ফিরে আসে, আয়ুর সঞ্চয় থেকে একটা বছর খসে যায়। পরিনতির দিকে আরেকটি বছর এগিয়ে যাই। শৈশব, কৈশোর পেছন থেকে টানতে শুরু করেছে। বয়স হলেই নাকি ভীমরতি ধরে। আমার কোন অসুবিধা নেই, ভীমরতির মাঝেই যদি শৈশব, কৈশোর, তারুণ্যকে ফিরে ফিরে পাই, ক্ষতি কি! না হয় একটু আধটু ভীমরতি ধরলোই বা!