ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

নাফিস’কে নিয়ে মহাবিপদে পড়েছে বাংলাদেশ নামের বিশ্বে ১১তম সুখী রাষ্ট্রটি। নাফিস এখন ‘নয় মণ দুধে এক ফোঁটা গো-চনা’ তুল্য। আমার মধ্যম কন্যার বয়সী নাফিসকে নিয়ে লিখতে গিয়ে মা হিসেবে বুকে এক ধরনের কষ্ট টের পাচ্ছি। কষ্ট পাচ্ছি নাফিসের জন্য, মেধাবী ছেলেটি তার মেধার সদ্ব্যবহার করতে পারলো না, দেশের উন্নতিতে কোনই অবদান রাখতে পারলো না, বিকশিত হওয়ার আগেই বিমূর্ত কিছু ভাবনা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নিজে ডুবে গেল, বাবা-মা কে ডুবালো, শেষমেষ ১৬ কোটি বাঙ্গালীর সম্মান ডুবিয়ে দিল। দারিদ্র্যকে সহ্য করা যায়, অপমান সহ্য করা যায়না। বাংগালী লবন-পান্তা খেয়েও সুখী ছিল, বিশ্বে সুখী দেশের তালিকায় এগারো নাম্বারে থাকা কি সোজা কথা! সেই সুখের মধ্যে ছাই দিল ‘নাফিস’ নামের কথিত ‘মেধাবী, ধার্মিক’ ছেলেটি। এখন উচ্চশিক্ষার্থে আমেরিকাতে আসা কত কঠিন হয়ে উঠবে!

৯/১১ এর টুইন টাওয়ার বিধ্বংসী ঘটনার পর পর আমেরিকার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ব্যবস্থা খুবই জোরদার করা হয়। ভিসা প্রদানে কড়াকড়ি করা তো হতোই, ভিসা নিয়ে আগত যাত্রীদেরকে নানাভাবে তল্লাশী করা হতো। মনে পড়ে, ঐ সময়টাতে আমাদের দেশের সাধারন কুচুটে কিছু মানুষের পাশাপাশি দেশের অনেক বুদ্ধিজীবিরাও আমেরিকান হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এই পলিসির অনেক সমালোচনা করেছিল। তাঁরা সরাসরিই বলতো, আমেরিকান কাষ্টমস বেছে বেছে ‘মুসলিম নামধারী’ যাত্রীদেরকে হ্যারাস করে। অবশ্য কথাগুলো তাঁরা নিজের দেশের পত্রিকাতেই লিখতো। শুনিনি, কেউ আমেরিকান দূতাবাসে এসে প্রতিবাদ করেছে। তাঁদের মাথায় একবারও আসেনি, প্রতিটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষার কথা রাষ্ট্রের কন্সটিটিউশানে লেখা থাকে। দেশের নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে নিরাপত্তারক্ষীবাহিণী যে কোন পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে হ্যাঁ, মাঝে মাঝে বাড়াবাড়িও করেছে আমেরিকান কাস্টমস। দূর্ভাগ্যক্রমে দুই একজন অভিজাত ব্যক্তি কাস্টমসের সেই বাড়াবাড়ির শিকার হয়েছেন। তবে শুধু মুসলিমদেরকে হ্যারাস করা হতো, এই কথাটির সাথে আমি পুরোপুরি একমত হতে পারিনি। বরং বলা ভাল, যাদের চেহারাতে ভারতীয় অথবা মিডল ইস্টের ছাপ দেখা যেত, অথবা বাদামী চামড়ার কেউ, তাদের প্রতিই যেন কাস্টমসের সন্দেহের তীর ছুঁড়ে দিত।

আমার নিজের কথাই বলি, অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্ট নিয়ে আমরা আমেরিকা এসেছি ২০০১ সালের ১১ই অক্টোবর, ৯/১১ এর ঠিক এক মাস পরে। ৯/১১ এর আগেই আমার স্বামী আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করার সুযোগ পায়। সব কাগজপত্র হাতে এসে পৌঁছানোর পূর্বেই ৯/১১ এর ঘটনা ঘটে যায়। কাগজপত্র নিয়ে আমেরিকান এমবাসীতে ভিসা আনতে যাই অক্টোবারের প্রথম সপ্তাহে। আগেই বলেছি, আমাদের ছিল অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্ট ( বাংলাদেশে ডুয়েল সিটিজেনশীপ এলাউড), আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সত্যায়িত কাগজপত্র সাথে থাকার পরেও ‘ইন্টারভিউ’ নেয়ার অজুহাতে আমাদের জেরবার করে ফেলে। ভিসা অফিসার আমার স্বামীকে ‘অর্গ্যানিক কেমিস্ট্রির’ ভাইবা নিয়ে ফেলে। এরপর যখন ‘নিউ আর্ক’ এয়ারপোর্টে এসে নামলাম, ওরে বাবারে! কী তল্লাশী। আমরা তো নামেও মুসলিম ছিলাম না, অথবা বাংলাদেশী পাসপোর্টেও আসিনি, তারপরেও আমাদেরকে এই প্রসেসের ভেতর দিয়েই আসতে হয়েছে। পরবর্তীতে যতবার দেশে যাওয়া আসা করেছি, আমাকে আলাদা কক্ষে নিয়ে ব্যাগ, জামাকাপড় স্ক্যানার দিয়ে দ্বিতীয়দফা চেক করেছে। আমি এতটুকুও বিচলিত হইনি, কারন যা কিছুই করা হয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্যই করা হয়েছে, নিজের দেশের নিরাপত্তার জন্যই করা হয়েছে। আমি নন- মুসলিম বলেই আমাকে রেহাই দেয়নি। অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্ট থাকলেও চেহারাতে ভারতীয় ছাপ, পাসপোর্টে জন্মস্থান বাংলাদেশ, ব্যস আর কী লাগে! এটা কি কোনভাবেই অস্বীকার করা যাবে, টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পরে ঢাকার রাস্তাতেও ‘লাদেনের’ পক্ষে জয়ধ্বনি করা হয়েছিল! সি আই এ’ বিরুদ্ধে কত বড় বড় লেকচার দেয় একেকজন, মাথায় থাকেনা, সি আই এ এজেন্টরা সব কিছু জায়গা মত রিপোর্ট করে দেয়।

তাছাড়া আমরাও তো কম অবিবেচক নই। টুইন টাওয়ার ধ্বংসে কত শত নিরীহ মানুষের প্রান গেল, কতজনের চাকুরী গেলো, চারটি প্লেনের আরোহীদের জীবন গেলো, তাদের জন্য একবারও শোক প্রকাশ করিনা, অথচ আমেরিকাকে একটা ধাক্কা দিয়েছে বলে লাদেন নামক দৈত্যের জয়গান করি। আমেরিকার বুকে বসে, আমার পরিচিত কতগুলো মানুষ ঘরোয়া আড্ডায় গর্বের সাথে বলেছে, লাদেন ঠিক কাজ করেছে। দেয়ালের যদি কান থাকে, তাহলে এফ বি আই এর এজেন্টদেরও কান আছে। এভাবেই একটু একটু করে দিনে দিনে তাদের কানে পৌঁছেছে আমাদের বন্ধুদের কথা। আর এভাবেই সন্দেহের তালিকায় আমরাও ঢুকে গেছি, শুধু মুসলিম নয়, শুধু ইসলামিক দেশের নাগরিকরাই নয়, আমাদের মত বাদামী চামড়ার মানুষ মাত্রেই পড়ে গেছি সেই দলে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি একটুও অখুশী নই। নিজে সৎ থাকলে কে কি করতে পারবে! প্রবাদ আছে, ‘ নিজে ভাল তো জগত ভাল’। আমি জানি, আমার মনে পাপ নেই, কাজেই কেউ যদি তার নিজের নিরাপত্তার জন্য, দেশের জান-মালের নিরাপত্তার জন্য আমাকে এতটুকুও হুমকীস্বরূপ মনে করে, নিজেকে নির্দোষ প্রমান করতে আমি বরং তাদেরকে সহায়তা করবো।

তবে লাদেনের মৃত্যুর ( অনেকেই স্বীকার করে না, লাদেন মৃত) পর আমরা আরেকবার দেশে গেছিলাম। আমেরিকান কাস্টমস আগের মত কঠোরতা দেখায়নি, সিকিউরিটি চেকিং অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে চলে এসেছিল। জানিনা, এটাও কোন কৌশল ছিল কিনা। যে কৌশলে ‘নাফিস’কে ধরা হলো। নাফিস গ্রেফতারের পর বাংলাদেশের পত্র পত্রিকাতে এখন জোরেশোরে দাবী তোলা হচ্ছে, ‘নাফিস’ কে কেনো প্ররোচিত করা হয়েছে এই ধ্বংসাত্মক কাজে, নাফিসকে নাকি ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে সহ নানা রকম কথাবার্তা। বাংলাদেশের শিক্ষিত শ্রেনীর প্রায় প্রত্যেকে ঘুম থেকে উঠেই ‘ইন্ডিয়া’ কে একটা গালি দেয়, দ্বিতীয় গালি দেয় আমেরিকাকে। তা গালি দিতেই পারে, গালি দেয়ার মত কাজ করে বলেই এই দুই দেশকে গালি দেয়া হয়। কথা হচ্ছে যাকে গালি দিয়ে দিন শুরু করলাম, বেলা বাড়ার সাথে সাথে বর্ডার পার হয়ে ‘ইন্ডিয়াতে চলে গেলাম শপিং করতে, চিকিৎসা করতে, এমন কি চোরাই পথে আসা কোরবাণীর গরু আনতে আর লাদেনের পক্ষে শ্লোগান দিয়েই আমেরিকান এমবাসীতে চলে গেলাম স্টুডেন্ট ভিসা আনতে। ভন্ডামীর একটা সীমা থাকে, বাংলাদেশের শিক্ষিত শ্রেনীর অধিকাংশ মানুষের ভন্ডামী দেখলে স্তব্ধ হয়ে যাই। এগুলো করার সময় তাদের একবারও খেয়াল হয় না, পরিবারের ছোট সদস্যটিও ঘুম ভেঙ্গে উঠে বড়দের মুখনিঃসৃত মধুবাণীগুলো শোনে, খুব ধীরে ধীরে তাদের মগজ ধোলাই হতে থাকে। এভাবেই একেক জন ‘নাফিস’ তৈরী হয়। নাফিসের বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী সকলেই খুব জোর দিয়ে বলছে, নাফিস খুব মেধাবী ছিল, খুবই ধার্মিক ছিল, এর সাথে সাথে মুখ ফসকে আরেকটি কথাও বলছে, নাফিসকে কারো সাথে মিশতে দেখা যেতোনা, নাফিস খেলাধূলা করতোনা, এমন কি নাফিস তার কাজিনদের সাথেও মিশতো না। এই শেষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই বলে দেয় ‘নাফিস মানসিকভাবে সুস্থ ছিল না। আমি সাইকোলজী পড়েছি, সুস্থ মানসিকতার ছেলে মেয়ে এই বয়সে হবে চনমনে, স্মার্ট, খেলাধূলার প্রতি আগ্রহী, হৈ হুল্লোড়, আনন্দ ফূর্তিতে থাকবে প্রানোচ্ছল। এমন নিস্তেজ, ঘরকুনো, চুপচাপ থাকাটা ২১ বছর বয়সী ছেলেকে মানায় না। তাছাড়া এটা তো এখন পরিষ্কার, নাফিস রীতিমত বিষন্নতায় ভুগছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সে তার মেধা পড়ালেখায় ব্যয় করেনি, নাহলে জিপিএ ৫ পাওয়া ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় ফেল করে! যাই হোক, নাফিসের বাবা-মা ভাল বলতে পারবেন, উনাদের এমন ঘরকুনো ছেলে কে কী বুঝে একা একা আমেরিকার মত এমন দেশে ছেড়েছেন। আমি হলে ছেলেকে এভাবে ছাড়তাম না। আহারে! একমাত্র ছেলে আছে মহাবিপদে, বাবা-মা ভয়ে ঘর-ছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়ায়! নাফিসের বাবা-মায়ের জন্য যতটা খারাপ লাগছে, যদি নাফিস সত্যি সত্যি কাজটা করে ফেলতো, তাহলে কত বাবা মায়ের জন্য যে আহাজারী করতে হতো! এই মুহূর্তে একটা প্রার্থণা, নাফিসের বিচার যেন স্বচ্ছ হয়। ইশ! সন্তানের অপকর্মের দায় নিতে হয় অভাগা পিতা-মাতাকে, আর কুনাগরিকের দায় বর্তায় অভাগা রাষ্ট্রের উপর!

যাই হোক, নাফিসের বিষয়টি এখন খুবই স্পর্শকাতর, এই বিষয়ে কোন কথা না বলা ভাল। কিনতু নাফিসের এই গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা কতটা মুষড়ে পড়েছেন। পড়ারই কথা, এতদিন ‘ আমরা সবাই লাদেন হব’ শ্লোগানে ঢাকার রাজপথ প্রকম্পিত হতো, আমেরিকাতে আমাদের গায়ে এর বাতাস লাগতো না, আর এখন খোদ আমেরিকায় ধরা পড়ে গেলো বাংলাদেশের ছেলে, ‘লাদেনের ভাবশিষ্য’ হয়ে! আমাদের বুদ্ধিজীবিরা এখন কি বলবেন? এই ব্লগে, টুইন টাওয়ার এর গাঠনিক এবং নান্দনিক দিক নিয়ে একটি লেখা পোস্ট করেছিলাম, ৯/১১ উপলক্ষে। একেবারেই নির্দোষ সেই লেখাটির উপর এমন সব কমেন্ট এসেছে, একেকবার মনে হয়েছে ঠিক জায়গায় লেখাটি পোস্ট করিনি। কেউ কেউ মন্তব্য করেছে, আমেরিকা প্ল্যান করেই এটা করেছে, সেদিন নাকি কোন ইহুদী মারা পড়ে নি! মানুষ কতটা অমানবিক হলে পরে এমন মন্তব্য করতে পারে! তাহলে আমাদের ঘরে তো এমন তরুন ‘নাফিস; দের জন্ম হবেই। আমেরিকান কাস্টমস এতদিন না হয় ‘মুসলিম’ নাম বেছে বেছে হ্যারাস করতো, এখন কী হবে? এখন তো শুধু আমেরিকা তেই না, বিশ্বের প্রতিটি দেশেই বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীদের হ্যারাস করা হবে! আমরা কিচ্ছু বলতে পারবো না। আমাদের কিচ্ছু বলার মুখও নেই। অলরেডি শুরু হয়ে গেছে হ্যারাসমেন্ট। মাত্র তিন দিন আগের ঘটনা বলি।

হঠাৎ সংবাদে আমি দেশে গিয়েছিলাম ১২ দিনের জন্য। গিয়েছিলাম কাতার এয়ারওয়েজে করে। ফিরেছিও একই এয়ার ওয়েজে। আসলে ৯/১১ এর পর থেকে যতবার দেশে গেছি, আমি সব সময় আরব দেশের ফ্লাইটকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। এমিরেটস, গালফ এয়ার, কাতার এয়ার ওয়েজে করে গিয়েছি। যুক্তি দেখিয়েছি, আমেরিকান বা ইউরোপিয়ান বা ইন্ডিয়ান ফ্লাইটে গেলে প্লেন হাইজ্যাক হওয়ার ভয় থাকে,ঙ্কিনতু এরাবিয়ান ফ্লাইটে সেই ভয় নেই! এটাই নিতান্তই আমার ধারনা। এবার আমেরিকান পাসপোর্ট নিয়ে গিয়েছি। আমেরিকান পাসপোর্ট হাতে নিয়ে চলাফেরায় কিছু বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়, আমিও সেটা পেয়েছি, তবে সেটা ঢাকা যাওয়ার সময়। ফেরার দিন দোহা এয়ারপোর্টের কাস্টমসে গিয়ে দেখি হ য ব র ল অবস্থা। মায়ের মৃত্যু পরবর্তী শোকে মুহ্যমান ছিলাম, আমার সাথে ছিল ভ্যানিটি ব্যাগ এবং মায়ের শাড়ী দিয়ে ভর্তি করা একটি মুখ খোলা হাত ব্যাগ। কাস্টমস অফিসার আমাকে ওখানেই থামিয়ে দিয়ে দুটি ট্রে দিয়েছে এবং আমাকে ভ্যানিটি ব্যাগ এবং মুখ খোলা হাত ব্যাগের জিনিস ট্রেতে ঢেলে দিতে বলেছে। কিছু না বুঝেই সব বের করে দিতে গিয়ে হঠাৎ খেয়াল করলাম, কিছু কিছু হোয়াইট যাত্রীর ব্যাগ না খুলেই স্ক্যানারে দিচ্ছে। আমার পাসপোর্ট আমেরিকান হলেও চেহারা ভারতীয়, পাসপোর্টে জন্মস্থান লেখা আছে, বাংলাদেশ। আমার ভ্যানিটি ব্যাগের ভেতর পাসপোর্ট, ডলার, কিছু দামী জিনিস ছিল বলে বের করতে ইতস্তত করছিলাম, একটু ভেবে না খুলেই ব্যাগ ট্রে তে দিলাম, হাত ব্যাগ থেকে সব বের করে ট্রেতে দিলাম। ঠিক করলাম, অফিসার কিছু বললে চ্যালেঞ্জ করবো আমার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরন করা হচ্ছে বলে। হঠাৎ করেই একটু সন্দেহ জাগলো মনে, তবে কি এর মধ্যে আবার কোন ‘ঘটনা’ ঘটে গেলো নাকি! যাই হোক ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে আর কোন ঝামেলা হয়নি। এটা ঘটেছে দোহা এয়ারপোর্টে, হিউস্টন এয়ারপোর্টে অবশ্য এতটা কড়াকড়ি ছিল না।

বাড়ী ফিরেছি গভীর রাতে, সকালে নেটে বসতেই দেখি নাফিসের ছবি দিয়ে সংবাদ। হি্সেব মিলিয়ে দেখি, কাতার এয়ারপোর্টে অবস্থানকালীন সময়টি ছিল ‘বুধবার’। বুধবারেই নাফিস গ্রেফতারের সংবাদটি প্রচারিত হয়। খবর প্রচারের প্রথম দিনেই আমেরিকান পাসপোর্টধারীর এই অবস্থা, তাও আবার খোদ আরবদেশীয় এক রাষ্ট্রে, তাহলে খোদ আমেরিকায় কড়াকড়ি কতখানি বাড়বে (আমাদের সেটা মেনে নিতেও হচ্ছে ও হবে) প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপর (শুধু মুসলিম না), সেটা ‘নাফিসের প্রতি দরদী’দের বুঝানোর জন্যই আমার নিজের উপর দিয়ে ঘটে যাওয়া অতি তুচ্ছ ঘটনাটুকু বললাম। দেশে এবং বিদেশে অবস্থানকারী একচক্ষুওয়ালা ভাই-বোনদের প্রতি অনুরোধ, এবার আপনারা শান্ত হোন। দেশের ভেতর উস্কানীমূলক শ্লোগান দিয়ে, বিদেশের মাটিতে ঘরে বসে অন্নদাতার শ্রাদ্ধ করে আমাদের আর বিপদের মুখে ঠেলে দিবেন না। আমেরিকা বা অন্য যে কোন দেশ থেকে যদি আমাদের অন্ন উঠে যায়, আমরা কিনতু পঙ্গপালের মত দেশের মাটিতে গিয়ে আছড়ে পড়বো। আমাদের স্থান দিবেন কোথায়?