ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

হালকা ওজনের ফোল্ডিং টেবিলটি ওয়ালমার্ট সুপার সেন্টারের প্রবেশপথের ঠিক মাঝখানে রাখা হয়েছে। হলুদ কাগজে টেবিলটিকে সম্পূর্ণ মুড়িয়ে, তার উপর বসানো হয়েছে দুটি ফটো ফ্রেম, আর একটি ফ্লাওয়ার ভাস। একটি ফ্রেমে ‘ওটিস উইন্টার’ এর হাস্যোজ্জ্বল মুখ, আরেকটিতে গোটা গোটা ইংলিশ হরফে লেখা আছে, ” উই হ্যাভ লস্ট এনআদার এনজেল”। এই লাইনটির নীচে একখানি কবিতা, যার শিরোনাম, ” মিস মি বাট লেট মি গো”। আজ বিকেলের পর থেকে যে বা যারাই আসবে ওয়ালমার্টে, তাদের প্রত্যেকে এক মুহূর্তের জন্য ওখানে থামবে, ভাল করে ওটিসের মুখখানা দেখে মনে করার চেষ্টা করবে, এই ভদ্রলোককে কোন ডিপার্টমেন্টে দেখেছি যেন!

‘ওটিস উইন্টার’ ওয়ালমার্টের গার্ডেন সেন্টারে কাজ করতো। যৌবনে সেনাবাহিনীতে ছিল, সেখান থেকে রিটায়ার করার পর আরও বেশ কিছু জায়গায় হয়তোবা কাজ করেছে, কিনতু গত চার বছর ধরে ওটিস উইন্টারকে আমি ওয়ালমার্টে দেখেছি। আমি চাকুরী করি কানেকশান সেন্টারে, যেখান থেকে তিনটি ফোন কোম্পাণীর ডিলার হিসেবে আমরা গ্রাহক সেবা দিয়ে থাকি। কানেকশান সেন্টার থেকে গার্ডেন সেন্টার অনেক দূর, দেখাই যায় না। তারপরেও ওটিস উইন্টারকে আমি খুব ভালোভাবে চিনতাম। ভদ্রলোকের বয়স ৮০র কাছাকাছি হবে, কিনতু তাকে আমি দেখেছি শরীর সোজা রেখে কাজ করতে। মুখে থাকতো শিশুর মত হাসি। চার বছর আগে ওটিস তার স্ত্রীকে নিয়ে আমার ডিপার্টমেন্টে এসেছিল, প্রিপেইড ফোন কেনার জন্য। সেদিন তার অফ ডে ছিল বলে, ক্যাজুয়াল পোশাকে তাকে দেখে কলিগ হিসেবে চিনতে পারিনি। তবে আমার সহকর্মীরা সকলেই জানে, বয়স্ক লোকদের আমি সাহায্য করতে ভালোবাসি। বয়স্করা এক কথা দশ বার জিজ্ঞেস করলেও আমি দশবারই উত্তর দেই। চেষ্টা করি উত্তরগুলো যত সহজ করে দেয়া যায়। আমার দাদু বেঁচেছিলেন ৯৫ বছর বয়স পর্যন্ত, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দাদু আমাদের সবার কাছে খুবই আদর, ভালোবাসা, সম্মান পেয়েছেন। বয়স্ক একজন মাথার উপর থাকা, এ যে কতবড় আশীর্বাদ! তাছাড়া ঢাকা থাকতে দুই বছর আমি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়িয়েছি, তাও আবার বাচ্চাদের। ফলে বাচ্চা, বুড়োদের বুঝানোর পদ্ধতি আমি খুব ভালো জানি। ফলে ওটিসকে আমি আর দশজন বৃদ্ধ গ্রাহকের মতই সম্মান করে কথা বলছিলাম। ওটিসের প্রতি আমার এমন আন্তরিকতা দেখে স্বামী-স্ত্রী খুব খুশী। তখনই ওটিস আমাকে জিজ্ঞেস করলো,

-তুমি কি ভারতীয়?
-আমি বাংলাদেশের মেয়ে, বাংলাদেশ নাম শোননি? হ্যাঁ হ্যাঁ, ভারতের পাশের দেশ।
-আমার ডাক্তারের নাম ডাঃ বাটাছারিয়া, ফ্রম ক্যালকাটা, দ্য বেস্ট ডক্টর, আই হ্যাভ এভার সীন।
-তাই নাকি? তা তোমার কী হয়েছিল, কেন ডাক্তার বাটাছারিয়া ( ভট্টাচারিয়া)র কাছে যেতে হয়েছে?
-আমার প্রোস্টেট ক্যান্সার ধরা পড়েছে, খুব খারাপ অবস্থায় তার কাছে গেছি। সে খুবই ভাল ডাক্তার, গেলেই অনেক গল্প গুজব করি। আমি আমার মিলিটারী জীবনের গল্প করি, আর বাটাছারিয়া তার জীবনের গল্প বলে। তার চিকিৎসাতেই আমি এখনও বেঁচে আছি। এখনও ওয়ালমার্টে কত কাজ করতে পারি।

-তুমি ওয়ালমার্টে চাকুরী করো? ওহো! এখন তোমাকে চিনতে পারছি, তুমি গার্ডেন সেন্টারে আছো। আজকে অনেক সেজে এসেছো, তাই চিনতে পারিনি বলেই তার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে একটু মুচকী হাসলাম। তার স্ত্রীও দেখি স্বামীর কথায় সায় দিয়ে ডাক্তার ভট্টাচারিয়ার প্রশংসা করলো। তারা এটাও বললো, আমেরিকার বিভিন্ন স্টেটে তাদের সাথে অনেক ভারতীয়ের সাথে পরিচয় হয়েছে, সকলেই নাকি খুব ভাল।

এরপর থেকে স্বামী স্ত্রী রেগুলার আসতো আমার কাছে। মাঝে মাঝে ওটিস অন্য খুচরো জিনিস কিনতে হলেও আমার এখানে চলে আসতো। ওটিস ব্যস্ত থাকলে ওটিসের বুড়ি বৌ নাতণীদের সাথে নিয়ে চলে আসতো। ওটিসের বউকে দেখলে আমাদের গ্রাম বাংলার সহজ সরল বৃদ্ধাদের কথা মনে হয়। গালের চামড়া কুচকে আছে, হাতের চামড়াও কোঁচকানো, চুলগুলো ক্লিপ দিয়ে সুন্দর করে খোঁপা বাঁধা, এক্কেবারে প্যান্ট-শার্ট পরা ঠাকুমা বা দিদিমা।

গত কয়েকমাস ওটিসকে আমি দেখিনি, তাছাড়া গত তিনটি মাস আমার মা’কে নিয়েই বিভোর ছিলাম। মায়ের মৃত্যুর সময় দেশে ছিলাম, দেশ থেকে ফিরে এসেছি ২৫ দিন হলো। এই ২৫ দিন আমি পৃথিবীর সব কিছু থেকে নিজেকে আড়াল করে রেখেছি। কোন আনন্দ আমাকে স্পর্শ করেনা, দুঃখও আমাকে নতুন করে কাঁদায় না। সেদিন ওটিসের বুড়ী বঊ এসেছিল, সাথে ফুটফুটে সুন্দর দুই নাতণীকে নিয়ে। ক্রিসমাস চলে আসছে, উপহার কিনে দিল ওদেরকে, দামী মোবাইল ফোন। বুড়ীমা’কে খুব মলিন দেখাচ্ছিল, অথচ ওটিসের কথা জিজ্ঞেস করা হয় নি। গত পরশুদিন, হঠাৎ করেই ওটিসের কথা মনে পড়ছিল। সেদিন মুখে কাঠি নিয়ে আসা বৃদ্ধকে ( আমার একটা লেখায় এই বৃদ্ধের কথা আছে, আমেরিকার মজনু) দেখে ওটিসের কথা মনে পড়ে যায়। অনেক দিন দেখিনি ওটিসকে, আমাকে কী ভালোবাসে! বুড়ো-বুড়ীর চোখ থেকে স্নেহ যেন উপচে পড়ে। মুখে কাঠিচাপা বৃদ্ধ আমাকে জিজ্ঞেস করলো, ” গত দুই মাস তুমি কেমন ছিলে? কেমন কেটেছে তোমার সময়”? আমি খুব চাপা স্বভাবের মানুষ, কাউকেই বুঝতে দিতে চাই না, বুকের ভেতর কী অসহণীয় ব্যথা নিয়ে ঘুরি। কিনতু কেউ আমাকে ভালোমুখে দুটি কথা বললেই আমার চোখ ফেটে জল আসে। বৃদ্ধের এমন নরম প্রশ্নের উত্তরে বললাম,

-গত দুইমাস আমার দিন খুব ভালো কাটে নি। আমার মা মারা গেলেন, আমি মাত্র ১২ দিনের জন্য দেশে গেছিলাম।
-ওহ! জেসাস! আমি খুব দুঃখিত, তোমার মুখ দেখে কেনো যে আমার বুকটা মুচড়ে উঠলো, তাই জিজ্ঞেস করলাম। চিন্তা করো না, মন খারাপ করো না, মা ভালো জায়গায় আছেন। তুমি নিজের দিকে খেয়াল করো। তোমার মুখের সেই বিখ্যাত হাসি ফিরিয়ে আনো। তোমার মা হেভেন থেকে তোমাকে দেখছেন। মন খারাপ করে থাকলে উনিও মন খারাপ করবেন।

আমি আমেরিকান মজনুর চোখে জল দেখে নিজেকে সামলে নিলাম। বাইরের কারো সামনে আমি ভাঙ্গিনা। যাই হোক, যথারীতি আজ বিকেলের দিকে আমরা কয়েকজন কানেকশান সেন্টারের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছিলাম। হঠাৎ করেই ঘোষণা এলো, ওটিস উইন্টার মারা গেছেন। অরল্যান্ডো নামে এক কলিগ আছে, তার কাছে নির্দেশ এলো, ওয়ালমার্টের প্রবেশ মুখে টেবিল সেট করার জন্য। আমাদের ডিপার্টমেন্টের কাছাকাছি ফটো সেন্টার। সেখানে অর্ডার এলো, ওটিস উইন্টারের ছবি ফ্রেম করে দেয়ার জন্য।

ওয়ালমার্ট সুপার সেন্টারে আছি গত সাত বছর ধরে। কোন এসোসিয়েট মারা গেলে, তার ছবি অত্যন্ত শ্রদ্ধা সহকারে ডিসপ্লে করা হয়ে থাকে। ফিউনারেল হয়ে গেলে ছবি সরিয়ে ফেলা হয়। ওটিস উইন্টারের ছবি আজ বিকেল থেকে ওয়ালমার্টের সামনের প্রবেশদ্বারে রাখার ব্যবস্থা হচ্ছে দেখে, আমি আমার প্রিয় বন্ধু রয়কে বললাম,

-রয়, আমি যদি মারা যাই, আমার সবচেয়ে সুন্দর ছবি এনে ডিসপ্লেতে দিবে। তুমি তো আমার ফেসবুকে আছো, ছবির ব্যাপারে আমি খুব সেনসিটিভ, তুমি তা ভাল করে জানো। মারা যাওয়ার পরেও বাইরের মানুষ যেন আমার ছবির দিকে তাকিয়ে বলে, ‘মিস ব্যাংলাডেশ’ সত্যিই চমৎকার এক মানুষ ছিল। সুন্দর ছবি দিতে বলেছি যেন অনেকদিন আমাকে সবার মনে থাকে। বলেই আমি কাঁদতে শুরু করেছি। আমি তখনও জানিনা, টেবিলে রাখা ফ্রেমে লেখা আছে, ” মিস মি বাট লেট মি গো”! আমার বন্ধুটির মা মারা গেছে জুন মাসে, আমি ছিলাম দেশে। দেশ থেকে এসে যখন শুনলাম, রয়ের মা মারা গেছেন, আমি স্তব্ধ হয়ে গেছিলাম। খুব সম্ভব এপ্রিল বা মে মাসে আমার এক প্রিয় খালাম্মা মারা গেলেন কোলন ক্যান্সারে। খালাম্মা আমাকে খুব ভালোবাসতেন, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে আমাকে ফোন করতেন, আমার সাথে কথা বলে নাকি শান্তি পেতেন। জুলাই মাসে মারা গেলেন হুমায়ুন আহমেদ, ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে। আমার মা মারা গেলেন অক্টোবার মাসে, ক্যান্সারে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় মারা গেলেন, যদিও বলা হয় হার্ট এটাক, উনারও প্রোস্টেট ক্যানসার হয়েছিল। ওটিস মারা গেল নভেম্বার মাসে, ক্যান্সারে। হুমায়ুন আহমেদ ও সুনীল গাঙ্গুলী বাদে বাকী সকলেই আমাকে কী যে ভালোবাসতো! আর আমি ভালোবাসতাম এঁদের প্রত্যেককে।

সন্ধ্যে ছটায় আমি ওয়ালমার্ট থেকে বের হওয়ার সময় দেখলাম, টেবিল সাজানো। একবার মনে হয়েছিল, পেছনে তাকাবো না, ওটিসের ছবির দিকে তাকালে মায়ের কথা মনে পড়বে। ইদানিং আমার একটা সমস্যা হয়েছে, যখন তখন মায়ের যন্ত্রণা কাতর মুখখানা মনে পড়ে, স্থান-কাল জ্ঞান থাকেনা, চোখ ফেটে জল আসে। তবুও তাকাতেই ফ্রেমে বাঁধা কবিতার শিরোনাম চোখে পড়লো সবার আগে, ” মিস মি বাট লেট মি গো”।

ওটিস খুব কষ্ট পাচ্ছিল। এই বৃদ্ধ বয়সে কেমোথেরাপী চলছিল, শুকনো শরীরে হয়ত আর সইতে পারছিল না, তাই হয়ত বা তার বেলায় কথাটি খাটে, কিনতু আমার মা চলে যেতে চেয়েছিলেন কিনা, তা আজ পর্যন্ত বুঝতে পারলাম না। আমি গাড়ী চালিয়ে বাড়ীর মুখে ঢুকতেই সমস্ত শরীর কাঁপিয়ে কান্না এলো। আমার মা কী চেয়েছিল, তাইতো বুঝতে পারলাম না। আমি যখন মা’কে আইসিইউ তে প্রথম দেখি, দারুন সুন্দর মা’কে দেখেই চোখ ফেটে জল আসে। দারুন সুন্দরী মা’কে দেখতে কেমন যেন ভাঙ্গাচোরা লাগছিল। নাকে মুখে হাজারটা নল বসানো, চোখ বন্ধ মা’কে – মা, ওমা বলে ডাকতেই মা এক মুহূর্তে আমার দিকে তাকিয়ে কেঁদে ফেললো। কী অসম্ভব জীবনীশক্তি ছিল আমার মায়ের! শেষ অপারেশান করার আগ মুহূর্তে ডাক্তাররা বলেছিল, অপারেশানের পরে রুগীর জ্ঞান না ফেরার সম্ভাবনা ৯৯ ভাগ। ওটিতে যাওয়ার আগে মা জানতো, পরদিন সকালে আমি এসে পৌঁছাব। ক্যান্সার ছড়িয়ে গেছে সারা দেহে, কিডনী অচল, কোলন থেকে এক মিটার কেটে বাদ দেয়া হয়েছে, ব্লাড প্রেসার নেমে গেছে, পালস রেট লো, লাইফ সেইভিং মেশিনে রাখা হয়েছে, সেই রুগীর জ্ঞান ফিরে এসেছে এবং মেয়েকে দেখা মাত্র তাকিয়ে কাঁদতে শুরু করেছে। আমি কী করে ভুলবো, এই দৃশ্য! আমাকে সকলেই বলে, আমি খুব শক্ত মনের মানুষ। হয়তো সত্যিই তাই, নাহলে ওখানে দাঁড়িয়ে আমি ঠিক থাকলাম কী করে! মায়ের মাথায় হাত বুলিয়ে মিথ্যে কথা বললাম, ” মা, মাগো, তুমি কান্দো কেন? আমি তো আসছি। ডাক্তারের সাথে কথা হইছে, তোমার অপারেশান ভাল হইছে, তোমার জ্ঞান ফিরছে, আর চিন্তা কি? ভাল হইয়া যাইবা”। এই প্রথম মা’কে ‘মা’ মনে হয়নি, মনে হয়েছে আমার’ ‘ মেয়ে’। মেয়ে আমার দিকে করুণ চোখে তাকিয়ে ইশারায় বলেছিল, ‘ ব্যথা’। ইশারার কথা কিছুই বুঝিনি, শুধু মাথায় হাত বুলিয়েছি আর বলেছি, আর চিন্তা নাই, আমি চলে আসছি। আমার মা মাথা কাত করে বুঝিয়েছে, আচ্ছা। তারপরে চোখ বন্ধ করেছে। এভাবে পর পর চার দিন মা আমাদের সাথে কথা বলেছে ইশারায়। শেষ পর্যন্ত ডাক্তারদের কাছ থেকে আর কোন আশার বাণী না শুনতে পেয়ে এবং ডাক্তারের কাছ থেকেই যখন শুনলাম, আমার মা এই অবস্থায় ভয়াবহ কষ্ট পাচ্ছে, আমাদের উচিৎ, তাঁর লাইফ সেইভিং মেশিন খুলে শান্তিতে ঘুমাতে দেয়া, তখন আমাকে আবার কঠিন মুখোশ আঁটতেই হলো মুখে।

আমার চোখে আমি দেখেছি, আমাকে দেখে মা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন, অনেকটাই এমন, এবার আর কোন কষ্ট থাকবেনা, আমার মেয়েই আমাকে সারিয়ে তুলবে। তাই আমাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, লাইফ সেভিং মেশিন খুলে দেয়ার পক্ষে। আমার ভাইয়েরা প্রাণপন চেষ্টা করেছে, যত্ন করেছে মা’কে ভাল করে তোলার জন্য। তাই ভাইদেরকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে দেই নি। আমি তো কঠিন হৃদয়ের মানুষ, তাই স্বেচ্ছায় দায়িত্ব নিয়েছি। মা’কে কাছে গিয়ে বলেছি, ” মা, তোমাকে এইখানে অনেক কষ্ট দিতেছে।নাকে মুখে নল দিয়ে রাখছে, আমাদেরকেও তোমার কাছে থাকতে দেয় না। তার চেয়ে চল, আমরা বাসায় চলে যাই। নারায়নগঞ্জে গিয়ে তোমাকে অন্য ক্লিনিকে রাখবো, আমরা সবাই তোমার কাছে থাকতে পারবো”। মা নিজেও ভাবতে পারেননি, উনি মারা যাচ্ছেন। মাত্র দশ দিন আগেই আমার মেজো মেয়ের সাথে ফোনে গল্প করেছেন, সুস্থ হয়ে মেজো নাতনীর জন্য পাত্র খুঁজবেন, বড় নাতণীর বিয়ে দিয়েছেন দুই মাস আগে, বিয়ের পুরো অনুষ্ঠান হয়েছে তাঁর তত্বাবধানে, এখন মেজোটার জন্য তৈরী হবেন। সেই মানুষ কি কখনও বলতে পারে,

” মিস মি বাট লেট মি গো”!!